Wednesday, February 28, 2024

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

হোমনিবন্ধবিবিসির শহীদের সংজ্ঞা

বিবিসির শহীদের সংজ্ঞা

শহীদের সংজ্ঞা আবার আমাদেরকে নূতন করে শিখতে হবে বৈকি। বাংলা ভাষায় আত্তস্থ হয়ে শহীদ নূতন রূপ পেয়েছে। এতদিন জেনে এসেছি কোন নূতন শব্দ অভিধানে যোগ হলে তার একটা আক্ষরিক ও উৎপত্তি স্থলের ব্যাখ্যা থাকে, যার ফলে সেই শব্দ উপযুক্ত স্থানে ব্যবহৃত হয় এবং শব্দটি তার মর্যাদা পায়। যেমন, মীর জাফর, প্রকৃতপক্ষে একসময় তা নাম অর্থে ব্যবহৃত হলেও পরে মীর জাফরের দুষ্কর্মের ফলে আজ বেঈমানি অর্থে প্রচলিত, ঠিক রাজাকারও তাই। এইরুপে শহীদ শব্দও আজ তার মর্যাদা হারানোর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

শহীদ শব্দটি আরবী শব্দ, শহীদ ইসলামীক পরিভাষা ও দৃষ্টিতে খুবই মর্যাদাবান ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি শব্দ। এটি ইসলামের নিজস্ব পরিভাষা। শহীদ মৃত্যুবরণ করার সাথে সাথেই জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করতে থাকে। এই শর্তে যে সে এক আল্লাহ্‌র উপর ঈমান এনেছিল। শহীদ কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিভাষা নয়।

*** অক্সফোর্ড অনলাইন ডিকশনারি অনুসারে: বলা হয়েছে শহীদ শব্দটি এসেছে এরাবিক শব্দ থেকে যার অর্থ a Muslim martyr (অন্য কোন ধর্মের নয়)।

— সুতরাং, শহীদ শব্দটা মুসলমানদের জন্যই প্রযোয্য।

*** এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে: এখানে বলা হয়েছে এটা একটা ইসলামিক পদমর্যাদা। আরও বলা হয়েছে শহীদ শব্দটার অর্থ সাক্ষ্য প্রদানকারীর মৃত্যু। (যার ব্যাখ্যা কুরআন ও হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)

— সুতরাং, শব্দটা মুসলমানদের জন্যই প্রজোয্য।

*** উইকিপিডিয়া অনুসারে: শহীদ শব্দটি হল একটি এরাবিক শব্দ, ইহা এসেছে কুরআনিক এরাবিক শব্দ হিসেবে। ইহার অর্থ হল সাক্ষ্য দানকারী। এই সম্মানসূচক শব্দটা কেবল সে সব মুসলমানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যারা তাদের জীবন সম্পূর্নরুপে ধর্মীয় নির্দেশনার (যারা সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মহানবী স: আল্লাহর একমাত্র রসূল) কাজে উৎসর্গ করেছেন অথবা তাদের দেশ অথবা পরিবারের জন্য জীবন দিয়েছেন।

এখানে আরও বলা হয়েছে শহীদ কথাটা দ্বারা witness (অর্থাত সাক্ষ্যদানকারী – যারা সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মহানবী স: আল্লাহর একমাত্র রসূল এবং এই সাক্ষ্য রক্ষার্থেই নিহত হয়)

[এখানে আরও বলে রাখা দরকার শহীদ শব্দটা নিজস্ব অলংকারিক আরবী শব্দ, ইহার ব্যকরনগত তাৎপর্য আমাদের বুঝতে হবে। শহীদ শব্দকে বুঝাতে witness আর martyr শব্দদ্বয় ব্যবহার করা হয়। শহীদ শব্দটা কখনই এই শব্দদ্বয় থেকে আসে নি বরং এই শব্দ দুটিই শহীদের তাৎপর্য বুঝাতে ব্যবহার করা হয় (যদিও এই দুটি শব্দ দ্বারাও পুরোপুরি তাৎপর্য প্রকাশ পায় না) – দি ফার্ষ্ট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম।]

*** দি ফার্ষ্ট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, ভলিউম – ০৭, পৃষ্টা – ২৫৯, ২৬০: এখানে বলা হয়েছে শহীদ শব্দটা প্রায়ই কুরআনে ব্যবহার করা হয়। এই বইয়ে ইহার অর্থ প্রকাশের জন্য witness আর martyr ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার বলা হয়েছে যে martyr দ্বারা এ শব্দের অনুরুপ বা সমান্তরাল কোন অর্থ প্রকাশ পায় না।

— সুতরাং, শব্দটা মুসলমানদের জন্যই প্রজোয্য।

উপরের তথ্য-প্রমান আর রেফারেন্সের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে শহীদ শব্দটা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রজোয্য। উপরে যে সব রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে তার বেশীর ভাগই অমুসলিমদের তৈরীকৃত। যেহেতু মুসলমানরাই শহীদ শব্দটার স্বত্তাধিকারী এবং মুসলমানরা যেহেতু কুরআন-সুন্নাহ-হাদীস মেনে চলে সেহেতু কুরআন আর হাদিস যদি বলে অমুসলীমদের শহীদ বলা যাবে তাহলে আমরা তাকে শহীদ বলব আর কুরআন-হাদীস যদি বলে অমুসলীমদের শহীদ বলা যাবে না তাহলে আমরা তাই মেনে নিব। আসুন এবার কুরআনিক আর হাদিসের মাধ্যম বিশ্লেষন করি আসলেই অমুসলীমরা শহীদ কিনা?

