অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ঘোষিত বিশেষ মানবিক যুদ্ধবিরতির মাঝেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ। এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এর আগে গাজার আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ এবং গাজা সিটি এলাকায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। দাবি করা হয়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মানবিক সহায়তা সহজ করার লক্ষ্যে। তবে বাস্তবে এই সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্স জানায়, চলমান যুদ্ধের মধ্যে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজার কিছু এলাকায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় ইসরাইল। একইসঙ্গে নতুন ত্রাণ করিডোর চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ওষুধ ও খাদ্যবাহী যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট রুট খোলা রাখার কথা জানানো হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে, মিসরের রাষ্ট্রায়ত্ত আল-কাহেরা নিউজ টিভি জানায়, রোববার থেকে মিসরের সীমান্ত দিয়ে গাজার উদ্দেশে ত্রাণবাহী গাড়িবহর যাত্রা শুরু করেছে। এছাড়া ইসরাইল আকাশপথেও ত্রাণ সরবরাহ শুরু করেছে বলে জানায়।
তবে জাতিসংঘ অভিযোগ করেছে, ইসরাইল প্রয়োজনীয় সংখ্যক ত্রাণ রুট চালু করছে না, ফলে সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে, ত্রাণ সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো গেলেও তা মোটেই পর্যাপ্ত নয়।
গাজায় চলমান সংকট ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরো বেড়েছে। তবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার জানায়, তারা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে সরে এসেছে। তাদের দাবি, হামাস কোনো সমঝোতায় আগ্রহী নয়।
গত মার্চে ইসরাইল গাজার সব ধরনের ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দিলে সেখানে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মে মাসে সীমিতভাবে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অপুষ্টিজনিত কারণে বহু মানুষ মারা গেছে। এখন পর্যন্ত ১২৭ জন অপুষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮৫ জনই শিশু।
ইসরাইল দাবি করছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ নেই এবং তারা হামাসকে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে কিছুদিন ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ রেখেছিল। ইসরাইল আরো বলছে, ত্রাণ রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে, বরং জাতিসংঘ তা সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারছে না। তবে জাতিসংঘ এই দাবিকে অস্বীকার করে বলেছে, ইসরাইলি বিধিনিষেধের মধ্যেও তারা যথাসাধ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
