লিবারেল ডেমোক্রেসির মূল সমস্যা হল মাইনোরিটি যে শয়তান হতে পারে সেটা সে বিশ্বাস করবে না। এটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও সে সেটা মানবে না। তার সব সময় চেষ্টা থাকবে মাইনোরিটি কার্ড ব্যবহার করে মেজোরিটিকে দমিয়ে রাখার। কোন স্থানে দাঙ্গা হলে যুদ্ধ হলে সে সেখানে উপস্থিত ছাড়াই মাইনোরিটির জীবন নিয়ে শঙ্কা করবে। একটিবারের জন্যও সে মেজোরিটির আলাপ তুলবে না।
এটা কেন হয় ? এটার মূল কারণ হল গণতন্ত্রের জেনোসাইডাল ইতিহাস। গণতন্ত্র এক সময় মেজোটিরিয়ান পাওয়ারের উপর দাড়িয়ে সারা বিশ্বে মাইনোরিটির উপর অসংখ্য জেনোসাইড পরিচালনা করে। মাইনোরিটিকে এথনিক ক্লিনসিং করে। মেজোরিটিয়ান কোন খারাপ কাজ করতে চাইলে বিশেষ করে কোন মাইনোরিটি কমিউনিটিকে ওয়াইপ আউট করতে চাইলে কারো সেই শক্তি নাই তা ঠেকাবার। এটা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এটাকে অনেক নাম দেয় Tyranny of the Majority কিংবা মেজোটিরিয়ান ডিলেমা।
গণতন্ত্রের এই অপূর্ণতা কিংবা দূর্বলতা ঢাকার জন্যই মূলত পরবর্তীতে লিবারেল ডেমোক্রেসির উদ্ভব ঘটানো হয়। লিবারেল ডেমোক্রেসির ডিকশনারীতে মেজোটিরিয়ান পিপল হত্যা, ষড়যন্ত্র, এথনিক ক্লিংসিং এর মত নৃশংস ঘটনার শিকার হতে পারে তা নাই কিংবা রাখা হয় নাই। এখানে পাওয়ার বলতে মাইনোরিটির পাওয়ার বুঝানো হয়। মাইনোরিটি ভালো আছে মানে গণতন্ত্র ভালো আছে। সেই মাইনোরিটি একশ একটা মানুষ খুন করেও যদি ভালো থাকে তাহলেও সেটাকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবেই দেখতে হবে।
একারণেই দেখবেন এ দেশের মুসলিমদের উপর অসংখ্য জঙ্গি নাটক হয়, শাপলা চত্ত্বরে গণহত্যা হয় কিন্ত এগুলোর কোন কিছুই গণতন্ত্রের মান কমায় না। কিন্ত রাস্তাঘাটে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা কুকুরও যদি মারা যায় আর সেটা যদি এমনভাবে রিপোর্টে আসে যে অমুক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা কুকুরকে মেরে ফেলা হয়েছে তাহলেই গণতন্ত্রের রেটিং কমে আসে। অর্থাৎ লিবারেল ডেমোক্রেসিতে একজন মেজোটিরিয়ান মানুষের জীবনকে যা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে মুসলিমের জীবন সেই জীবনকে একজন সংখ্যালঘুর কুকুরের জীবনের থেকেও কম দামি মনে করা হয়।
এটা লিবারেল ডেমোক্রেসির বেইসিক ফল্ট তারা ডেমোক্রেসির একটা দোষ ঢাকতে গিয়ে আরেকটা ত্রুটি ওপেন করছে। এখন গণতন্ত্রের পাহারাদারেরা মনে করে , মেজোটিরিয়ান পিপল বিশেষ করে ধর্মঘেষা মানুষ যদি গণতন্ত্রের মেজোটিরিয়ান পাওয়ার ব্যবহার করে এমপাওয়ারড কিংবা শক্তিশালী হয়ে উঠে তাহলে তো সমস্যা। তাহলে গণতন্ত্রের পুরানো পাপ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ এথনিক ক্লিংসিং। কিন্ত আমাদের দেশের বামেরা এটাকে মনে করে মুসলিমরা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করে ফেলবে আর শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করে ফেললে আদার্স মাইনোরটি নিয়ে সমস্যা থাকুক কিংবা না থাকুক কিন্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে তাদের মত বাম কমিউনিটি যে কচুকাটা হবে না , তার কিইবা গ্যারান্টি আছে। আল্টিমেটলি এদেশের বামেরাও নিজেদেরকে মাইনোরিটিই মনে করে। তাই তারা তাদের একটা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে মাইনোরিটি কার্ড খেলে মেজোটিরিয়ানকে একটা প্রেশারে রাখা। এই প্রেশার নানামুখী প্রেশার হতে পারে রাষ্ট্র কতৃক নিজস্ব প্রেসার, বহির্দেশীয় এনজিও-র প্রেশার, কিংবা আগ্রাসী রাষ্ট্রের প্রেশার।
এই প্রেশার যত বাড়ানো সম্ভব হবে তত মেজোটিরিয়ানকে পাওয়ার থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। এজন্য রাষ্ট্র মেজোটিরিয়ানদেরকে ধরে গুম করবে, জঙ্গি নাটক করবে , তাদের উপর ম্যাসাকার করবে কিন্ত এগুলোর সবকিছুরই আউটপুট হল ভাল। যেহেতু মেজোটিরিয়ানের উপর এটা হয়েছে। এইযে মাইনোরিটিকে রক্ষার নাম করে মেজোটিরিয়ানকে দমিয়ে রাখা একে বলা হয় ‘রিভার্স ডিসক্রিমিনেশন’.। কিংবা গণতন্ত্রের আদি দোষ বিবেচনা যদি করি তাহলে একে Tyranny of the Minority বলা যায়। কিন্ত আধুনিক গণতন্ত্রের পাহারাদাররা কোন মতেই এটা বিশ্বাস করতে চাবে না যে মেজোরিটি কোন সমস্যায় থাকতে পারে । তাদের ডিকশনারিতে এই কনসেপ্ট তারা রাখে নাই।
যে কারণে পার্বত্য এলাকায় বাঙ্গালি পাহাড়িদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তা নিয়ে দেশের মেজর পত্রিকাগুলোতে কোন রিপোর্ট পাবেন না। ইউ এন কখনো এটা নিয়ে কথা বলবে না। এবং গণতন্ত্রের নিকৃষ্ট ফলোয়ার হিসেবে যারা বিবেচিত যারা বিপ্লবে ফেইল হয়ে গণতন্ত্রের পোষা পড়েছে সেই বামদেরকেও দেখবেন না পাহাড়িদের অস্ত্র হাতে নেওয়া নিয়ে কোন কথা বলছে। সব সময় ন্যারেটিভ এমনভাবে দাড় করাবে যে পাহাড়ের যত সমস্যা তার মূল কারণ বাঙ্গালিরা অর্থাৎ আমরা। সমতলে হিন্দু মুসলিম ঝামেলা হলেও চোখ বন্ধ করে তারা বলে দিবে সব দোষ মুসলিমদের । অর্থাৎ মেজোরিটিরই সব দোষ।
তো, একটা সময় পর্যন্ত ছিল মাইনোরিটি বলতে আমরা হিন্দু খৃস্টান বৌদ্ধ কিংবা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীদের বুঝতাম। তারাই রাষ্ট্রের আসল সংখ্যালঘু। কিন্ত বামদের দেওয়া বিবৃতিটা দেখেন লিঙ্গিয় সংখ্যালঘু নামে একটা এলিয়েন শব্দ যোগ করে দিয়ে মাইনোরিটিকে এমপাওয়ার্ড করে দিল ! লিঙ্গ আবার সংখ্যালঘু হয় কিভাবে ? না ঐ প্রশ্ন করারও সুযোগ নাই। ঠিক আছে মেনে নিলাম সংখ্যালঘু কিন্ত সে যে খুনের হুমকি দিয়েছিল সেটাতো সত্য। না, মাইনোরিটির সাত খুন মাফ।
