আমি যখন ছোট ৩/৪ বছর বয়স, তখন আমার বাপ কোরবানির জন্য বলদ গরু কিনতেন। বলদ গরুর কুজ থাকতো না। আমি প্রতিবার চিল্লাইতাম কুজআলা গরু যেন কিনে। কুজ ছাড়া গরু যেন না কিনে।
একটু বড় হইলে যখন গ্রামে যাইতাম কিংবা যেখানে গরু পালে লোকেরা দুধের জন্য সেখানে গেলে দেখতাম সাদাকালো গরু পালে লোকেরা, যেগুলার কুজ নাই, লম্বা, গায়ে সাদাকালো ছোপ, মাথা সুন্দর না, সুন্দর শিং নাই, এমন গরু চাইরপাশে।
এই গরুগুলারে আমার গরু লাগত না। মনে হইত কেমন জানি, গরুর আত্মিকতা এদের ভিতর নাই, খালি কাজ হইল দুধ দেয়া, লম্বা হওয়া, কোনো সুন্দর নাই।
আরো পরে জানতে পারলাম এইগুলা হলেস্টান, ফ্রিজিয়ান, অস্ট্রাল গরু। হলেস্টান আর ফ্রিজিয়ান, এই দুই জাত হইল জার্মানি আর নেদারল্যান্ডের অরিজিন। পাকিস্তান আমলে কেউ কেউ আইনা পালা শুরু করসেন এইখানে। মুলত ৭০/৮০-র দশকে আমি ধারনা করি যখন উফশি নিয়া বাংলাদেশের সরকার ভাবা শুরু করল, তখন এখানের এনজিওগুলা তৎপর হয়া উঠলো নিজেদের সিমেন বিজনেসের বেপারে। সরকার আর এনজিওগুলা মিলা হলেস্টান আর ফ্রিজিয়ানের সংকরায়ন কইরা বেপকভাবে এগুলার প্রচার ও সিমেনে ছড়ায়া দেয়ার বেপারে কাজ শুরু করলো।
উফশি মানে হইল উচ্চফলনশিল জাত। বাংলাদেশের অন্যান্য দেশিয় কৃষি শস্যের জাতের মতো দেশি গরুও ত অত ফলন দিত না। মানে হইল, একটা দেশি গরু দুই বছর পাললে যতটুক গোস্ত উৎপাদন করতে পারে, দেশি গাভি যে কয়কেজি দুধ দেয় প্রতিদিন, তার সাথে একটা হলেস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় বা গাভির তুলনা করলে ৫/১০/১৫ গুন পিছায়া থাকে দেশি জাত। কৃষকদের যখন এই বেপার দেখানো হইলে তাদের খুব স্বাভাবিকভাবে মাথা নষ্ট হয়া গেল। এখন যারা এই প্রচারনা চালায়, তারা ত আর কৃষকদের ষাড় বা গাভি দিবে না উন্নত জাতের, তারা দিবে সিমেন।
৮০/৯০ এর দশক হয়া উঠলো সিমেন বেবসার উঠতি সিজন। দেশের চিপাচাপার জায়গায় কৃষকদের দেয়া হইতে থাকলো সিমেন। সিমেন বা হিমায়িত ষাড়ের বির্য কৃষক দিবে কই? তার খামারে থাকা ছোট ছোট দেশি গাভির গর্ভে তারা এগুলা দেয়া শুরু করলো। দেশি গাভি ছোট, তার বাচ্চাও হয় ছোট। কিন্তু তারে যখন উন্নত জাতের হলেস্টান ফ্রিজিয়ানের সিমেন দেয়া হইল, তার গর্ভের বাছুর ত আগের সমান আর হয় না, এগুলা হয় কয়েকগুন বড়। যখন বাছুর হওয়ার সময় হইল, তখন দেশি গাভির বাছুর হওয়ার জায়গা দিয়া এই উন্নত জাতের বাচ্চা ত আর বের হয় না। এই বাছুর বের করার সময় প্রেগনেন্সি জটিলতায় লাখ লাখ দেশি জাতের গাভি মারা যাইতে থাকলো। এই মারা যাওয়ার ফলে রিপ্রোডাক্টিভ দেশি গাভি কমতে থাকলো, সাথে বেশি দুধ বেশি গোস্তওয়ালা হলেস্টান ফ্রিজিয়ান দেশের আনাচে কানাচে চইলা গেল।
