Wednesday, April 29, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরমুসলিম সমাজে পরিচ্ছন্ন জীবনবোধ

মুসলিম সমাজে পরিচ্ছন্ন জীবনবোধ

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মুসলিম জীবনধারার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইসলাম মানুষকে পরিচ্ছন্ন থাকার সাধারণ নির্দেশ দিয়েই শেষ করেনি, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ এবং ইবাদতের শর্ত ঘোষণা করেছে। যেন পরিচ্ছন্নতা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

পরিচ্ছন্নতার দার্শনিক ভিত্তি : ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধান ও মুসলিম জীবনধারায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে যে অপরিসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার দার্শনিক ভিত্তি হিসেবে মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিকরা নিম্নোক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন।

তা হলো—‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তাঁর প্রেরিত রাসুলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কোরো এবং ভালো কাজ কোরো। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত। ’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫১; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)
উল্লিখিত হাদিসের দাবি হলো, মুমিনের বিশ্বাস, কথা ও কাজ যা কিছু সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে তার পুরোটাই পবিত্র ও নিষ্কলুষ হবে। তা পবিত্র হবে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত থাকবে।

ঈমান ও ইসলামের অংশ : মানুষ আল্লাহর নির্দেশে যে বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে তাকে ঈমান এবং যে কাজ করে তাকে ইবাদত বলে। আর ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে ঈমান ও ইবাদতের অংশ ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪২২)

অন্যত্র বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছতার ওপর দ্বিনের ভিত্তি স্থাপিত। ’ (মাউসুআতু আতরাফিল হাদিস আন-নাবাবি, পৃষ্ঠা ২৯৪)

মুসলিম সমাজে পরিচ্ছন্নতার চর্চা : যেহেতু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমান ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এর চর্চাও মুসলিম সমাজে ব্যাপক। ইসলামী শিক্ষা ও পারিবারিক অনুশাসনেও পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষত শিশুর প্রতিপালনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি লক্ষ্য রাখার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) বলেন, ‘শিশু যখন কিছুটা বড় হয় এবং কিছুটা বোঝার বয়সে উপনীত হয়, তখন তাকে পাক-পবিত্রতার তালিম দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাকে পেশাব-পায়খানার পর পানির সাহায্যে পবিত্রতা অর্জন করতে, অপবিত্রতা তথা নাপাক বস্তু থেকে বাঁচতে এবং শরীর ও পরিধেয় কাপড়চোপড়কে নাপাক ও অপবিত্রতা থেকে বাঁচাতে বলা হয়ে থাকে। আর এটা পরিষ্কার যে শিশুরা পরিপূর্ণভাবে এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শিশুর পরিবেশ, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও তার পারিবারিক ঐতিহ্য ও পেশারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাই দ্বিনদার ও ধর্মভীরু মা-বাবা এসব বিষয়ে যত্ন নিয়ে থাকে। ’ (ইসলাম, ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতি, পৃষ্ঠা ৯৪)

ভেতর-বাহির পবিত্র করার তাগিদ : বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধিকেও ইসলাম গুরুত্ব দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২২)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহ বাহ্যিক পবিত্রতার পাশাপাশি তাওবার মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ব করেছেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

আল্লাহ সবাইকে পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের তাওফিক দিন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য