এ বছর হজ করতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ২০ লক্ষাধিক মুসল্লি মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন। এই বিপুল সমাগম, অনভ্যস্ত পরিবেশ ও শারীরিক পরিশ্রম অনেকের জন্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে। যদি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হজে যাওয়ার আগেই হাজিরা নির্ধারিত টিকা গ্রহণ করে থাকেন। তবু বিষয়টি লক্ষ রাখলে হাজিরা নিজেদের সুস্থ রাখতে পারবেন।চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাজিদের নিম্নোক্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
১. শারীরিক পরিশ্রমের প্রস্তুতি : হজ ফরজ হওয়ার জন্য শারীরিক সামর্থ্য থাকা শর্ত। কেননা হজে হাজিদের প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম হয়ে থাকে। হাজিদের প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটতে হয়।
হঠাৎ করে এত বেশি শারীরিক পরিশ্রম অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ জন্য হজে যাওয়ার আগে এবং মক্কায় পৌঁছানোর পর শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত। বিশেষত হাঁটার অভ্যাস থাকা প্রয়োজন।
২. বেশি বেশি পানি পান : হজের সময় হাজিরা মক্কার উষ্ণ পরিবেশে দীর্ঘ পরিশ্রম করে থাকেন।
ফলে শরীরের পানির মাত্রা ঠিক রাখতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা আবশ্যক। প্রচুর পানি পান না করলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
৩. পরিচ্ছন্নতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া : সংক্রামক ব্যধির হাত থেকে বাঁচতে হাজিরা নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন। বিশেষভাবে খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর, নাকে-মুখে হাত দেওয়ার পর, অন্যের সঙ্গে হাত মেলানোর পর, ভিড়ের ভেতর থেকে ফেরার পর।
৪. খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকা : হজের সময় মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে।তাই অনেকেই পেটের অসুখে আক্রান্ত হন। পেট সুস্থ রাখতে হাজিদের খাদ্যগ্রহণে সতর্ক থাকা আবশ্যক। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা এবং যেসব খাবারে পেট গরম হয় তা পরিহার করা। এ ছাড়া ফলমূল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধোয়া, খাবারের পাত্রগুলো পরিষ্কার রাখা এবং বাসি খাবার পরিহার করা প্রয়োজন।
৫. রোদ পরিহার করা : হজের সময় হাজিদের খোলা প্রান্তরে অবস্থান করতে হয়, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ পথ চলতে হয়। এ সময় সম্ভব হলে তাঁবুতে অবস্থান করা এবং সঙ্গে ছাতা রাখা প্রয়োজন। যেন রোদে কেউ অসুস্থ হয়ে না পড়ে।
এ ছাড়া হাজিদের উচিত, ওরস্যালাইন ও প্যারাসিটামলের মতো কমন ওষুধগুলো সঙ্গে রাখা। অসুস্থতা অনুভব করলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যবুথে যোগাযোগ করা। হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সৌদি সরকার আরাফায় ৪৬টি, মিনায় ২৬টি, হজের স্থানগুলোর রাস্তার পাশে ৬টি এবং জামারাতে ১৬টিসহ মোট ৩২টি হাসপাতাল ও ১৪০টির বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে।
রেজিম মেডিসিন অবলম্বনে