কুরআন বলছে:

আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। – (Al-Hadid: 19)

[আমরা জানি অমুসলীম মানেই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাস, সুতরাং তারা কোনভাবেই শহীদ বলে বিবেচিত হবে না।]

শহীদ কাকে বলে, নীচের হাদিস তার প্রমান –

– হযরত সাঈদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-”যে ব্যক্তি (মুসলমান) নিজ সম্পত্তি রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ পরিবার রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ। অথবা প্রাণ রক্ষায় কিংবা দ্বীন রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৭৭৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৬৫২)

– হযরত জাবের বিন আতীক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন – আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ১-মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ২-পানিতে নিমজ্জিত শহীদ। ৩-শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ। ৪-পেটের রোগ মৃত্যুবরণকারী শহীদ। ৫-আগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি শহীদ। ৬-যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায় সেও শহীদ। ৭-সন্তান প্রসব করতে মারা যাওয়া নারীও শহীদ। {মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩}

শহীদ কাকে বলে? শহীদ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যাকে কাফেররা হত্যা করে যেকোন কারণেই হোক। অথবা ইসলামী খিলাফতের বিরুদ্ধাচরণকারী, অথবা ডাকাত, অথবা স্বীয় বাড়িতে চোর হত্যা করে, অথবা যাকে কাফেরদের সাথে অনুষ্ঠিত জিহাদের ময়দানে পাওয়া যায়, সাথে সাথে তার গায়ে থাকে কাটার দাগ, বা ক্ষত কিংবা পোড়ার চিহ্ন, কিংবা চোখ বা কান থেকে রক্তক্ষরণ অবস্থায়, মুখ বা কান থেকে নয়। {কেননা কান বা মুখ থেকে আঘাত ছাড়াও রক্ত বের হতে পারে} অথবা যাকে হত্যা করেছে কোন মুসলমান ইচ্ছেকৃত জুলুম করে, ভুল করে নয়। হত্যা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভার দিয়ে নয়।উক্ত ব্যক্তির নাম শহীদ। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। {ফিক্বহুল ইবাদাত, কিতাবুস সালাত, ১০ম অধ্যায়, জানাযা-১/১২৩}

একই ভাবে ‘শহীদ’ বাংলা শব্দের ক্ষেত্রে বলা যায় বাংলা শব্দটিও ধার করেছে। এটা এখন আমাদের নিজের পরিভাষা, কিন্তু পরিভাষাটার সম্পূর্ন সমার্থক অর্থ আমরা পাই নি বলে তার অপপ্রয়োগ করব তা তো হতে পারে না । মরনের ক্ষেত্রে – শহীদ শুধু একটাই না বাংলায় বুঝানোর জন্য কিন্তু আরও সমার্থক শব্দ আছে যেমন- আত্মউৎসর্গ, জীবনাহুতী, মৃত্যু, নিহত, মারা যাওয়া ইত্যাদি। আপনি এক্ষেত্রে যদি শহীদ শব্দ ব্যবহার করেন তাহলে যারা আসলেই শহীদ হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে কি ব্যবহার করবেন? সুতরাং যেই ব্যক্তি যে শব্দ পাবার যোগ্য তার ক্ষেত্রে সে শব্দই প্রয়োগ করা উচিত নয় কি?

এবার আসি মুল প্রসঙ্গে, গত ২৫শে মার্চ ২০২১ বিবিসি নিউজের বাংলা সংস্করণে মেঘনা গুহঠাকুরতা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তার নিজ বাবা প্রসঙ্গে বলেন ৭১ এর পাক হানাদারের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন, বিবিসিও তার কথায় সায় দিয়ে অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে শহীদ উপাধিতে ভূষিত করেন। এখানেই বাধে বড় ধরনের সংশয়। না হয় ডঃ মেঘনা গুহঠাকুরতা অতি আবেগী হয়ে বাবাকে শহীদ বলে ফেলেছেন, কিন্তু বিবিসি কি ভাবে এই ভুল করে, তাদেরতো রয়েছে মহা পণ্ডিত বাংলা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। শহীদ বললো আর আল্লাহ্‌র কাছে তা হয়ে গেল, এত সহজ? এতো শুধু দুনিয়ার ল্যাঠা নয়, আল্লাহ্‌র কাছেও তার জবাবদিহি করতে হবে, নাকি বিবিসিতে কোন মুসলিম সাংবাদিক নাই?

বিবিসি তার পরেও তাদের ভুলতো স্বীকার করলোই না বরং যারা তাদের একটু বাংলা বনাম ধর্মীয় জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করলো, তাদেরকে ব্যান করে দিল। তাদের চরিত্র অনেকটা কাকের মত, সে চোখ বন্ধ করে টয়লেট সারে, ভাবে কেউই দেখে নাই। বিবিসির বাংলা জ্ঞান যে অতি উচ্চ মার্গের তা তাদের লেখা দেখেই বুঝা যায়, গুহঠাকুরতা দুই জায়গায় দুই রকম লিখেছে।[i]

আমাদের কাছে ৭১ এর সকল মুক্তিযোদ্ধা যারা দেশের জন্য আত্মউৎসর্গ করে গেছেন তারা সবাই অবশ্যই অধিক ও বিশেষ সম্মানের পাত্র, তাদের সবাইকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা ও মর্যাদা দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তথ্য সূত্রঃ https://www.facebook.com/625413067523086/posts/885004811563909/


[i] https://www.bbc.com/bengali/news-56519702

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

18 + thirteen =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য