এই যে আনাচে কানাচে চইলা গেল হলেস্টান ফ্রিজিয়ান, কোথাও বা জার্সি, এগুলা কি আমাদের মতোন ভৌগলিক জায়গার দেশের মানুশের জন্য ভালো? আমাদের দেশের মানুশদের জন্য এই গরগুলার দুধের যে পুষ্টি, তা ত এনাফ না, গোস্তেও সেইম। আমরা যে ভুগলে থাকি, সেইখানের লোকদের জন্য দরকার হইল কুজওয়ালা গরু, যে গরুগুলার পিঠে কুজ আছে। মেরিকার বিজনেসের পারপাসে যেমন আমাদের দেশে সয়াবিন তেল ঢুকসে, যেটা আমাদের জন্য ভয়াবহ খতিকর, তেমন কাজের থিকা বেশি এই জাতের গরুগুলা ঢুকসে।
মাসানুবু ফুকোওকার একটা কথা আছে ওয়ান স্ট্র রেভুলেশন কেতাবে যে, তোমার শরিলের জন্য তোমার ঘরের পাশের পুষ্কুনির মাছ সবচে ভালো৷ এরচে কম ভালো হইল নদির মাছ, তার চে কম ভালো হইলো সমুদ্রের মাছ।
কারন আমরা যে পরিবেশে থাকি বড় হই, সেই পরিবেশের গাছ পালা খাদ্য এগুলা আমাদের শরিলের জন্য সবচে সুইটেবল থাকে। আমাদের খাদ্যের যে চাহিদা বিজ্ঞাপনগুলায় দেখানো হয় প্রতি বছর এত মেট্রিক টন এইটা সেইটা অইটা দরকার, এগুলারে বড়ভাবে বেবসা প্রভাবিত করে, যেটার সাথে সত্যের সম্পর্ক খুবই কম।
মাসানুবু বইটায় দেখাইসেন, মানুশ বড় বড় গাজর, সুন্দর সুন্দর মোটা মোটা সবজি পসন্দ করে, এইগুলার সাথে মানুশের আইওয়াশড হওয়া সম্পর্কিত, কিন্তু খাবারের কোয়ালিটির সম্পর্ক নাই। আমি একবার ফেসবুকে একটা পোস্ট দিসিলাম সবজি কিনার বেপারে। তখন একজন কমেন্ট করসিল, যে বেগুনে পোকা আছে, সেটা নাকি মজা বেশি পাওয়া যায়। আমি পরে বুঝতে পারসিলাম এই স্বাদ ত পোকার স্বাদ না, বরং এটায় যে রাসায়নিক সার বিষ দেয়া মিস হয়া গেসিল, সেইটার স্বাদ।
আমাদের তাইলে ভাবা দরকার আমাদের সত্যিকারের প্রয়োজন কেমন? আমাদের ‘মর্ডান’ হওয়ার চিন্তা, সিভিলাইজড হইতে চাওয়া এগুলার সাথে আমাদের কৃষির ধসের সম্পর্ক প্রচুর। আপনে মর্ডান হওয়া মানে খেতে কাম না করা, আমাদের সিভিলাইজড হওয়া মানে কৃষকের পোলা কৃষির কাম না করা, বরং সুটবুট পরা। একইসাথে মর্ডান মানুশের অনেক চাহিদা, অনেক পলিশড জিনিসপাতি দরকার।
এ কথাগুলা বলতেসিলাম এ কারনে যে, একটা হইতেসে আপনার নিজস্ব দেশের যে ফসলি, কৃষি সম্পদ আছে, সেগুলারে আপনি ডেভেলপ করতে চাইলেন আস্তে আস্তে, যেমনে বহু পশু, ফসল আমাদের আদি কৃষকরা বন্য থেকে গৃহপালিত বানাইসেন, আরেকটা হইল আপনে আমদানি কইরা, খতিকর ইঞ্জিনিয়ারিং কইরা আপনার দেশরে ফুলায়া ফাপায়া উঠাইতে চাইলেন।
