Monday, April 27, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াশাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর (رحمه الله) শেষ অসিয়ত

শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর (رحمه الله) শেষ অসিয়ত

শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীর (رحمه الله) শেষ অসিয়ত ও একটু আবেগঘন মুহুর্ত……


নিশ্চয়ই, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্-র জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহ্-র কাছে আশ্রয় চাই নিজেদের মন্দ নফস থেকে ও মন্দ কর্মগুলো থেকে। যাকে আল্লাহ্ পথ দেখান কেউ তাকে বিপথে নিতে পারে না। এবং যাকে তিনি সুপথপ্রাপ্ত হওয়ার তৌফিক দেননি কেউ তাকে সুপথে আনতে পারবেনা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা’বুদ নেই, অদ্বিতীয়, যার কোন শরীক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা এবং প্রেরিত রসূল।


শুরু করছি,
পৃথিবীর বুকে সমস্ত মুসলিমদের এবং বিশেষ করে আমাদের ভাইদের যারা আমাদের সাথে একত্রে কাজ করেন এবং এই পবিত্র ডাকে (দাওয়াহ্) একজোটে কাজ করেন, দাওয়াত যা কিনা কিতাব (ক্বুরআন) এবং সুন্নাহের উপর যা সালাফে স্বলেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী (দেয়া হয়), তাদের প্রতি আমার উপদেশ থাকবে।


প্রথমত, আমি তাদের এবং আমাকে উপদেশ দিবো তাকওয়াল্লাহু তা’আলার সাথে (অর্থাৎ আল্লাহ্-র প্রতি ভয় রাখা), এরপর উপকারী ইল্ম বৃদ্ধি করার (চেষ্টা করা)। যেমনটি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেন, وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ, অতএব, আল্লাহ্কে ভয় করো এবং আল্লাহ্ই তোমাদের শিক্ষাদান করেন। [সূরা আল বাক্বরা, ২৮২]


এবং তাদের ন্যায়নিষ্ঠ ইল্মের সাথে যুক্ত হতে, যা আমরা সবাই ধারন করতে চাই, যা ক্বুরআন অথবা সুন্নাহ্ এর যেকোন একটি হতে পারে এবং যা কিনা সালাফে স্বলেহিনদের মানহাজ অনুযায়ী (হতে হবে)। তাদের ইল্মের সাথে সংযুক্ত হতে এবং সেটা বৃদ্ধির আশা রাখতে, যথাসম্ভব, সেই ইল্মের উপর আমল করা। যেন এটি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণস্বরূপ হিসেবে না হয় বরং তাদের পক্ষে প্রমাণস্বরূপ হয়।


يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
যে দিন কোন ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি উপকারে আসবে না, কিন্তু সে ব্যতিত যে পরিষ্কার হৃদয়ে (শির্কমুক্ত এবং নিফাকমুক্ত) নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। [সূরা আশ শূরা, ৮৮-৮৯]


এরপর, আমি তাদের (ভাইদের) সতর্ক করবো তাদের সাথে যোগসূত্র থেকে যারা নানান বিষয়ে সালাফদের দেখানো পথ ছেড়ে দিয়েছে। এবং নিশ্চয়ই তারা সংখ্যাধিক, তারা খুরুজ (বিচ্ছিন্ন হওয়া), মুসলিমদের তরিকা এবং জামায়াহ (মূল দল) শব্দে একত্রিত। বরং আমরা তাদের নির্দেশ দিবো যেমনটি তিনি আলাইহিসসালাতু ওয়াসসালাম সহীহ হাদীছে বলেছেন, “এবং সেটা হও, হে আল্লাহ্-র বান্দা, ভাইয়েরা! যেমনটি আল্লাহ্ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।” [সহীহ আল জামী’, ৪০৭২]


এবং এটি হলো যা আমি গত বৈঠকে বলেছিলাম, আমি আবারও বলছি, এবং পুনরাবৃত্তিতে উপকার রয়েছে, এটা আমাদের উপর (নির্ভরশীল) যে দাওয়াতের ক্ষেত্রে নমনীয়তা এবং ধীর-স্থিরতা বজায় রাখবো (তাদের সাথে) যারা আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে এবং আমরা অবশ্যই সবসসবসময় ও সারাজীবন তাঁর তাবারাকা ওয়া তা’আলার সেই কথার উপর অটল থাকবো:
ٱدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلْحِكْمَةِ وَٱلْمَوْعِظَةِ ٱلْحَسَنَةِ وَجَٰدِلْهُم بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ
আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের সাথে ও উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন আহসান উপায়ে।
[সূরা আন নাহল, ১২৫]


