Friday, April 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াহে অন্তরের পরিবর্তনকরী আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখো

হে অন্তরের পরিবর্তনকরী আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখো

মিশরের একজন বিখ্যাত আলেম এবং ময়দানের নেতা তিউনেসিয়ায় ২০১২ সালের একটা প্রোগ্রামে ১.০৯ ঘন্টার বক্তব্যের চৌম্বুকিয় অংশ তুলে ধরছি। পড়লে আশা করি চিন্তায় পরিবর্তণ আসবে।

যারা সামনে এগিয়ে গেছে তারা আমাদের জন্য আদর্শ নয় বরং যারা দ্বীনের উপর টিকে আছে তারাই আমাদের আদর্শ। কথাটা খুব ভালো করে বুঝুন, আল্লাহর এই পথ দীর্ঘ। যারা শেষে পৌছে গেছে তারা আদর্শ নয় যারা এই পথের উপর মৃত্যু বরণ করেছেন তারাই আমাদের আদর্শ। রাসুল সা. দোয়া করেছেন, হে অন্তরের পরিবর্তনকরী আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখো।
বর্তমান মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে ইউরোপ-আমেরিকা মুছাম্মা (مسماة) থেকে ইসম (اسم) কে পরিবর্তণ করে দিচ্ছে। হ্যা, এটাই শয়তানের কাজ। আর এই যুদ্ধ চলছে গত ২০০ বছর ধরে। তারা আমাদের বোঝাচ্ছে মুসলমানরা এখন সামরিক পথে হাটলে ক্ষতি হবে। আরবের কাফেরদের কথা চিন্তা করুন। তারা লাত, উজ্জা এবং মানাতের পুজা করতো। রাসুল সা. এসে দাওয়াত দিলে তখন তারা বললো আমরা তো আল্লাহর ইবাদতই করি। এই দেখো লাত হলো আল্লাহ, উজ্জা হলো ইজ্জা আর মানাত হলো মান্নান এগুলো সবই আল্লাহর গুনবাচক নাম। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, এই নামগুলো তোমরা এবং তোমার পিতৃবর্গ দিয়েছে। (সুরা নাজম-২৩)। আর আজকের এই মুখরোচক নামগুলো তোমরা এবং তোমাদের মিডিয়ারাই দিয়েছো।

আমাদের ভাইদের দিকে তাকালে দেখবেন, তারা জুব্বা গায়ে, মুখে দাড়ি, নারীদের হিজাব, কপালে সিজদার চিহ্ন। কিন্তু তাদের মাথার চিন্তা চেতনা ইউরোপ-আমেরিকার। তারা আ*ফ#গা-নি@স্তাঃনে/র মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে। আমরা মনে করছি আমরা অনেক ভালো আছি। আমরা ইসলামী আন্দোলন করছি। অথচ তারা আমাদের মগজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা লড়াই করছি, মৃত্যু বরণ করছি। লোকেরা আমাদের শহীদ বলছে, আমরা আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছি। অথচ আমার মগজে আছে ইউরোপ-আমেরিকা।

তারা হালাল জিনিসে হারাম নাম এবং হারাম জিনিসে হালাল নাম দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপন করছে। আর বলছে তুমি ইসলামকে জিবনে বাস্তবায়ন করতে চাও? তুমি পশ্চাদগামী। অগ্রবর্তী হতে হবে। ইসলামকে পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করতে হবে। জঙ্গিবাদী চিন্তাকে দুরে রেখে আসতে হবে। এভাবে তারা আমাদের জঙ্গী নামে নিরস্ত্র করেছে। তারা মদের নাম দিয়েছে কোমল ও সুস্বাদু পানীয়। তারা সুদকে বলে মুনাফা, তারা নারীদের উলঙ্গপনাকে বলছে শরীর চর্চা, নারীরা দৌড়াচ্ছে, সাতার কাটছে। তাদের সতর খুলে যাচ্ছে। ক্যামেরা সেগুলো রেকর্ড করছে। পরে তা প্রকাশ করছে। আমরা কিছু বললেই বলে, আপনারা শুধুই ফতোয়া দেন!! সাতার কাটতে তো রাসুলই বলেছে। আপনারা সাতার কেন হারাম বলেন? বুঝুন বোন আমার! সাতার কাটা হারাম বলছি না। ঐ উলঙ্গ হওয়াকে হারাম বলছি। তারা আমাদের পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করতে চায়। তারা এটার নাম দিয়েছে تطهير العرقية জাতি পরিত্রকরণ। তারা এটা ফিলিস্তিনে ইহুদীদের এনে করেছে। অথচ মুশরিকরা নিজেরাই অপবিত্র। তারা আমাদের পবিত্র করবে কিভাবে?? তারা সালামের বিপরীতে বলে সবাহুল খায়ের। আর এটাকে বলছে, শিক্ষার উন্নয়ন। তারা ইজরায়েলের সন্ত্রাস বাহীনিকে বলছে প্রতিরক্ষার সৈনিক! আর তারা আমাদের এসে বলছে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের কতটা দুর্ভাগ্য!! আজ আমরা তাদের কাছে ইসলাম শিখতে যাচ্ছি। তারা নাম দিয়েছে রাষ্টীয় আইন। আইন আবার রাষ্ট্রীয় হয় না কি?? আইন তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। তারা একাধিক বিয়েকে বলছে খেয়ানতকারী । অথচ আল্লাহ বলছেন, খেয়ানতকারী তো তারা যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে খেয়ানত করে। তারা শেখাচ্ছেন, তোমার পরিচয় কি?? বলো, আমি মিশরী, আমি উর্দুনী, আমি ইরাকী। অথচ আল্লাহ বলেন, তোমাদের নাম মুসলিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 5 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য