লিঙ্গের পক্ষে সংখ্যালঘু হওয়া সম্ভব না কিন্ত যেহেতু অপরাধটা দুজন ধার্মিক মুসলিমের বিরুদ্ধে হয়েছে তাই এটাকে অপরাধ হিসেবে দেখানো যাবে না। এখন অপরাধ হিসেবে না দেখানোর সবচেয়ে সহজ উপায় লিঙ্গের আগে একটা সংখ্যালঘু যোগ করে দেই। তাহলে সব হালাল হয়ে যাবে । এটাই আধুনিক গণতন্ত্রের শয়তানি।
নৃশংস বর্বরতার সাথে ক্যারিকেচার আঁকা হয়েছে এরকম বিভৎস ক্যারিকেচার মুভির সিরিয়াল কিলাররাও কখনো আঁকে না কিন্ত বামদের বিবৃতিতে সেই ক্যারিকেচার এমনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেন সেটা অতি সাধারণ কোন ক্যারিকেচার। ক্যারিকেচারের নৃশংস দিকটা কেন এড়িয়ে যাওয়া হল ? যেহেতু দুজন ধর্মভীরু মুসলিমকে টার্গেট করা হয়েছে তাই খুনের হুমকি দেওয়া ক্যারিকেচারটাকে হালকাভাবে দেখাতে হবে। আর কোন পাপই পাপ না যদি সেটা সংখ্যালঘুর দ্বারা হয়। তাই যেহেতু মুসলিম টার্গেট করা হয়েছে তাই প্রথমে এটাকে হালকাভাবে দেখার ন্যারেটিভ তৈরি করা হল এবং হালকাভাবে দেখাটা যে বৈধ এটা প্রমাণ করার জন্য সংখ্যালঘু শব্দটা যোগ করে দেওয়া হল।
এই সংখ্যালঘু শব্দটার কারণে যাদের স্পষ্টবাদী হয়ে সরোয়ার স্যারদের পাশে দাড়ানোর সুযোগ ছিল তারাও দাঁড়াতে হিমশিম খাবে। কেননা তারা যখন দাঁড়াবে তখন বামেরা আবার ন্যারেটিভ তৈরি করবে অমুক দল , অমুক ডানপন্থী দলের মানুষ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দাড়ায়। কিন্ত একবারের জন্যও বলবে না এই কথিত নুনু সম্পন্ন সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে দাঁড়াবার কারণ।
অর্থাৎ ১৬২ জন যে নাগরিকেরা বিবৃতি দিল তারা জাস্ট মিথ্যে এবং কুটিল চরিত্রের মানুষ ছাড়া আর কিছু না। তারা এ দেশের বর্বরতম ব্যক্তি। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্যের বাস্তব উদাহরণ হল এই এক দল মিথ্যুক ব্যক্তিরা। এরা মিথ্যে কথা আউড়ায় শুধুমাত্র এ দেশের মুসলমানদেরকে চাপে রাখার জন্য। মুসলিমদেরকে ক্ষমতাহীন করাটাই এদের মূল উদ্দেশ্য। গণতন্ত্রের এই শয়তানিটুকু ঢেকে রাখার জন্য কোন ফ্যাক্টচেকারকে দেখবেন না ১৬২ নাগরিকের বিবৃতিকে মূল ঘটনার সাথে ক্রস চেক দিতে। কয়েকদিন আগে আমি দেখিয়েছিলাম অনেকের হয়তবা মনে আছে, ধর্ষক শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে প্রথম আলো তাদের রিপোর্টে ধর্ষকের নাম আনেনি। এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র বাই ডিফল্ট মুসলিমদেরকে শত্রু বানায়। আসিফ মাহতাব এবং সরোয়ার স্যারকে খুনের হুমকি নিয়ে কোন মানবাধিকার কমিশনও উদ্বেগ জানাবে না। তারাও বামদের ন্যায় একই পথে হাটবে।
