বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি তার অন্যতম ভিত্তি ছিল আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের ওপর প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবে না এবং বিনা বিচারে বা কালো আইনের অধীনে কাউকে বন্দি রাখবে না।
মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলার বিচার ছাড়াই গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করে ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ ৯০ দিনের বিনাশ্রম আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে দেশের প্রচলিত আইনে তার প্রকাশ্য বিচার হতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা আলেমকে শুধুমাত্র নির্বাহী আদেশে ৩ মাসের জন্য আটক রাখা আমাদের লড়াইয়ের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।
বিগত সরকার এই ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’ ব্যবহার করে অসংখ্য মানুষের ওপর জুলুম করেছে। সেই একই প্রথা নতুন বাংলাদেশে দেখতে পাওয়াটা হতাশাজনক। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমি অবিলম্বে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ওপর থেকে এই আটকাদেশ প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।
কারও কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য নিয়ে যদি আইনি আপত্তি থাকে তবে তাকে দেশের প্রচলিত সুনির্দিষ্ট আইনে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই শুধুমাত্র নির্বাহী আদেশে ৩ মাসের জন্য আটক রাখা আমাদের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
ওনাকে কোনো মামলা ছাড়াই ৩মাসের জন্য ইন্টেরিম আটকে রাখছেন তাহলে ইন্টেরিমের পরের সরকার ওনাকে বাকি ৩০বছর কারাগারে রাখবেনা এর গ্যারান্টি কি?
আমাকে অনেকে অনেক কিছু বলতে পারেন তবে তার ব্যাপারটাও আমাদের কনসার্নে আসা উচিত।
