Monday, April 20, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরআন্তর্জাতিকইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ৯০ ফিলিস্তিনি, গাজার যুদ্ধবিরতির নতুন অধ্যায়

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ৯০ ফিলিস্তিনি, গাজার যুদ্ধবিরতির নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশী সময় ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বর্বরতার পর অবশেষে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা যুদ্ধের অবসান শেষে কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি। চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকা ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।

মুক্তি পাওয়া সবাই নারী ও শিশু।গাজায় হামাসের হাতে বন্দি থাকা তিনজন ইসরায়েলি নাগরিককে মুক্তির পর এই ঘটনা ঘটে।এই বন্দি বিনিময়ের ঘটনা যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে সংঘটিত হয়। ফিলিস্তিনিরা আশা করছেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষের অবসান ঘটাবে।সোমবার (২০ জানুয়ারি)এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা ও বিবিসি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে ৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের জেল সার্ভিস।

এর আগে রোববার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে হামাস রেড ক্রসের কাছে তিন ইসরায়েলি বন্দিকে তুলে দেয়।পরে তাদেরকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামাস বলছে, গাজা থেকে প্রতিজন বন্দির মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে ৩০ জন করে ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম দিনেই ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নারী বা শিশু। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে রয়েছে খালিদা জারার নামের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) এর নেতা।

ফিলিস্তিনি বন্দি ও সাবেক বন্দি বিষয়ক কমিশন এবং প্যালেস্টানিয়ান প্রিজনার্স সোসাইটি অনুসারে, বর্তমানে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।তবে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় অবরুদ্ধ এই উপত্যকা থেকে ঠিক কত ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে সেই সংখ্যা অজানা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ১৫ মাস ধরে চলমান বোমা বর্ষণ চালিয়ে যায়। এতে প্রায় ৪৬,৯১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,১০,৭৫০ জন আহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি ইসরায়েলি বন্দি হন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হামাস তিনজন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেয়।

গাজার বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসছেন এবং খাবার ও চিকিৎসা সহায়তার আশায় অপেক্ষা করছেন। যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে প্রথম ট্রাকগুলো গাজায় পৌঁছে গেছে।

ফিলিস্তিনিদের পরিবারগুলো বন্দি মুক্তির এই ঘটনাকে স্বস্তির মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শান্তি চুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলো সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা জরুরি। শান্তি, মানবিকতা এবং সমাধানের জন্য এই যুদ্ধবিরতি নতুন আশার বার্তা বহন করছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + 14 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য