Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরদোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদকে ইউনেসকোর স্বীকৃতি

দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদকে ইউনেসকোর স্বীকৃতি

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। ১৫৩ বছরের পুরনো এই মসজিদটি ঢাকার কাছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত। গত ১ ডিসেম্বর ইউনেসকোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে এক অনলাইন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতিবছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।

সে জন্য এ পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশন’।

ইউনেসকো জানিয়েছে, ২০২১ সালে ছয়টি দেশের ৯টি স্থাপনাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু ইতিহাস আর ঘটনার সাক্ষী। ১৮৬৮ সালে এই মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন দারোগা আমিনউদ্দীন আহম্মদ। তাই একসময় এটি পরিচিত ছিল ‘দারোগা মসজিদ’ নামেও। তাঁর ছেলে মইজ উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন মসজিদের প্রথম মুতাওয়াল্লি।

বংশপরম্পরায় মসজিদটির নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নিয়োজিত ছিল খিদির বক্স-কাদের বক্স নামে দুই সহোদর এবং মইজ উদ্দিনের পরিবার।

কাদের বক্সের দৌহিত্র সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হামিদুর রহমান ১৯৬৮ সালে মিনারসহ মসজিদটির বর্ধিতাংশ নির্মাণ করেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবং মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির ব্যাপক সংস্কার করেন অধ্যাপক হামিদুর রহমানের ছেলে বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এই সংস্কারকাজের নেতৃত্ব দেন স্থপতি আবু সাঈদ মোস্তাক আহমেদ। ২০১৮ সালে এর সংস্কারকাজ শেষ হয়।

মুসল্লি সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি এবং মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।

ইউনেসকোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য স্থপতি আবু সাঈদ মোস্তাক আহমেদ আবেদন করেন। ইউনেসকো এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে, সেটি সত্যি প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে, সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে বলে ইউনেসকো বলছে।

কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের এই অর্জন দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নেট দুনিয়ায় বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। মসজিদের এই অর্জনে আনন্দিত হয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘বিজয় মাসের প্রথম দিনেই দারুণ এক খবর পেলাম। দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য স্থপতি সাঈদ মোস্তাক আহমেদ The Award of Merit পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন! দেশের জন্য এটা যেমন বিরাট সম্মানের, তেমনি আমার জন্যও ভীষণ আনন্দের।

আমাদের পরিবার দীর্ঘ দেড় শ বছর ধরে এ মসজিদ দেখাশোনা করছে। ১৮৬৮-তে আমার দাদির বাবা ও দাদার বাবার হাতে এর গোড়াপত্তন। ১৯৬৮-তে আমার আব্বা (প্রয়াত অধ্যাপক হামিদুর রহমান) তৈরি করেন মসজিদের মিনার। বংশপরম্পরায় দায়িত্ব নিই আমি। তত দিনে এলাকার লোকসংখ্যা বেড়ে গেছে। মুসল্লিদের জায়গা হচ্ছিল না। কেউ বললেন মসজিদ ভেঙে বড় করতে। কেউ বললেন নতুন জায়গায় নতুন মসজিদ বানাতে। আমি চাচ্ছিলাম ঐতিহ্যটা বাঁচিয়ে রেখেই নতুন কিছু করার পথ বের করতে। সেই চ্যালেঞ্জে যুক্ত হলেন গুণী আর্কিটেক্ট সাঈদ মোস্তাক আহমেদ। তাঁরই ফসল হয়ে এলো আজকের এই UNESCO Asia-Pacific Awards 2021 Cycle for Cultural Heritage Conservation.’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + 6 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য