ফিলিস্তিনের গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভেন্টিলেশনে থাকা বেশির ভাগ রোগীই অক্সিজেন ও জ্বালানির অভাবে মারা গেছে। হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালামিয়া গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে আল-শিফা হাসপাতালসংলগ্ন জায়গা থেকে গত ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি ইয়েহুডিত ওয়েইস নামের এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনারা।
হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালামিয়া জানান, আইসিইউতে থাকা অনেক অপরিণত শিশু মারা গেছে। এই পরিস্থিতিতে অন্য শিশুদের বাঁচিয়ে রাখার আশাও ক্ষীণ।
এই চিকিৎসক আরো জানান, গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতালটির মৌলিক প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কম্পাউন্ডের প্রধান ভবনগুলোতে পানি ও বিদ্যুৎ নেই। ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতালটির প্রধান পানির সংযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক নাগরিকসহ সাত হাজার মানুষ হাসপাতালটিতে আটকা পড়েছে। ওই হাসপাতালের নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ আছে দাবি করে গত বুধবার থেকে সেখানে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার তারা সেখানে সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার দাবি করে। সেখান থেকে একটি অস্ত্রবোঝাই গাড়ি উদ্ধারের কথাও জানায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে হামাস এই দাবি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া খান ইউনিসের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, ওই দুজন হেবরনের কাছে একটি গাড়ি থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। এরপর পাল্টা হামলা চালালে তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী একটি অস্ত্র জব্দ করে।
অন্যদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে প্রচারপত্র ফেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় শিবিরের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানির অভাবে কার্যক্রম চালাতে পারছে না বলে জানিয়েছে টেলিকম কম্পানিগুলো। জ্বালানি তেলসংকটের কারণে ত্রাণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, জ্বালানি না থাকায় মিসর সীমান্ত থেকে ত্রাণ আনার জন্য ট্রাক পাঠানো সম্ভব হবে না।
সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন
