ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটি ঘটনা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওই নির্বাচনে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারির অনেক ঘটনা সামনে আসছে। কিন্তু ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। ফলপ্রকাশের দিন ওই ছবিও দেখল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর-১ ব্লকের রসুলপুর। ছোট ভাইকে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদছেন বড় ভাই। বড় ভাই জিতেছেন, কিন্তু ছোট ভাই যে হেরে গিয়েছে। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বড় ভাই।
রসুলপুরে খোকন খানকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তার পাল্টা হিসেবে তার ছোট ভাই শাহরুখ খানকে প্রার্থী করে সিপিএম। ভোট ময়দানে জোর লড়াই হয়। পুরোদস্তুর টক্কর দিয়ে প্রচার। কিন্তু ফলপ্রকাশে দেখা গেল বড় ভাই জিতে গিয়েছেন। হেরেছেন ছোট ভাই। চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি বড়। ছোটকে জড়িয়েই গণনা কেন্দ্রে কাঁদতে শুরু করেন তিনি।
জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খোকন খান বলেন, ‘এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। পশ্চিমবঙ্গে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই এই জয় এসেছে। আমরা এলাকায় কাজ করেছিলাম। মানুষ সেই হিসাবেই ভোট দিয়েছেন। আমি চেষ্টা আগামী লোকসভা ভোটে ব্যবধান যেন আরো বাড়ে।’
এই দুই ভাইয়ের ভোট লড়াইকে যিনি কাছ থেকে দেখেছেন সেই স্থানীয় বাসিন্দা অনিল রায় বলেন, ‘এরকম ঘটনা বড় একটা দেখা যায় না। দুই পৃথক দলের হয়ে লড়াই করলেও এর কোনো প্রভাব ওদের ব্যক্তিগত জীবনে পড়েনি। ভোটে একজন জিতবে একজন হারবে, এটাই স্বাভাবিক। যিনি জিতেছেন তিনি যদি এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করে তবে এলাকাবাসী খুশি।’
তবে এই ঘটনা নতুন নয়। পঞ্চায়েত ভোটে এমন অনেক উদাহরণ আছে, একই পরিবার থেকে ভিন্ন দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ানো। কিন্তু এভাবে হেরে যাওয়া প্রার্থীর জন্য কেঁদে ফেলা কিছুটা নজিরবিহীন বটে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
