Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানারীবাদকে ভাগাড়ে ফেলে দিন! সংসার আর মাতৃত্বেই আছে তৃপ্তি।

নারীবাদকে ভাগাড়ে ফেলে দিন! সংসার আর মাতৃত্বেই আছে তৃপ্তি।

আমি একজন ট্র্যাডিশনাল গৃহিণী হতে পেরে সন্তুষ্ট৷

একজন হোমমেকার হতে পেরে আমি খুশি। পরিবারের নেতা আমার স্বামীকে সাপোর্ট করার ভূমিকা আমার। ঘরে থাকা মা হিসেবে আমার কাঁধে থাকে অনেক দায়িত্ব৷ আলহামদুলিল্লাহ আমার ৫ সন্তানকে হোমস্কুলিং এর দায়িত্ব আমার৷ এরপর নতুন করে আর কোনো দায়িত্ব আমি চাইনা৷

নিজের নারীত্বকে কাজে লাগাতে পেরে আমি পরিপূর্ণতা পাই, আমার মনে শান্তি কাজ করে আলহামদুলিল্লাহ। কাজেই, আমার কোনো ইচ্ছাই নেই নিজের ফিতরাহ (অন্তর্নিহিত সহজাত বৈশিষ্ট্য) এর বিরুদ্ধে গিয়ে পুরুষালী ধাঁচে নিজেকে সাজানোর। আমার কোনো ইচ্ছা নেই আমার হাজবেন্ডের সাথে প্রতিযোগিতা করার, তার থেকে স্বাধীন হওয়ার৷

ভরণপোষণ, আবেগ অনুভূতি, শারীরিক প্রয়োজনসহ সবদিক দিয়ে আমার হাজবেন্ডের উপর নির্ভর করতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু খুব অদ্ভুত ব্যাপার হলো আমার এই অবস্থা বর্তমান দুনিয়ার অনেকের কাছেই খুব অনিরাপদ ও অনিশ্চিত লাগে, অনেকে এটাকে গাধামি মনে করে৷

“পুরুষের উপর এভাবে নির্ভরশীল হয়ে কেন আপনি নিজেকে এমন দুর্বল অবস্থানে রাখছেন?”

“কেন আপনি ঘরের বাইরে গিয়ে একটা চাকরী করে নিজে ইনকাম করছেন না? কেন আপনার স্বামী থেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন হচ্ছেন না? বলা যায় না, যদি…..”

এরপর শুরু হয়, এই “যদি”র খেলাঃ

” যদি আপনার স্বামী আপনাকে ছেড়ে চলে যায়?”

“যদি আপনার স্বামী আপনাকে ঠকায়?”

“যদি সে আপনাকে অত্যাচার করে?”

“যদি সে দ্বিতীয় বিয়ে করে?”

“যদি সে মারা যায় আর আপনি ৫ টা বাচ্চা নিয়ে বিধবা, ঘরহারা হয়ে যান?”

“যদি তাকে আপনার আর ভাল না লাগে? এভাবে যদি দিন দিন আপনারা দূরে সরে যান? তাহলে তো আপনাকে ভালবাসাহীন একটা সম্পর্কে আটকে থাকতে হবে!”

মাফ চাই! ভয়ংকর এই সম্ভাবনাগুলোর ভয় জাগানিয়া নেগেটিভ কথাবার্তা দিয়ে আমি আমার জীবন চালাতে চাইনা৷ হতাশা থেকে উদ্ভুত কোনো সিদ্ধান্ত মানতে আমি নারাজ। সূক্ষ্মভাবে তৈরী করে দেয়া উদ্বেগ আর ভয়ের উপর নির্ভর করে আমি আমার জীবনের পছন্দ-অপছন্দ ঠিক করতে চাইনা।

এই সব ভয় মিথ্যা। এই ভয় আধুনিক সেক্যুলার সমাজের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট বুলি যা তারা জোর করে নারীদের মনে ঢুকিয়ে দেয়৷ চীনে যেমনে ব্র্যান্ডের ভুয়া ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ বানায়, তেমনি করে সেক্যুলাংগাররা তাদের ভুয়া ফাঁপা বুলি ছড়ায়।

আসলে সত্যিটা হলো, সংসার জীবনে সবসময়ই কিছু ঝুঁকি ছিল। সেটা যেমন নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সংসার জীবনে একটা নির্দিষ্ট লেভেলের অনিশ্চয়তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে সংসারে স্বামী স্ত্রী যদি এসব “যদি” প্রশ্নের চাপে নিজেদের হারিয়ে ফেলতো, তাহলে কেউ ঠিক করে সংসার করার চেষ্টাটাও করতে পারতো না।

কিন্তু কেন যেন আমরা এটা ভুলে যাই যে, সংসারে যেমন ঝুঁকি থাকে, তেমনি অন্যসব কিছুতেই তো ঝুঁকি থাকে! !

