Friday, April 24, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসএকটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ হাদিস জেনে নেই!!!

একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ হাদিস জেনে নেই!!!

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا» . فَقَالَ رجلٌ: يَا رَسُول الله أوَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ يُنَزَّلُ عَلَيْهِ قَالَ: فَمَسَحَ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟» . وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ فَقَالَ: «إِنَّهُ لَا يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ مَا يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلَّا آكِلَةَ الْخَضِرِ أكلت حَتَّى امتدت خاصرتاها اسْتقْبلت الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ. وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ وَيَكُونُ شَهِيدًا عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1465) و مسلم (123 / 1052)، (2423) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার পর তোমাদের জন্য সবচাইতে বেশি যে ব্যাপারে ভয় করি তা হলো দুনিয়ার চাকচিক্য ও তার সৌন্দর্য, যা তোমাদের ওপর উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণ কি মন্দ নিয়ে আসতে পারে? তখন তিনি (সা.) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারণা করলাম, তার ওপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। অতঃপর তিনি (সা.) ঘাম মুছে বললেন : সে প্রশ্নকারী কোথায়? বর্ণনাকারী বলেন : যেন তিনি (সা.) প্রশ্নকারীর কথাটি প্রশংসার যোগ্য মনে করেছেন। তখন তিনি (সা.) বললেন : কল্যাণ কখনো মন্দ আনে না। (এটার উদাহরণ,) নালার পার্শ্বের উর্বরতা উৎপাদন করে তা মূলত (ভক্ষণকারীকে) ধ্বংস করে না বা ধ্বংসের নিকটবর্তী নিয়ে যায় না; কিন্তু তৃণভোজী জানোয়ার যখন অতিমাত্রায় খায়, অবশেষে যখন কোমরের উভয় পার্শ্ব ফুলে উঠে তখন সূর্যের সামনে রৌদ্রে গিয়ে বসে এবং মলমূত্র ত্যাগ করে। পরে আবার তৃণভূমির দিকে ফিরে গিয়ে তাথেকে ভক্ষণ করে। বস্তুত দুনিয়ার মাল সম্পদ শ্যামল-সবুজ সুস্বাদু বটে। যে তা বৈধভাবে উপার্জন করে এবং বৈধ পথে ব্যয় করে তখন তা তার পক্ষে উত্তম সাহায্যকারী। কিন্তু যে তা অবৈধ পথে উপার্জন করে তখন তার উদাহরণ ঐ জন্তুর ন্যায়, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না এবং দুনিয়াবী মাল-সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহঃ বুখারী ১৪৬৫, মুসলিম ১২৩-(১০৫২), মুসনাদে আহমাদ ১১১৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩২৫৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩২২৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯২০।

ব্যাখ্যা : সহীহ মুসলিমের শারহ-তে রয়েছে, (إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا)  আলোচ্য হাদীসের এই অংশে দুনিয়ার লোভে পড়ে প্রত্যায়িত হওয়া এবং দুনিয়ার ঐশ্বর্য নিয়ে গর্ব করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। এবং এখানে আরেকটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে- অধিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝাতে আল্লাহর নামে শপথ করা মুস্তাহাব। 

অর্থাৎ নাবী (সা.) অত্র হাদীসে দুনিয়ার চাকচিক্য সম্পর্কে তাঁর উম্মাতকে সতর্ক করেছেন এবং ক্ষতির বা অকল্যাণের আশঙ্কা করেছেন। তখন রসূলের সামনে উপস্থিত এক ব্যক্তি উল্লেখ করলেন যে, আমরা যে সম্পদ অর্জন করব তাতো বৈধ পথেই অর্জন করব যেমন গনীমাত বা অন্য কিছু। আর এতে তো অকল্যাণের কিছু নেই। অতএব এ কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে? অর্থাৎ লোকটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, কল্যাণ তো কল্যাণই তা আবার অকল্যাণ হয় কি করে? তখন নাবী (সা.) বলেছেন, প্রকৃত কল্যাণ তো অকল্যাণ নিয়ে আসে না। তবে তোমরা যে দুনিয়ার চাকচিক্য অর্জন করবে তাতো প্রকৃতপক্ষে কল্যাণ নয় বরং তা ফিতনাহ্ (পরীক্ষার বস্তু)। কেননা তোমরা এই মাল অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এবং তোমরা তা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে যা তোমাদেরকে পরকাল বিমুখ করে দিবে। আর এতেই তোমাদের অকল্যাণ হবে। অতঃপর তিনি (সা.) একটি উদাহরণ পেশ করেছেন।

(إِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ) নালার পার্শ্বে যে ঘাস জন্মায় তা ভক্ষণকারী অতিরিক্ত ভক্ষণের ফলে খতিগ্রস্থ হয়। তবে যে পশু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভক্ষণ না করে বরং প্রয়োজন পরিমাণ মাফিক ভক্ষণ করার পর বিরতি দেয় এবং জাবর কাটে তাহলে তাকে ক্ষতি করতে পারে না। অনুরূপ মাল উপার্জন করা তো ভালো। তবে তা উপার্জন করতে গিয়ে যদি মাল নিয়েই ব্যস্ত থাকে তার ওপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন না করে তাহলে ঐ মাল তাকে ধ্বংস করে অথবা তাঁকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন মিটানোর মতো মাল উপার্জনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং উপার্জন করে তুষ্ট থাকে তাহলে সে সেই পশুর মতো যে পশু প্রয়োজন মত জাবর কাটে তাহলে সে রক্ষা পায়।  (শারহু নাবাবী ৭ম খণ্ড, হা. ১০৫২/১২৩; মিকাতুল মাফাতীহ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × one =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য