সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় বান্দরবানের রুমা উপজেলা থেকে ৭০টি পরিবারের তিন শতাধিক নারী পুরুষ ভারতের মিজোরাম সীমান্তে পাড়ি জমিয়েছে। এদের সবাই পাহাড়ি বম সম্প্রদায়ের লোক। তারা রুমা উপজেলার মায়ানমার ও ভারত সীমান্ত সংলগ্ন রেমাক্রী প্রাংশা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা।
গত শনিবার তারা রুমা থেকে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির রাইক্ষ্যং হয়ে ভারত সীমান্তের মিজোরাম রাজ্যের কানতলী সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সীমান্তের ওপারে অনুপ্রবেশে বিএসএফ তাদের বাধা প্রদান করেছে বলেও জানা গেছে।
রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংশা ইউনিয়নের থিংদলতে, রোমানা পাড়া, চুংসং পাড়া, চাইক্ষয়িাং, থাইক্ষাং পাড়াসহ কেউ ক্রাডং তাজিংডং এলাকার বেশ কয়েকটি পাড়ার ৭০টিরও বেশি পরিবারের নারী-পুরুষ শিশু সীমান্তের দিকে পাড়ি জমিয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে আতঙ্ক উৎকণ্ঠায় তারা মিজোরামের দিকে পাড়ি জমিয়েছে। এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার হয়েছে।
রেমাক্রী প্রাংশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিরা বম জানান, তার ইউনিয়নের ছয়টিরও বেশি পাড়ার ৩ শতাধিক বম সম্প্রদায়ের লোক গত শনিবার থেকে মিজোরাম সীমান্তের দিকে চলে গেছে। এলাকা ছেড়ে ৩১০ জনের চলে যাওয়ার কথা এই জন প্রতিনিধি জানান।
জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম জানিয়েছেন, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে সীমান্ত এলাকায়। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের আতঙ্কে বম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন থেকে পাহাড়ে নতুন গজিয়ে ওঠা সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর সাথে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ দ্বন্দ্বের জের ধরে হুমকির মুখে বম সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় এলাকা ছেড়ে সীমান্তের দিকে পাড়ি জমিয়েছে।
রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান উহ্লাচিং জানান, স্থানীয়দের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
রুমা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবলী নোমান জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার লোকজন বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছে। তবে কি কারণে তারা সীমান্তের দিকে পাড়ি জমিয়েছে এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে স্থানীয়রা এখনো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়নি।
উল্লেখ্য, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সীমান্তে কে এন এফ এর সাথে নতুন উগ্রবাদী সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়ার সম্পৃক্ততার জের ধরে গত একমাসেরও বেশি সময় সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও র্যাবের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উগ্রবাদী ও কেএনএফ এর সদস্য অস্ত্র গোলাবারুদ সরঞ্জামসহ আটক হয়েছে। উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী দলের সদস্যরা পাহাড়ে আত্মগোপন করে রয়েছে এমন খবরে সেখানে অভিযান অব্যাহত আছে।
