একজন নূরজাহান বেগম, ব্যক্তির ব্যর্থতায় রাষ্ট্রের ভোগান্তি! এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৪৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫০ শিশু। মোট ২৯৪ জন!!
নূরজাহান বেগম হলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। কিন্তু আসল পরিচয় তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তার নেতৃত্বাধীন এনজিও সরকারে এই যোগ্যতাতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মত মহা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান, এ সেক্টরে নুন্যতম কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়াই।
অভ্যুত্থান এর পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ছিলো তা হলো জুলাই বিপ্লবের আহতদের সর্বোচ্চ সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও নিহতদের ক্ষেত্রে মেডিকেল ভেরিফিকেশনে সঠিক দায়িত্ব পালন করা। শুরু থেকেই এই ব্যাপারেবতার শতভাগ অযোগ্যতা আমরা দেখতে পাই, একই সাথে এই মহা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার নুন্যতম আন্তরিকতাপূর্ণ আগ্রহ ও আমরা দেখতে পাইনাই৷
তার অযোগ্যতা, অবহেলা ও এ কাজে সঠিক ভাবে দায়িত্ব বন্টন ও দিক নির্দেশনা বা কর্ম পরিকল্পনা না হবার ফলে হাজার হাজার আহত মানুষ প্রচন্ড রকমের কষ্ট পেয়েছে, অনেকের ই সময়ের মধ্যে সু-চিকিৎসার ওভাবে অঙ্গহানি হয়েছে, অনেকেই চিরতরে এক চোখ কিংবা দুই চোখের ই দৃষ্টি হারিয়েছে। আর তার পাশাপাশি এই দায় ছিলো প্রধান উপদেষ্টা ও সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে সকল কিছু কুক্ষিগত করে রাখা যোগ্যতাহীন সমন্বয়কদের। যার মধ্যে জুলাই ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে থাকা সার্জিস আলম ও শহীদ মুগ্ধের ভাই স্নিগ্ধ অন্যতম।
আমরা বিগত দেড় বছর ধরেই অব্যাহত ভাবে তার ও তাদের এসব কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে গিয়েছি, পদত্যাগের দাবি জানিয়েছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি, যোগ্য ব্যাক্তিদের দায়িত্ব প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নাই!!
আর দায়িত্ব ছাড়বার পর একের পর এক তার দায়িত্ব অবহেলার চিত্র আমাদের সামনে আসছে এখন। এর মধ্যে সবচাইতে যে বিষয়টি পুরো দেশের বিশেষত শিশুদের পিতা পাতার জন্য যন্ত্রনা দায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যু হার শুন্য তে থাকা হামের মত অসুখে একের পর এক শিশুর প্রাণহানি!! নিজেদের সিন্ডিকেট ও গোয়ার্তুমির ফলে টিকা ক্যাম্পেইনে অবহেলা এবং বার বার নানা পক্ষ থেকে বলার পরেও টিকা না কেনার দায় মিটাচ্ছে এখন নাবালক শিশুরা প্রাণ দিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৪ হাজার ৯০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সংখ্যাটা প্রায় মহামারী পর্যায়ে চলে গিয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, জুলাই আহতদের চিকিৎসা ও শিশুদের টিকার ব্যবস্থা না করলেও তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য উপদেষ্টা থাকাকালীন ঠিকই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন (এটা অবশ্য এদেশে নতুন কিছু না)।
আমরা প্রশ্ন করতে চাই, এত বড় দায়িত্ব অবহেলা জনিত কারনে তাকে কি কোন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে? শাস্তি দেয়া হবে? ড. ইউনুস এসবের কোন জবাবদিহিতা করবেন নাকি এদেশের ক্ষমতায় যারা একবার যেতে পারে তারা সকল জবাবদিহিতা ও শাস্তির উর্ধ্বে থাকেন??
#PUSAB
