Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবররোজকার তাজা খবরঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় খোলার বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলাম

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় খোলার বিরোধিতায় হেফাজতে ইসলাম

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় খুলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চরম আত্মঘাতী হবে। এর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাঁরা এ আহ্বান জানান।

হেফাজতে ইসলামের আমির ও মহাসচিব বিবৃতিতে বলেন, দেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলজুড়ে অজস্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। গুম-খুন ছাড়াও বিডিআর হত্যা, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার পরেও নির্বিঘ্নে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম রাখতে পেরেছিলেন শেখ হাসিনা। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেনি জাতিসংঘ। উল্টো গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাগুজে মানবাধিকার সংস্থার অফিস ঢাকায় হোক, তা দেশের জনগণ চায় না।

বিবৃতিতে হেফাজতের দুই প্রধান নেতা আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার–সম্পর্কিত নীতিতে সমকামীদের অধিকারের বিষয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। কিন্তু বাংলাদেশ মুসলিম-অধ্যুষিত রাষ্ট্র হওয়ায় এ দেশে সমকামিতা শুধু ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধই নয়, রাষ্ট্রীয় আইনেও দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁরা আরও বলেন, উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনে তাদের নারী-পুরুষ সমানাধিকার ও সর্বজনীন যৌনশিক্ষার ইস্যুগুলো ইসলামের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে খ্রিষ্টান রাজ্য বানানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও উদ্বেগের বিষয়। সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সন্ত্রাসবাদ এ অশান্তির দাবানল সৃষ্টি করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩৮ হাজার বাঙালি হত্যার দায় অবশ্যই সন্ত্রাসীদের নিতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের পক্ষে বক্তব্য–বিবৃতি দিয়েছে।

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় তাদের অফিস খুলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চরম আত্মঘাতী হবে। নতুন করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক এবং তাতে অন্তর্বর্তী সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়ুক, তা আমরা চাই না।’

বিবৃতিতে হেফাজতের এই দুই নেতা আরও বলেন, কয়েক যুগ ধরে একের পর এক মুসলিম দেশে রুশ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে বোমাবর্ষণ, গণহত্যা, আগ্রাসন, লুটপাট ও নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ সেসবের কিছুই ঠেকাতে পারেনি। দশকের পর দশক বিনা বাধায় ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যা ও দখলবাজি চলমান এবং কাশ্মীরে ভারত কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়মিত ঘটনা। এমনকি সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসনকবলিত ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, লেবাননসহ অসংখ্য মুসলিম দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সংস্থাটি। তাই দেশের স্বার্থে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সভ্যতা-সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস খুলতে দেওয়া যাবে না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের ঢাকা সফরের সময় গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তাঁর সঙ্গে বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ ঢাকায় শিগগিরই জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের কার্যালয় স্থাপনের কথা জানান। তিনি বলেন, কার্যালয় হলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সরাসরি তদন্ত করতে পারবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − 11 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য