Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব অনুষদে ৩ বাংলাদেশী গ্রাজুয়েটের ঈর্ষণীয় সাফল্য

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব অনুষদে ৩ বাংলাদেশী গ্রাজুয়েটের ঈর্ষণীয় সাফল্য

মিসরের বিশ্ববিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের সকল বিদেশী স্নাতকদের মধ্যে চার বছরের সমষ্টিগত ফলাফলে শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশী তিন শিক্ষার্থী।

গত ২০ সেপ্টেম্বর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসিয়াল ভেরিফাইড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে স্নাতক মেধা তালিকা প্রকাশ করে তাদের অভিনন্দন জানায়৷ প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তথ্যমতে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ইসলামিক থিওলজি ফ্যাকাল্টির হাদিস ও উলুমুল হাদিস ডিপার্টমেন্টের স্নাতক চার বছরের সমষ্টিগত ফলাফলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেরা দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশী তিন শিক্ষার্থী।

এর আগেও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাস্তরে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। সেই ধারাবাহিকতায় হাদিস ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য এক গৌরবময় সংযোজন।

স্নাতক সেরা দশে জায়গা করে নেয়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম দ্বিতীয় হয়েছেন। তার প্রাপ্ত গড় নম্বর ৯০ শতাংশ। তিনি পাবনা জেলার গোলাম মোস্তফার সন্তান। মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন জাফর উল্লাহ, প্রাপ্ত নম্বর ৯০ শতাংশ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আব্দুল হামিদের সন্তান। মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জনকারী মুহাম্মদ আব্দুস সালাম পেয়েছেন ৮৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ নম্বর। তিনি কুমিল্লা জেলার মাওলানা আবুল বাশারের সন্তান।

উল্লেখ্য, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদ ও ধর্মতত্ত্ব অনুষদের অন্য বর্ষগুলোতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গৌরবময় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন৷ এদিকে আল-আজহারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (সানুভি) পরীক্ষায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে সেরা দশের সাতজনই ছিল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম তার সফলতার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সর্বপ্রথম আমি শুকরিয়া আদায় করছি সেই মহান রবের যার অশেষ কৃপায় এই অর্জন। এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি বাবা-মা ও উস্তাদগণ এবং সেই সব প্রিয়জনদের প্রতি যারা আমাকে আমার লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত পৌঁছতে সার্বিকভাবে সাপোর্ট করে যাচ্ছেন। জীবনের এই অর্জন মোটেই কাঙ্খিত লক্ষ্যবস্তুনয়; তবে জীবনের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য এটা অনুপ্রেরণা। আমার স্বপ্ন বিশ্বময় ইসলামের খেদমত করবো এবং দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কাজ করবো৷

মেধা তালিকার তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী জাফর উল্লাহ বলেন, আমি আমার এই সফলতার জন্য মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি আমার পরিবার, দেশ-বিদেশের সকল শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, যাদের সহযোগিতায় আমি আজ এ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি। বিশেষভাবে স্মরণ করছি শরিফ উদ্দিন আব্দুল মান্নান ভাইয়ের সহযোগিতার কথা যিনি আমাকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা করেছেন। পরিশেষে, আমি সবার কাছে দোয়া চাই আমি যেন দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কাজ করতে পারি।

মেধা তালিকার ষষ্ঠ স্থানের অধিকারী শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, মিসর ও আল-আজহারে আমার শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্য ছিল, আরবি ও ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক এখানকার চর্চা ও কার্যক্রমগুলো কাছে থেকে দেখা এবং যথাসম্ভব উপকৃত হওয়া। তাই বিগত চার বছরে যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, তার জন্য এবং ভালো ফলাফলের সাথে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পারায় মহান আল্লাহর শোকর আদায় করছি। আরো শুকরিয়া জানাচ্ছি আমার মা বাবা, শিক্ষকবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের। সাথে সাথে নবীনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একাডেমিক ফলাফলের সাথে শাস্ত্রীয় অধ্যয়নের প্রতিও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য