Friday, April 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসুদান থেকে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে কী করা হচ্ছে?

সুদান থেকে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে কী করা হচ্ছে?

সুদানে সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানে আটকা পড়েছে দেড় হাজারের বেশি বাংলাদেশী।

তারা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড যুদ্ধের মধ্যে তারা নানা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। খাবারের সঙ্কট রয়েছে, পানি নেই। হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সঙ্কটেও পড়েছেন।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, সুদান থেকে কিভাবে বাংলাদেশীদের নিরাপদে দেশে নিয়ে আসা যায়, সেজন্য তারা কাজ করছেন।

এদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ শ’র বেশি বাংলাদেশী ফেরত আসার জন্য নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। কিন্তু কবে নাগাদ তারা দেশে আসতে পারবেন, ওই নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।

এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ থেকে সুদানে লড়াই শুরু হয় সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এর মধ্যেই তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

গত ১৫ এপ্রিল সুদানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত চার শ’ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে জাতিসঙ্ঘ কর্মীও রয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভয়-আতঙ্কে খার্তুমে শতাধিক বাংলাদেশী
সাত বছর আগে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ থেকে সুদানে গিয়েছেন মোঃ রাসেল মিয়া। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনিসহ আরো কয়েকজন খার্তুমের এক শহরতলীতে একটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

মোঃ রাসেল মিয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘প্রথম দিকে ভেবেছিলাম, কয়েক দিন পরেই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে, তাই দেশে যাওয়ার কথা ভাবিনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি দেশে ফিরে যেতে চাই। বাড়ির লোকজন প্রতিদিন কান্নাকাটি করছে, আমরাও সবাই ভয়ে আছি।‘

তিনি জানান, তাদের ফ্ল্যাটে সাত দিনের মতো খাবার রয়েছে। এরপর কী হবে জানা নেই, কারণ দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে আছে।

দেশটির বেশিরভাগ হাসপাতাল বন্ধ। পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। আটকে পড়া লোকজনের বাড়িতেও খাবারের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। একারণে দেশটিতে মানবিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘প্রতিদিন গোলাগুলির আওয়াজ আসছে। দুইদিন আগে আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনেই একটা গোলা পড়েছে। বাইরে বের হলেই আধা-সামরিক বাহিনীর তল্লাশি করে। আমরা সবাই খুব ভয়ের মধ্যে আছি,’ তিনি বলছেন।

সেখানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই খুব বেড়ে গেছে বলে বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন। সড়কে বের হয়ে সামরিক বাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী- উভয় পক্ষই টাকা পয়সা, মোবাইল বা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে পুলিশি ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে আর কিছুই নেই বলে বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন।

সুদানে সব মিলিয়ে ১৫০০ থেকে ১৮০০ বাংলাদেশী রয়েছে বলে জানা গেছে। এদের বেশিরভাগই চাকরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করে।

বাংলাদেশী কমিউনিটি সুদানের সভাপতি সুলতান দানেশ আলী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, হঠাৎ করে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় আমাদের কাছে কোনো অর্থ নেই।

তিনি বলছেন, যুদ্ধের কারণে ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে তাদের হাতেও টাকাপয়সা নেই।

তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে অনেকে দেশে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় কেউ টাকাও তুলতে পারছে না। ফলে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকলেও আর্থিক সঙ্কটে অনেক বাংলাদেশী পরিবার শহর ছাড়ার ব্যবস্থা করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা চলতে থাকায় কিভাবে বাংলাদেশীরা শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন, সেটাও তারা বুঝতে পারছেন না।

সুলতান দানেশ আলী বলছেন, দুই পক্ষের মধ্যে যে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি হয়েছে, সেটা শেষ হবে বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশের সময় রাত ৯টা)। কেউ শহর ছাড়তে চাইলে এই সময়ের মধ্যেই ছাড়তে হবে।

বিবিসি বাংলার সাথে যখন তিনি কথা বলছিলেন, সেই সময় আরো কয়েকটি পরিবারের সাথে তিনিও শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি জানান, আরো অনেক বাংলাদেশী ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা এই সময়ের মধ্যে খার্তুম ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তার নিজের এবং আরো অনেক পরিবারের সাথে শিশু সন্তানও রয়েছে।