বাংলাদেশে মোটাদাগে চার/পাচ রকমের জাত উপজাত আছে গরুর। বাংলাদেশের অল্পকিছু পশুপ্রানি পাগলা পোলাপাইন ছাড়া দেশি জাতের গরুর নামই জানে না বেশিরভাগ লোক, আমাদের এমনই দুর্দশা। যে জাত উপজাতগুলা আছে, সেগুলাও এমনভাবে কমতেসে, জাত হিসাবে তাদের স্বিকৃতি থাকবেও না মেবি।
বাংলাদেশি লোকদের জন্য বাংলাদেশি গরুর গোস্ত দুধ এগুলা সবচে বেশি দরকারি, কিন্তু দেশি গরুর দুধ খাইতে পারে এমন মানুশ কয়জন? খুবই অল্প।
কিন্তু বাংলাদেশের স্থানিয় গরু নিয়া রিসার্চ, খামারগুলায় এগুলা নিয়া কাজ করা, সরকারিভাবে ব্রিডিং করা, জাত উন্নয়ন, কৃষকদের কাছে এগুলা পৌছানো, দেশি গরুর জাতরে গ্লামারাইজ করার সরকারি পদক্ষেপ দেখসেন?
অন্যান্য লাইফস্টাইলের জিনিসের মতো পোলাপানের কাছে ফ্লাকভি, ব্রাহমা, হরিয়ানা ইত্যাদি বিদেশি জাতের গরুগুলা বেশি সেক্সি লাগে কোরবানির সময়ও। গরু নিয়া পোস্ট দেয়া পেইজগুলায় দেশি গরু নিয়া পোস্ট দিতে বইলা শুনি, ভাই, দেশি গরুর পোস্টে লাইক পড়ে না।
অথচ বাংলাদেশে লাল অষ্টমুখি বা আরসিসি, নর্থ বেঙ্গল গ্রে বা উত্তরবঙ্গের ধুসর গরু, পাবনা কেটল বা পাবনার লাল সাদা গরু, মুন্সিগঞ্জ কেটল/মুন্সিগঞ্জের গরু নামে চারটা জাত উপজাত আছে। মুন্সিগঞ্জ কেটলের এত দুরবস্থা যে এইটা মেবি জাত হিসাবে স্বিকৃতিও পায় নাই। এ ছাড়া আছে দিনাজপুর ডোয়ার্ফ, সিলেটের স্থানিয় কোনো কোনো গরু। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার এমন অপদার্থ, বদমাইশ ও ফালতু, আপনি দেশি জাতগুলা নিয়া নিয়মিত কোনো আপডেট পাবেন না।
আজকে ইউটিউবে ভিডিও দেখতেসিলাম, কোন কোন জায়গার সরকারি গবেষনা সেন্টার থিকা নিলামে গরু কিনতে পারবেন এটা বলতেসিল ইউটিউবার। সে অইখানে ৭টা সরকারি প্রজেক্টের কথা বলতেসিল। সাভার, চাপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, ফরিদপুর, চিটাংয়ের সরকারি জায়গাগুলার কথা বলতেসিল। শুধু একটা জায়গা, কেবল চিটাংয়ের হাটহাজারি থিকা দেশি জাত আরসিসির গাভি কিনতে পারবেন। ভাবেন অবস্থা, কোন শুওরের বাচ্চাদের হাতে আমাদের কৃষি দেয়া, ৭টা শ শ বিঘা/একরের জায়গায়, দেশি জাতের একটা গরু মাত্র সরকারিভাবে গবেষনার আন্ডারে আছে।
এ ছাড়া আরেকটা জায়গা আছে, সেটার নাম হইল বিএলআরআই। Bangladesh Livestock Research Institute। এখানে বাংলাদেশের লাইভস্টক নিয়া গবেষনা করা হয়। আমি ২০২৩ সালে সেইখানে গেসিলাম। প্রথমে ঢুকতেই দেয় না, এরপর বললাম স্যারের সাথে কথা বলব। ঢুকতে দেয়ার পর দেখি, এক এলাহি প্রজেক্ট৷ কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো কাজ নাই। কেউ বলতে পারে না কার কী কাজ। আমরা চার পাচ অফিসারের কাছে গেলাম ভেড়া পালব এই বেপারে, এক মহিলা কর্মকর্তা আমাদের থেকে জানতে চাইলেন কী করব। এরপর উনার কথা শুইনা মনে হইল উনি নিজেও নিজের কাজ সম্পর্কে কিছু জানেন না।
