Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরকরোনাকালীন ডায়াবেটিস রোগীর শারীরিক শ্রম ব্যবস্থাপনা

করোনাকালীন ডায়াবেটিস রোগীর শারীরিক শ্রম ব্যবস্থাপনা

করোনাভাইরাসের হাত থেকে কাউকে রক্ষা করার পদ্ধতি হিসেবে নিজেকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখাই আপাতত সবচেয়ে কার্যকরী বিবেচিত হচ্ছে। অতি জরুরি না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। এছাড়া গত ২৩ জুলাই থেকে সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। তাই জীবন যাত্রায় চলে এসেছে অনেক বিধিনিষেধ। এসব বিধি নিষেধ আমাদের জীবন রক্ষার জন্যই। অন্যান্য রোগীদের মতো ডায়াবেটিস রোগীদেরও করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি। এমনকি কভিড ১৯-এ তারা বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। আবার কভিড ১৯-এ আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকিও তাদের বেশি; ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ যাদের ভালো নয়- তারা আরও অতিরিক্ত শঙ্কা বহন করছে। এসব বিবেচনায়, এ কভিড-১৯ মহামারীকালে ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ (রক্তের গ্লুকোজসহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা) খুবই পরিপূর্ণভাবে করার বিশেষ তাগিদ থেকে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এ সময় নিয়মিত ও পরিমিত শারীরিক শ্রম সম্পাদন।

করণীয় (আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের নির্দেশনা মোতাবেক): গৃহে/বাসায় হাঁটুন * বাসাটি তেমন বড় না হলে ছাদে হাঁটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যদি Bangladesh Pratidinছাদে অনেক বেশি মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। * একবারে ৩০ মিনিট হাঁটতে না পারলে ৩ বার হাঁটুন : সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের দেড় ঘণ্টা পর ১৫ মিনিট (না পারলে ১০ মিনিট) হাঁটুন। * হাঁটা শুরুর আগে (ওয়ারমিং আপ) ও পরে (কুলিং ডাইন) ৫-১০ মিনিট খালি হাতের ব্যায়াম করুন। * যাদের পক্ষে সম্ভব ট্রেডমিল মেশিন, ঘরে ব্যবহারযোগ্য সাইকেলে ব্যায়াম করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ২০ মিনিটের ব্যায়ামই যথেষ্ট। * দেয়াল বা কোনো বড় শক্ত কাঠামোর বিপরীতে হাত ও পা দিয়ে চাপ দিয়ে কয়েক সেকেন্ড শরীরের ওজন ধরে রাখুন (রেসিওস্ট্যান্স এক্সারসাইজ) * যুবক-যুবতীরা রশি লাফ (দিনে ৩০০ বারের মতো) দিতে পারেন * অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) নড়াচড়া (মুভমেন্ট) বারাবার ব্যায়াম করতে হবে (যেমন- হাঁটু বাঁকা ও সোজা করা, কোমর, ঘাড়, গোড়ালি, কনুই ইত্যাদি জয়েন্টের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য)।

বর্জনীয় : এ সময়ে বাইরে হাঁটা, পাবলিক ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, খেলার মাঠ ইত্যাদি, কোনো দিনই যেন ব্যায়াম বাদ না পড়ে বা একদিন হঠাৎ করে অনেক বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।
একটি তথ্য মনে রাখা দরকার, পরিমিত শারীরিক শ্রম শুধু ডায়াবেটিসের জন্যই নয় বরং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি, সুস্বাস্থ্য এবং এ করোনাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো- বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে সুনিশ্চিতভাবে। তাই, সবার জন্যই গৃহে খালি হাতের ব্যায়ামসহ রেসিস্ট্যান্স দলভুক্ত ব্যায়ামগুলো নিয়মিত সম্পাদন করা উপকারী হবে। সবচেয়ে বড় কথা এ সময় আমাদের সবাইকে যথেষ্ট সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। এছাড়া মনে রাখবেন প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম। বিশেষ করে লকডাউনের এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া মোটেও ঠিক নয়।

লেখক :ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − nineteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য