“যদি স্কুলে পড়ে আপনার ঈমান ভেঙে যায়, আপনি নাস্তিক হয়ে যান?”

“বছরের পর বছর ডিগ্রীর পেছনে ছুটেও যদি আপনি চাকরী না পান?”

“যদি নিজের কর্মক্ষেত্র আপনার অপছন্দ হয়?”

“যদি আপনার অফিসের ম্যানেজার একজন আত্নকেন্দ্রীক, নাক উঁচু, অত্যাচারী হয়?”

“নিজের শ্রম, মেধা, সময় সবকিছু চাকরীতে দেয়ার পর কী হবে যদি কোনো কারণ ছাড়া একদিন আপনাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেয়? এরপর আপনার জায়গায় যদি আরো কম বয়সী, বুদ্ধিমান বা শক্ত সামর্থ কাউকে নিয়ে আসে?”

“বছরের পর বছর কোম্পানির প্রতি অনুগত থেকে নিজে কষ্ট করে, শ্রম দিয়ে কোম্পানির জন্য লাখ লাখ টাকা মুনাফা অর্জনের পথ খুলে দিয়ে, যদি দেখেন একদিন আপনাকে ওদের আর দরকারই নাই? যদি এমন হয় আপনার হাতে এখন আর সেই উপযুক্ত সময়ও নাই যে আপনি বিয়ে করে সংসার করবেন, বাচ্চা জন্ম দিবেন? যদি আপনি একদম একা হয়ে যান?”

“যদি আপনি একজন অবসরপ্রাপ্ত নি:সংগ কর্মজীবী মহিলা হন? মৃত্যুর সময় কাউকে ছাড়া একা যদি মারা যান?”

আসলে ভাই, এমন “যদি”র খেলা তো সারাদিন চাইলে খেলা যাবে!

শুধুমাত্র আল্লহ জানেন অদৃশ্যের খবর৷ আগামীকাল কী ঘটতে যাবে এই নিয়ে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। আগামীকাল আসবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ ভবিষ্যতে কোন সিদ্ধান্ত কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে তা আমাদের জানা নেই৷

وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ۚ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۚ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ

[realms of the] “আর তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের কুঞ্জি। [of] তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। [as well,] স্থলে ও জলে যা-কিছু আছে, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত। (কোনও গাছের) এমন কোনও পাতা ঝরে না, যে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন। মাটির অন্ধকারে কোনও [single] শস্যদানা [hidden] অথবা [the veils of] আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনও জিনিস নেই [therein] যা এক উন্মুক্ত কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।” [recorded] (সূরা আন’আম: [preserved in Heaven]. ৫৯)

إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلْمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۭ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًۭا ۖ وَمَا تَدْرِى نَفْسٌۢ بِأَىِّ أَرْضٍۢ تَمُوتُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌۢ

[alone] [when] [of Judgment shall come] “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন [alone] [alone] [everything about] এবং জরায়ূতে যা আছে, তা তিনি জানেন। [its destiny as to] আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন্ স্থানে সে মারা যাবে।[its destiny as to] নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান: ৩৪)

কাজেই, আমরা যা করতে পারি তা হলোঃ নারী হিসেবে আমাদের নারীসুলভ ফিতরাতের অনুসরণ করে স্বামীর সাথে বন্ধন দৃঢ় করে পরিবার গঠন করা৷ যখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, তখন আমাদের কাজ হবে আল্লহর উপর তাওয়াক্কুল করে নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাওয়া, পুঙখানুপুঙখভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

এই দুনিয়াতে ঝুঁকি এড়িয়ে চলা অসম্ভব৷ আমাদের এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে।

উচ্চ ডিগ্রী নিয়ে ঝুঁকি এড়ানো যায়না।

সফল চাকরিজীবনে থেকেও ঝুঁকি এড়ানো যায় না।

ধন সম্পদের মালিক হয়েও ঝুঁকি এড়ানো যায় না।

জীবনে ঝুঁকি থাকবেই। হ্যাঁ, বিয়ে শাদী করে স্বামীর উপর নির্ভর করাতেও কিছু ঝুঁকি আছে৷ তেমনি একগাদা ডিগ্রী, নামি-দামি ক্যারিয়ারেও ঝুঁকি আছে।