আপনারা বলেন ত, এরকম একটা রিসার্চ ইন্সটিটিউট যে আছে বাংলাদেশে কে কে জানতেন? এদের একটা ইউটিউব চেনেল আছে, সেইটা ২০০৯ সালে খোলা হইসে। এই ১৬/১৭ বছরে মোট ৩৪টা ভিডিও দেয়া হইসে। এখানে বলা হইসে পাবনা কেটল, আরসিসি নিয়া তারা গবেষনা করতেসে বহুদিন ধইরা। এরপর আপনে পুরা অনলাইন খুইজা এদের কাজের কোনো আপডেট পাবেন না। এরা কেম্নে এই দেশিজাতগুলা নিয়া কাজ করতেসে, কতটুক কী হইসে, খামারিদের জন্য কতটুক সহযোগিতায় এরা আগাইসে, কিছুই জানা সম্ভব না। বাংলাদেশের ১% কৃষকও কি জানে এই লাইভস্টক রিসারদচ ইন্সটিটিউটের কথা?
এরপর ভেড়া পালন ম্যানুয়াল নামে একটা বই কিনা নিসি এদের, সেইটাও পুরানা একটা গুদামঘর থিকা। বই খুইলা দেখি ২০০৪ সালে বের হইসে, বাইন্ডিং ছুইটা গেসে। এদের অবস্থা এমনই, সরকারি যে কাজগুলা বাংলাদেশের মানুশের ভেটটেক্সের টাকায় মানুশের জন্য হইতেসে, সেগুলার বালেরও দাম নাই। আমরা কিছু ভেড়া দেখতে চাইতেসিলাম, তারা বলসে ভেড়া দেখা যাবে না ভাইরাস ছড়ায়। এরপরও আমরা রাস্তা চিনি না বইলা হানজু ভাইয়ার হুন্ডায় কইরা ভেড়ার জায়গাটায় গেসি। সেখানে এক লোকের সাথে দেখা দিলশাদ নামে। সে অইখানের ইনচার্জ ছিল। সে বলতেসিল, কতদাম দিয়া অস্ট্রেলিয়া থিকা ভেড়া আনা হইসে গবেষনা করতে। দেশি জাতের সাথে ভালো একটা রেজাল্টও নাকি পাওয়া গেসে এগুলার ব্রিডিং কইরা।
আমারে সে বলসিল আমি ভেড়া পালতে চাইলে সে নিলামের সময় আমারে ফোন দিবে। আমি তার নাম্বার নিয়া আসছিলাম। এইবার কোরবানির আগে তারে অনেকবার ফোন দেয়ার পর ফোন ধরসে। বলল যে, জাত উন্নয়ন প্রায় শেষের দিকে, শিজ্ঞির অইখান থিকা খামারিদের ব্রিড দিবে। আর আমারে ঈদের ১৫ দিন আগে নিলাম হবে দেশি ভেড়ার, এর আগে জানাবে। আমি জিজ্ঞাসা করসিলাম, সরকারি কোনো বিজ্ঞাপন পত্রিকায় ছাড়া হয় কি না! সে বলসে, না। এরপর আমি তারে মিনিমাম দুইটা নাম্বার থিকা ৩০ /৫০ বার ফোন দিসি হোয়াটসাপে আর নাম্বারে, কেউ কল রিসিভ করে নাই। আমি আর শেফায়েত ভাইসহ প্লেন ছিল, আমরা টাকাও গোছাইছিলাম শেফায়েত ভাইয়ের ফার্মে এইখান থিকা হওয়া ভেড়া নিয়া ভালো খামার দেয়ার, সেইটা হইল না।
তাইলে বলেন এত শ শ কোটি টাকার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মানুশের সত্যিকারের কোন স্বার্থে লাগতেসে?
