আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের কাছে তাশরীফ আনলেন। তখন তাঁর চেহারায় বড় হাসি-খুশী ভাব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসেছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার রব বলেছেন, আপনি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নন যে, আপনার উম্মাতের যে কেউ আপনার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে আমি তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবো? আর আপনার উম্মাতের কোন ব্যক্তি আপনার ওপর একবার সালাম পাঠালে আমি তার উপর দশবার সালাম পাঠাবো? (নাসায়ী ও দারিমী)[1]
[1] হাসান সহীহ : নাসায়ী ১২৮৩, দারিমী ২৮১৫। যদিও তাতে হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর আযাদকৃত দাস সুলায়মান নামে একজন মাজহূল (অপরিচিত) রাবী রয়েছে। কিন্তু মুসনাদে আহমাদে এবং فَضْلُ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ তে আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীসটির আরো দু’টি শাহিদ রয়েছে। আর হাকিমে আনাস (রাঃ) থেকে। তাই এ সকল শাহিদ-এর ভিত্তিতে তা সহীহ-এর স্তরে উন্নীত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: (وَالْبِشْرُ) হাস্যোজ্জ্বল, আনন্দ ও উৎফুল্লতার চিহ্ন। (فِـىْ وَجْهِه) বাহ্যিক চামড়ায় নাসায়ীর রিওয়ায়াতে এসেছে, ‘‘আমরা (সাহাবীরা) বললাম, আপনার চেহারায় আনন্দ দেখছি।’’
আর দারিমীতে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার চেহারায় আনন্দ দেখা যাচ্ছে। কোন এক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার চেহারায় উৎফুল্লতা দেখছি ইতিপূর্বে এমনটি দেখিনি।’’
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতিপালক বলেছেন, এটা কি আপনাকে সন্তুষ্ট করবে না?
ইমাম ত্বীবী বলেন, এ সন্তুষ্টি অংশবিশেষ, যেমন আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ
‘‘আপনার পালনকর্তা অতিসত্ত্বর দান করবেন, অতঃপর আপনি সন্তুষ্ট হবেন।’’ (সূরাহ্ আয্ যুহা ৯৩ : ৫)
আর সত্যিকার অর্থে এ সুসংবাদ উম্মাতের প্রতিও বর্তায় আর হাদীসটি প্রমাণ করে দরূদের মতো সালামও তাঁর ওপর পাঠ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা সালাম বা শান্তি প্রেরণ করেন। তার ওপর যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাম প্রেরণ করে যেরূপ তিনি দশবার রহমাত বর্ষণ করে ঐ ব্যক্তির ওপর যে ব্যক্তি একবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ বা রহমাত প্রেরণ করেন।