যাইহোক, এই আধুনিক লিবারেল নারীবাদী বিশ্ব আমাদের এমনভাবে মগজ ধোলাই করেছে যে আমরা কিছু ঝুঁকিকে ভয় পাচ্ছি, পাত্তা দিচ্ছি, আবার, কিছু ঝুঁকিকে যেন চোখেই দেখছিনা৷ আমাদের মধ্যে সাংঘাতিক রকমের ব্লাইন্ড স্পট তৈরী হয়েছে।

এমনভাবে আমাদের মগজ ধোলাই করেছে যে আমরা শুধু বিয়ে করে সংসারী হয়ে স্বামী সন্তানের যত্ন নেয়ার ঝুঁকির দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে বসে আছি। অথচ, আমরা বেশিরভাগ নারীই আমাদের মনের গহীনে সংসারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে থাকি। একদম ছোট থাকতে আমরা এর স্বপ্ন দেখে আসি।

আবার একইসাথে আমাদের এমনভাবে মগজ ধোলাই করেছে যে বছরের পর বছর সেক্যুলার লিবারেল শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিগ্রীর জন্য পড়ে থাকায় আমরা কোনো ঝুঁকিই দেখিনা। জীবনের মোক্ষম সময়গুলো চাকরির পেছনে এমনভাবে দিয়ে যাই অথচ অফিসের বসের কাছে আমরা শুধুই কাজ করানোর লোক মাত্র৷ এ থেকে আমরা হয়তো নিরাপত্তার একটা মিথ্যা আশ্বাস পাই কিন্তু দিনশেষে আমাদের সাথে থাকে আক্ষেপ আর দুর্দশা।

মগজ ধোলাই এর এই প্রক্রিয়াটা অনেক দীর্ঘ, সূক্ষ্ম এবং চতুর৷ এটা নির্ভর করে নারীদের মাঝে বানোয়াট কথা বিক্রি করে ভয় জাগানোতে। এটা পুরুষের জন্য নারীর মনে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, বিয়ে ও সংসার নিয়ে সন্দেহের জন্ম দেয় আর মাতৃত্ব নিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেয়৷

এই ভয়কে জয় করার একমাত্র উত্তম উপায় হলো ভয় শুধুমাত্র আল্লহকে করা। আল্লহর উপর, আল্লহর নির্ধারিত বিধানের উপর তাওয়াক্কুল করা৷

وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا

[Have We not] [as males and females] “আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।” (সূরা নাবা: ৮)

এই আয়াতের তাফসীরে ইবন কাসীর বলেন:

يعني : ذكرا وأنثى ، يستمتع كل منهما بالآخر ، ويحصل التناسل بذلك.

“অর্থাৎ তোমরা নিজেদেরই প্রতি লক্ষ্য কর যে, আমি তোমাদেরকে নর ও নারীর মাধ্যমে সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা একে অপর হতে কামবাসনা পূর্ণ করতে পার। আর এভাবেই তোমাদের বংশ বৃদ্ধি হয়ে থাকে।”

কি চমৎকার এবং সরল একটা ভাবনা! আমাদের একে অন্যের সংগ উপভোগ করার কথা! চিন্তা করেন, আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে মনের কথা খুলে বলা, তাকে বিশ্বাস করা, তার সাথে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা এবং তার সংগে আনন্দ পাওয়া! এখানে ভয় নেই, অবিশ্বাস নেই, সন্দেহ নেই! শুধুই নিজেদের উপভোগ করা, আনন্দের স্বাদ নেয়া!

কাজেই, আল্লহর উপর আস্থা রাখুন৷ আল্লহর বিধানে আস্থা রাখুন। আল্লহ আমাদের যেই ফিতরাহ দিয়ে তৈরি করেছেন তাতে আস্থা রাখুন। নিজেকে সুযোগ দিন স্বামীর উপর আস্থা রাখার। তার সংগ, তার আদর যত্ন উপভোগ করুন। নিজেকে নিবেদিত হওয়ার সুযোগ দিন সংসারে, মাতৃত্বে৷ এভাবে জীবনের উদ্দেশ্য জেনে আপনি আপনজনদের মাঝে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার সুখের স্বাদ পাবেন৷

আপনাকে নিজের সহজাত বৈশিষ্ট্যর বাইরে গিয়ে ঠেলে কাজ করানোর সুযোগ অন্যদের দেবেন না৷ নিজের স্বাভাবিক সুখ শান্তির উৎস থেকে দূরে সরে যাবেন না। বিশেষত যখন তারা আপনাকে জোর করে এমন জায়গায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে যা আপনাকে না সুখ দেবে, না আপনাকে কোনো ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − ten =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য