Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআসছে স্বাস্থ্য কার্ড, পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

আসছে স্বাস্থ্য কার্ড, পাওয়া যাবে যেসব সুবিধা

স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ডের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ এটি বাস্তবায়িত হলে কার্ডধারীকে বাড়তি কোনো কাগজপত্র বহন করতে হবে না৷ কার্ডেই সব তথ্য থাকবে৷ চিকিৎসকও সেখান থেকে রোগীর আগের তথ্য পাবেন৷

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি হাসপাতালে এই কার্ড ও কার্ডের মাধ্যমে সেবা দেয়া হবে৷ পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটা বিস্তৃত হবে৷ পুরো কাজ শেষ হতে পাঁচ-ছয় বছর লেগে যাবে৷

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কার্ডের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট হবে৷ সেই ওয়েবসাইটে অনলাইনে নিবন্ধন করে স্বাস্থ্য কার্ড পাওয়া যাবে৷ তবে যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন না তারা অনুমোদিত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিবন্ধন করাতে পারবেন৷ নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য জন্ম নিবন্ধনের অনুলিপি নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে৷ হাসপাতালের নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে বিনামূল্যে এই কার্ড করা যাবে৷ প্রতিটি নাগরিকের একটি নিজস্ব হেলথ আইডি নম্বর থাকবে৷ স্বাস্থ্য কার্ডের আওতায় আসা একজন রোগীর ‘জন্ম থেকে মৃত্য’ পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবার সব তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা থাকবে৷

এই কাজের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলো অটোমেশনের কাজ আগেই শুরু হয়েছে৷ যেসব বেসরকারি হাসপাতাল নিজস্ব অটোমেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তারা তাদের সফটওয়্যারকে ‘শেয়ারড হেলথ রেকর্ডসের’ সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন৷ যেসব বেসরকারি হাসপাতালের নিজস্ব সফটওয়্যার নেই এবং নতুন কোনো সফটওয়্যার তৈরি করতে চাচ্ছে না, তাদের সংযুক্ত করতে একটি সফটওয়্যার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেয়া হবে৷

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং জন্ম নিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের সাথে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চুক্তি হয়েছে৷

কার্ডে নাগরিকের আগের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব কাগজও থাকবে৷ অনলাইনেই সব তথ্য থাকায় হেলথ কার্ডের নম্বর দিলেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট চলে যাবে রোগীর ইমেইলে৷ এর মাধ্যমে ঘরে বসেই রোগীরা হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন৷ বিভিন্ন হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রে সেই কার্ড বহন করলেই চলবে৷ এক কার্ডেই রোগীর বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন চিকিৎসকরা৷ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, রোগ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে৷

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (এমআইএস) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে৷ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমে এই স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হবে৷ পরের ধাপে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কার্ড দেয়া হবে৷

সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: তাসনুভা মারিয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্য কার্ড দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি৷ সবকিছু সেটআপ করছি৷ লজিস্টিকস সাপোর্ট, ম্যানপাওয়ার, কার্ড দেয়ার জন্য ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে৷ একই সাথে রোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হাসপাতালে আসার অনুরোধ করছি৷’

তিনি বলেন, ‘এখনো তারিখ ঠিক হয়নি, তবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এখানে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে৷ আমি যতটুকু জেনেছি তাতে যারা স্বাস্থ্য কার্ড পাবেন তাদের একটি ইউনিক আইডি নাম্বার থাকবে৷ ওটা দিয়ে সার্চ দিলেই তাদের আগের চিকিৎসা, রোগ সবকিছু জানা যাবে৷ সিংগাইর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে একজন রোগী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপা়তালে গেলে চিকিৎসক ওই রোগীর স্বাস্থ্য কার্ড থেকেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন৷’

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, একজন নাগরিকের প্রথম যখন হেলথ কার্ড হবে তখন যতদূর সম্ভব তার আগের চিকিৎসা, রোগ ও চিকিৎসাপত্রের বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হবে৷ আগের ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্যও থাকবে৷

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, ‘এর আগেও আমরা হেলথ কার্ডের বিষয়টি করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করেছি৷ দাতাদের অর্থায়নে ওই কাজগুলো হয়েছে, কিন্তু সাসটেইনেবল হয়নি৷ এবার আমরা ন্যাশনাল আইডি কার্ডকে সংযুক্ত করে কার্ডের কাজ করতে যাচ্ছি৷ কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সফটওয়াারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্ত করা হবে৷ এটা কেমন কাজ করে তা আমরা আগামী বছর পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ-ছয় মাস দেখব৷ সফল হলে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে৷ আর আগের প্রকল্পের যে কাজ হয়েছে তাও আমরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি৷’

তিনি বলেন, ‘এটা করা গেলে প্রত্যেকের একটা ইউনিক আইডি থাকবে৷ তিনি দেশের যে হাসপাতালেই যান না কেন ওই কার্ড দিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন৷ তাকে সাথে করে চিকিৎসার রেকর্ডপত্র বহন করতে হবে না৷ এই কার্ডে রোগীরা যাতে প্রতারিত না হন সেজন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ আরো কিছু তথ্য থাকবে৷’

তার কথা, ‘সরকার সবার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করতে চায় তার জন্য এই হেলথ কার্ড খুবই জরুরি৷ এটা করা গেলে এর মাধ্যমেই বাকি কাজ করা যাবে৷’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অর্ধাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি ভালো উদ্যোগ৷ এর মাধ্যমে কার্ডধারী রোগীদের তথ্য ডিজটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে৷ রোগ নির্ণয় করতে একই পরীক্ষা বার বার করতে হবে না৷ চিকিৎসকরাও সহজেই একজন রোগীর তথ্য জানতে পারবেন৷’

তার কথা, ‘এটা হতে পারে সবার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিকিৎসা সেবার প্রথম পদক্ষেপ৷ এর সাথে পর্যায়ক্রমে হেলথ ইন্সুরেন্স যোগ করা যেতে পারে৷ সিনিয়র সিটিজেনদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷ গরিব মানুষকেও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা যাবে৷’

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে দেশে সবার জন্য হেলথ কার্ড করা হবে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক৷ তিনি বলেছিলেন, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমরা ডিজিটালাইজড করছি৷ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার কারণ হচ্ছে, দেশে সবার জন্য একটি হেলথ কার্ড হবে৷ এতে সবার স্বাস্থ্যের সব তথ্য থাকবে৷ অন্যান্য দেশেও এভাবে হেলথ কার্ড থাকে৷ সূত্র : ডয়চে ভেলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য