এবং আমাদের এই হিকমতের ব্যাবহার বা প্রয়োগের হক্বদার সবচাইতে বেশি তারা, যে কিনা আমাদের সাথে আমাদের আক্বিদা এবং চিন্তাধারায় সবচাইতে বেশি বৈরিতা পোষণ করে, যাতে করে আমরা হক্বের দিকে দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা, যা কিনা আল্লাহ্ আমাদের নসীব করেছেন এবং আল্লাহ্-র পথে সবচাইতে অনুত্তম উপায়ে দাওয়াতের মাঝে মিলিয়ে না ফেলি।


অতএব, আমি আশা করি সমস্ত মুসলিম মুলকের আমাদের সকল ভাইদের, ইসলামের নীতি নৈতিকতার থেকে নম্র আচরনের। এরপর, আল্লাহ আযযাওয়াযালের মুখোমুখির প্রতি আশা রাখা (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহ্-কে খুশি করার উদ্দেশ্যে)। কোন পুরষ্কার বা ধন্যবাদের (মানুষের থেকে) ইচ্ছা না রাখা। এবং হয়তো এতটুকুই যথেষ্ট, এবং সমস্ত প্রশংসা রব্বুল আ’লামীনের।


[সাথে যে ছাত্র ছিলেন, তিনি বলছেন]
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্-র, সালাত ও সালাম পেশ করছি তাঁর রসূলের উপর, তার (রসূলের) পরিবারের প্রতি, সাহাবীদের প্রতি এবং তার খাদিমদের প্রতি। আমাদের পক্ষ থেকে জাজাকাল্লাহু খইরান ইয়া শাইখুনা, এই উত্তম উপহারের জন্য যা কিনা আপনি পূর্ব পশ্চিমের মুসলিমদের জন্য দিয়েছেন এবং আপনি যিনি কিনা এখানে বৈঠকে বসলেন, আমরা আপনার মধ্যে দেখছি, সুস্থ ও সবলতার সাথে বসেছেন। আমরা আল্লাহ তাবারকা ওয়া তা’আলার কাছে সাহায্য চাই, যাতে তিনি আমাদের আমাদের জীবনে হিদায়াতের উপর রাখেন এবং আমাদের সেটা মৃত্যু অবধি রাখেন। এবং আপনাকে আমাদের ইমাম বানিয়ে দিক, যেমনটি আপনি ছিলেন এবং প্রমাণ করেছেন। আমি, সত্য হলো এই বৈঠকে বসে আমি এসব শুনছি, এবং আপনি যেটির উপর আছেন, আপনাকে আমি দেখছি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত, এবং আপনার কথাগুলো বলতে কষ্ট পাচ্ছেন। ওয়াল্লাহি, আমি আপনাকে দেখেছি যেমন, এবং আমি আপনাকে চিনি ৩০ বছরেরও বেশি। বক্তব্য হলো বক্তব্য, শব্দতো শব্দই, এবং সিদ্ধান্ত হলো সিদ্ধান্ত। কিন্তু এটি, যদিও শরীর দূর্বল হয়ে গিয়েছে কিন্তু সুস্থ হৃদয় এখনও পরিষ্কার এবং চলমান… (ছাত্রটি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে)।


ওয়াল্লাহি, মনে হচ্ছে আমি এখনই আপনাকে প্রথম শুনলাম, এবং আমি এটি বা এটির মতন, অর্থাৎ আগেও শুনেছি বারংবার। এটি হলো, যার শব্দগুলো – হৃদয়কে অকলুষিত করে – যেন এটি আসমান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে (শব্দগুলো) আপনার ললাটে এসছে, এবং আপনার ললাট থেকে বের হচ্ছে গোছানো এবং প্রতিষ্ঠিত, যা আমরা জানি এ যুগের আহলুস সুন্নাহ্-র ইমাম থেকে শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী, শাইখুনা, আহসানুল্লাহু ইলাইক।


বঙ্গানুবাদ: মুহাইমিনুর রহমান স্নিগ্ধ
সম্পাদনায়: Omar Faruk Raihan

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

six − four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য