তারা আপাতত সুদান ছাড়তে না পারলেও খার্তুম ছেড়ে নিরাপদ কোনো স্থানে চলে যেতে চান।

বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নিতে কী করা হচ্ছে
সুদানের খার্তুমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবন হামলার শিকার হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা সুদান ছেড়ে সীমান্তবর্তী মাদানি শহরে চলে গেছেন। ফলে এই মুহূর্তে কার্যত খার্তুমের দূতাবাসে কেউ নেই।

গত ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ দূতাবাসের জানালা ও দেয়াল ভেদ করে গুলি ঢোকে।

বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের মাধ্যমে সেখানে থাকা বাংলাদেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

যারা বাংলাদেশে চলে যেতে চান, তাদের জন্য একটি ফর্ম দেয়া হয়েছে। সেটা বিতরণ ও সংগ্রহ করে দূতাবাসের কর্মীদের কাছে পাঠাচ্ছে স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা।

এর মধ্যেই সাড়ে পাঁচ শ’র মতো বাংলাদেশী এই ফর্ম পূরণ করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

তবে তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়াসহ অন্য অনেক দেশের নাগরিকদের এর মধ্যেই সরিয়ে নেয়া হলেও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সেরকম উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশী নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া আরো দ্রুত করার জন্য তারা দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশী কমিউনিটি সুদানের সভাপতি সুলতান দানেশ আলী বলছেন, ‘অন্যসব দেশের যে নাগরিকরা আমাদের এখানে ছিল, ১৮ ও ১৯ তারিখে তাদের বেশিরভাগই নিজেদের দেশে চলে গেছে। কিন্তু এখনো আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটির একজন লোকও দেশে যেতে পারেনি।’

বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যরা অভিযোগ করছেন, নাগরিকদের সরিয়ে নিতে অন্যসব দেশের তুলনায় গতি অনেক কম।

সুলতান দানেশ আলী বলছেন, ‘ইন্ডিয়া, মালয়েশিয়ার দূতাবাস আরো পাঁচ-সাত দিন আগে তাদের নাগরিকদের দেশে নিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের এখনো খার্তুম থেকে সরিয়ে নিতেই নাকি আর কয়েক দিন লাগবে। এতে তো আমাদের অনেকের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা ডেস্কের মহাপরিচালক মোঃ তারিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছে। সুদান থেকে যে বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই আমরা তাদের সরিয়ে আনার কাজ শুরু করবো। দূতাবাস বিভিন্ন অপশন পর্যালোচনা করছে। যেটা নিরাপদ হবে, সেই রুট দিয়ে বাংলাদেশীদের সরিয়ে আনা হবে।‘

মঙ্গলবার রাত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সুদানে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপদে অন্য দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। খার্তুমে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতিমধ্যে এই বার্তা সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রচার শুরু করেছে।‘

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে, কিভাবে কোন পদ্ধতিতে তারা যাত্রা করবেন। সবাইকে দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে রেজিস্ট্রেশন এবং প্রয়োজনীয় কাজ করার অনুরোধ করছি,’ তিনি লিখেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুদান থেকে বাংলাদেশীদের জাহাজে করে সৌদি আরব নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

খার্তুমের পরিস্থিতি কিছুটা নিরাপদ হলেই বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য বাস পাঠানো হবে। সেই বাসে করে তাদের বন্দর নগরী পোর্ট অব সুদানে আনা হবে। এরপর সেখানে থেকে জাহাজে করে সৌদি আরবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে তারা বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন।

সুদানের দূতাবাস থেকে সেখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের জানানো হয়েছে, এই মাসের ৩০ তারিখে বাস পাঠানো হতে পারে। সেই অনুযায়ী তাদের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নতি না হলে এটা মে মাসেও গড়াতে পারে।

কিন্তু দিন দিন খার্তুমের পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকায় বাংলাদেশী অনেক পরিবার তত দিন অপেক্ষা না করেই নিজেদের মতো করে শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সূত্র : বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য