عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক একশ’বার পড়বে ’সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- তার গুনাহসমূহ যদি সমুদ্রের ফেনার মতো বেশি হয় তবুও তা মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৬৪০৫, মুসলিম ২৬৯১, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭১৩, ইবনু হিব্বান ৮২৯, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৩১, তিরমিযী ৩৪৬৬, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৪১৭, ইবনু মাজাহ ৩৮১২, আহমাদ ৮০০৯, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৯০।
ব্যাখ্যা: (سُبْحَانَ اللّٰهِ) অর্থাৎ- আমি যথার্থভাবে আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, অর্থাৎ- আমি তাঁকে প্রত্যেক ঘাটতি থেকে পবিত্র সাব্যস্ত করতেছি।
(وَبِحَمْدِه) কারী বলেন, অর্থাৎ- আমি তাঁর প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
(فِىْ يَوْمٍ) ইমাম ত্বীবী বলেন, অর্থাৎ- ব্যাপক সময়ে এতে নির্দিষ্ট কোন সময় জানা যায়নি। সুতরাং এ সময়সমূহ থেকে কোন সময়কে নির্দিষ্ট করা যাবে না।
মাযহার বলেন, শব্দ প্রয়োগের ব্যাপকতা থেকে বাহ্যত অনুভব করা যাচ্ছে, যে ব্যক্তি দিনে এটা একশতবার পাঠ করবে সে উল্লেখিত সাওয়াব পাবে চাই তা একসাথে পাঠ করুক বা আলাদাভাবে বিভিন্ন মাজলিসে পাঠ করুক। অথবা এগুলোর কতক দিনের প্রথমাংশে পাঠ করুক এবং কতক দিনের শেষাংশে পাঠ করুক। তবে উত্তম হল এগুলো দিনের প্রথমাংশে পরস্পরভাবে পাঠ করা।
(خَطَايَاهُ) অর্থাৎ- তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। কারী বলেন, গুনাহ বলতে সগীরাহ্ কাবীরাহ্ সকল গুনাহ সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘আয়নী বলেন, অর্থাৎ- এমন গুনাহ যা আল্লাহর অধিকার সংক্রান্ত কেননা মানুষের অধিকারসমূহ অধিকারীর সন্তুষ্ট ছাড়া মাফ হয় না।
ইমাম বাজী বলেন, এগুলো পাঠকারী ব্যক্তির গুনাহ মোচনের কাফফারা স্বরূপ হয়ে যাবে। যেমন তাঁর বাণী, ‘‘নিশ্চয়ই পুণ্য কাজসমূহ পাপ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয়।’’ (সূরা হূদ ১১ : ১১৪)
(وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ) الزبد বলা হয় ফেনা বা ফেনা জাতীয় পদার্থকে যা প্রবল তরঙ্গের সময় পানির উপর ভেসে উঠে। এর মাধ্যমে আধিক্যতার দিকে ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য। কাযী ‘ইয়ায বলেন, (لا إله إلا الله) সম্পর্কে ৯ম অধ্যায়ের আবূ হুরায়রার হাদীসে ‘‘তার থেকে একশত গুনাহকে মিটিয়ে দেয়া হবে’’ এ উক্তির সাথে ‘‘যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয় তথাপিও তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’’- এ উক্তি (لا إله إلا الله) পাঠের উপর (سبحان الله) পাঠের শ্রেষ্ঠত্বকে জানিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ- যেহেতু সমুদ্রের ফেনার সংখ্যা শত শত গুণ। অথচ (لا إله إلا الله) এর হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি (لا إله إلاالله) এর ‘আমল করবে তার অপেক্ষা উত্তম ‘আমল আর কেউ করতে পারবে না। সুতরাং উভয়ের মাঝে এভাবে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে যে, উল্লেখিত (لا إله إلا الله) পাঠ সর্বোত্তম এবং তাতে পুণ্যসমূহ লিপিবদ্ধকরণ ও গুনাহসমূহ মিটানোর যে অতিরিক্ততা আছে তা, অতঃপর এ সত্ত্বেও দাস মুক্ত করার যে মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার যে কথা বলা হয়েছে তা তাসবীহ পাঠের শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়ার উপর এক অতিরিক্ত অর্জন। কেননা প্রমাণিত আছে, যে ব্যক্তি একটি দাস মুক্ত করবে আল্লাহ ঐ মুক্ত দাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারীর একটি করে অঙ্গ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন। একটি দাস মুক্ত করার কারণে তার থেকে গুনাহ মোচনের বিশেষ সংখ্যা সীমাবদ্ধের পর ব্যাপকভাবে সমস্ত গুনাহ মোচন অর্জন হল। সেই সাথে শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়া, অতিরিক্ত একশত মর্যাদা লাভের সাথে (لا إله إلا الله) পাঠের মাধ্যমে একের অধিক দাস মুক্ত করবে তার কোন গুনাহ থাকতে পারে না।
