Tuesday, April 21, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়াইলম হাসিলের পথ ও পদ্ধতি

ইলম হাসিলের পথ ও পদ্ধতি

❝আমীরে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নিজ কানে নবী (ﷺ)-কে একথা বলতে শুনেছি যে —
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَالْفِقْهُ بِالتَّفَقُّهِ، وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ”
“হে লোক সকল! ইলম হাসিল হয় শেখার মাধ্যমে, ফিক্বাহ্ হাসিল হয় গবেষণার মাধ্যমে, আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ফিক্বহ (দ্বীনের গভীর জ্ঞান) দান করেন। إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ {আল্লাহকে তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলিমরাই ভয় করে চলে। — (সূরা ফাতেরঃ ২৮)। — [১]


উপরিউক্ত হাদীসে নবী (ﷺ) চারটি জিনিস বর্ণনা করেছেন, আর সত্যিকারার্থে এটা ভালোভাবে বুঝবার মতো বিষয়। আমীরে মু’আবিয়াহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, إِنّمَا الْعِلْمُ بِالتّعَلّمِ. অর্থাৎ ইলম শেখার মাধ্যমে হাসিল হয়। এখানে ‘শেখার’ উদ্দেশ্য হল, কোন উস্তাযের সামনে (সরাসরি) বসে ইলম শিখবে, স্রেফ তখনই এই ইলম তোমার কুক্ষিগত হবে। দেখুন, নবী (ﷺ) এই হাদীসের মাধ্যমে ইলম এর ফযীলত বর্ণনা করে দিয়েছেন আর তার সাথে সাথে ইলম হাসিলের পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইলম শেখার মাধ্যামে হাসিল হয়, আর শেখার উদ্দেশ্য হল মু’আল্লিম তথা উস্তায থেকে শেখা। আজকের যুগে এ-জিনিসটার খুবই অভাব দেখা দিয়েছে। অথচ বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও উপকারী ইলম স্রেফ ওটাই হয় — যা কোন আলিম থেকে (সরাসরিই) শেখা হয়। কিতার তথা আল- ক্বুর’আন ও সুন্নাহর প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, কোন দ্বীনদার বা শরীয়তের (বিধি-বিধানের) উপর আমলকারী, উত্তম চরিত্রের প্রজ্ঞাবান আলিম হতে হবে — আর তাঁর কাছে বসে আপনি যদি ইলম হাসিল করেন, তবেই বিশুদ্ধ ও পরিপূর্ণ ইলম হাসিল হবে।
.
সব আহলে ইলম তথা সালাফ (পূর্ববর্তী) ও খালাফ (পরবর্তী) সবাই বলে থাকেন,”স্রেফ ঐ ইলম-ই কবুলযোগ্য, বিশুদ্ধ উৎস থেকে আগত, উপকারী ও পরিপূর্ণতা পেয়ে থাকে যা কোন ছাত্র সরাসরি তাঁর কোন যোগ্য উস্তায অথবা প্রসিদ্ধ দাঈ থেকে হাতে-কলমে শিখে থাকে।” আর যদি কোন ব্যক্তি উস্তায ছাড়া ইলম হাসিল করে, তাহলে সে উম্মাহর উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করবে। আজকের দিনে এই ফিতনাটা খুবই সাধারণ হয়ে গেছে। লোকরা উস্তায থেকে ইলম হাসিলের বিষয়টা তুচ্ছজ্ঞান করতঃ ইউটিউব, ইন্টারনেট আর নিজস্ব গবেষণার ভূত পেয়ে বসেছে। এটা অনেক বড়ো একটা ফিতনা আর এদেরকেই উম্মতের জন্য ফিতনার নিশানা বানানো হয়। আপনি যদি পেছনের দিকে তাকান (পূর্বযুগে ফিরে যান) তাহলে আপনি দেখবেন, উম্মাহর ভেতরে যত ফিতনা প্রকাশ পেয়েছে, বিশেষ করে হিন্দুস্তানের ভেতরে (ভারত উপমহাদেশে) ইংরেজের আমল থেকে আজ পর্যন্ত বেশিরভাগ ফিতনার পেছনেই ঐ ব্যক্তি রয়েছে, যে-কিনা নিজেকে নিজে আলিম দাবি করে অত:পর বলে যে, আমি গবেষণা করে থাকি’, অথচ উস্তাযের সামনে বসে কখনো ইলম হাসিল করেনি।
.
যদি উস্তাযের সামনে কিতাব তথা আল-ক্বুর’আন ও সুন্নাহ্ তথা হাদীস শেখার জন্য বসতো, সরাসরি উস্তায থেকেই ইলম হাসিল করত — বিশ্বাস করুন স্রেফ তখনই আপনার ইলম আপনাকে হিফাযত করত আর মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করত। যদি আরবী ভাষাই কেবল ইলম শেখার জন্য যথেষ্ট হত, তাহলে তো সাহাবায়ে-কেরামের ভাষা আরবিই ছিল। তো, আল্লাহ্ তা’আলা নবী (ﷺ)-কে পাঠানোর কি প্রয়োজন ছিল? লোকেরা তখন নিজ থেকেই ক্বুর’আনকে বুঝে নিত, কিন্তু না এটা দ্বীন, আর এটাকে ‘বুঝা’ ও ‘শেখা’ উস্তাযের উপর নির্ভরশীল। তাইতো উস্তায থেকেই ইলম হাসিল করতে হবে। কিছুটা সময় বের করে কোন আলিমের সামনে বসুন, উনাদের সাথে (নিয়মিত) যোগাযোগ রাখুন, উনাদের কাছে আসা-যাওয়া করুন, আর উনাদেরই জিজ্ঞেস করুন। যেকোনো সমস্যা সামনে আসলে নিজের উস্তায তথা আলিমকে জিজ্ঞেস করুন যাতে তাদের অনুসরণকল্পে আপনার (ইলমের) পরিশুদ্ধি হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, إِنّمَا الْعِلْمُ بِالتّعَلّمِ. অর্থাৎ ইলম শেখার মাধ্যমে হাসিল হয়।” তারমানে যদি উস্তায ছাড়া ইলম শেখা হয় তা কখনোই পরিপূর্ণ ও বিশুদ্ধ হবেনা। সর্বদা সেই ইলমে ত্রুটি থেকে যাবে, আর উম্মাহকে উপকারের চেয়ে ক্ষতিগ্রস্তই বেশি করবে।❞
.
.তথ্যসূত্র:
.
১.— [সহীহ বুখারী: ১/২৪]।
.
— শাইখ জাফার-উল হাসান মাদানী (হাফিযাহুল্লাহ্)।
.
গৃহীত:
https://youtu.be/s39YQAn2BuU
.
.
.
— অনুবাদক: আখতার বিন আমীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − five =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য