Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর২০ বছর পর জমি ফিরে পান বসনীয় মুসলিম

২০ বছর পর জমি ফিরে পান বসনীয় মুসলিম

বেআইনিভাবে সার্ব নেতাদের নির্দেশে এক বসনীয় মুসলিম মহিলার বাগানে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি খ্রিস্টান অর্থডক্স চার্চ। ১৯৯৫ সালে বসনিয়ার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই নিজের জায়গার দখল হারিয়েছিলেন ৭৯ বছর বয়সী ফাতা অর্লোভিচ। এবার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াই জিতে নিজের হারানো বাগানের জমি ফিরে পাচ্ছেন ফাতা। আদালতের নির্দেশে শনিবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সরকার সার্বদের হাতে তৈরি সেই চার্চটি ভেঙে দিয়েছে। ফাতার আইনজীবী রুসমির কারকিন সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, শনিবার সকাল থেকেই চার্চটি ভেঙে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালে ইউরোপের মানবাধিকার আদালত এক ঘোষণার মাধ্যমে অবৈধ ও বেআইনি চার্চটিকে ভেঙে ফেলার আদেশ জারি করে। আদালত জানায়, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই আদেশের পালন করতে হবে বসনিয়ার সরকারকে। যদিও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা কর্তৃপক্ষ এই কাজ করতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময় নিয়ে ফেলে।

প্রসঙ্গত, সেব্রেনিসার পার্শ্ববর্তী কোঞ্জেভিচ পোলজে এলাকায় স্বামী ও সাত সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন ফাতা অর্লোভিচ। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়ার যুদ্ধে তিনি তার স্বামী সাচিরসহ ২২ আত্মীয়কে হারান। এরপর উদ্বাস্তু হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেছেন ফাতা, তবে নিজের বসতভূমিকে কখনই পরিত্যাগ করেননি। আমেরিকায় বসবাসরত সন্তানরা বারবার তাঁকে ডেকে পাঠালেও দেশত্যাগ করেননি ফাতা অর্লোভিচ। বসনিয়ায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর ১৯৯৯ সালে ফাতা নিজের গ্রামে ফিরে দেখেন তার বাগানে একটি চার্চ নির্মিত হয়েছে। এরপরই তিনি আইনি পথে হেঁটে মামলা করেন। অনেকে তাঁকে অর্থের বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহারে রাজি করাতে চেয়েও পারেননি। শেষপর্যন্ত ২০১০ সালে ১১ বছর ব্যাপী চলা আইনি যুদ্ধে জিতে যান এই বসনীয় মুসলিম মহিলা। তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়িত হতে সময় লেগে গেল আরও ১১ বছর। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের রায়ের আগে বসনিয়ার বিজেলজিনা আদালত চার্চটিকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেও সেদেশেরই অপর অঝক রিপাবলিকা সার্পস্কার সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়কে নস্যাৎ করেছিল। তাই এতদিন ঝুলে ছিল মামলাটি। অবশেষে ইউরোপীয় আদালতের নির্দেশে বেআইনি চার্চটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বসনিয়া সরকার। এনডিটিভি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 − 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য