ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে সিরিয়া। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দেশের পরিস্থিতি অন্যান্য আরব দেশের মতো নয় এবং গোলান হাইটস ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বুধবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু।
সম্প্রতি সউদী আরবের ম্যাগাজিন আল-মাজাল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-শারা এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আব্রাহাম চুক্তি মূলত সেই দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছিল যাদের ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত ছিল না। কিন্তু সিরিয়ার পরিস্থিতি আলাদা, কারণ ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল করে নিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তিতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা নেই।
২০২০ সালে মার্কিন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে সিরিয়া এই চুক্তির অংশ নয় এবং প্রেসিডেন্ট আল-শারা জানিয়েছেন, দামেস্ক এখন দক্ষিণ সিরিয়াকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য তারা ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘ-মধ্যস্থ প্রত্যাহার চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে যাচ্ছেন আল-শারা। এটি হবে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্টের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগদান। আল-শারা বলেন, “জাতিসংঘের এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিজেই একটি বার্তা, সিরিয়া আর বিচ্ছিন্ন নয় এবং আমরা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফিরছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া, গত মে মাসে সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়াকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে আল-শারা জানিয়েছেন, গোলান হাইটস ইস্যু না মিটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