আমি মৎস ও প্রানিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতাররে জানাইসিলাম ইনবক্সে দেশি ব্রিড নিয়া, হয়ত আমার চে অনেক বেশি জানা খামারিরাও বলসেন, কিন্তু ফরিদা আপা মেসেজ দেখার টাইম পান নাই।
ফরিদা আপা কি গত এপ্রিলের নয়া দিগন্তের রিপোর্ট দেখসেন, বিএলআরআইয়ে একটা গরু মইরা গেসে আর সেইটার ফরেনসিক সেম্পল ছাড়াই মাটি দেয়া হইসে? এটা কি কারনে অসুস্থ হয়া মারা পড়ল, এটার কারন কেম্নে জানবে? আরেকটা গরু অসুস্থ হয়া গেলে বিএলআরআইয়ের কর্মকর্তারা জবাই কইরা গোস্ত ভাগ কইরা নিসেন, এটা কি উপদেষ্টা ‘মহোদয়’ জানেন? বাংলাদের আম মানুশের টাকায় কী মহোৎসব কইরা বেড়াইতেসে এরা?
এই যে জাত উন্নয়নের এই বিরাট বন্দোবস্ত কি কোনোদিন শেষ হবে না? আমরা কোনো রেজাল্ট জানব না? দেশি ভেড়ার সাথে বিদেশি ভেড়ার জাত উন্নয়ন শেষ পর্যায়ে এটা প্রায় ৬ বছর আগে এক কর্মকর্তা উনাদের ইউটিউবে বলসেন। আমি দুই বছর আগে গেসি আরও তারা বলসেন শেষ পর্যায়ে। কয়দিন আগে ফোন দিসি আরও শেষ পর্যায়ে বললেন। শেষ হবে কবে? ধাপে ধাপে আপডেট জানানো কেন হয় না? আমাদের দেশরে ভালোবাসে এমন কোনো মানুশ কি নাই?
দেশি জিনিসগুলারে আগায়া আনা দরকার। সরকারি পলিসিতে অনেক ডেভেলপ, অনেক উৎপাদন, বড় বড় জিনিস বানানোর থিকা সইরা নিজেদের টেকসই স্ট্রাকচারে যাওয়া দরকার।
আমাদের আরসিসি জাত প্রতিবছর বাচ্চা দেয়, পাবনা কেটল ৯-১১ কেজি দুধ দেয়, নর্থ বেঙ্গল গ্রে বড় হওয়া সম্ভব, মিরকাদিমের গোস্ত প্রচুর স্বাদ হয়, এগুলারে কেম্নে আগানো যায়, সেগুলা দেখার ট্রাই করেন।
আমি পড়তে লেখতে জানি, দেশি জাতগুলা নিয়া লেখাপত্র খুজতে খুজতে জান শেষ। লেখাপত্র পাওয়াই যায় না। একজন গ্রামের কৃষক কই পাবে নিজেরে শিক্ষিত করার জিনিস? বহুকষ্টে কয়টা রিসার্চ পেপার নামাইসি ইংরেজি, যেগুলা দেশি ব্রিডের উপর রিসার্চ কইরা লেখা হইসে।
খামাররে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টদের হাতে দেয়া মানে আমাদের কৃষিরে মাটিতে মিশায়া দেয়া। আমাদের কৃষকদের হাতে দেশিয় জাতগুলারে সহজ কইরা দেন, আমাদের সহজ অল্প টাকার মানুশদের হাতে কৃষিরে ইজি কইরা দেন, যারা নিজের সন্তানের পাশে একটা গাভি একটা বাছুর আদর কইরা বড় করে, নাইলে কিন্তু ভবিষ্যত ভয়াবহ!
