❝অত্যাবশ্যক হল আপনি লজ্জিত হবেন এবং জবান দিয়ে আল্লাহর নিকটে (স্বীকারোক্তিমূলক) তাওবাহ্ করবেন, ইস্তেগফার করবেন। পারলে সেটা পূর্ণভাবে করবেন। আর তিনটা কথা — এক, হাদীসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন,
«اتَّقِ الله حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ». رواه الترمذي، وَقالَ: «حديث حسن»
“তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহ্কে ভয় কর। প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভালো কাজ কর যা মন্দ কাজসমূহকে মুছে দিবে। আর মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার কর”— [১]।
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন, “এই হাদীসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সব কল্যাণকে একত্রিত করে দিয়েছেন।’ প্রথমত সব কল্যাণের মূল কি — তাক্বওয়া। গুনাহ্ থেকে বাঁচার আসল উদ্দেশ্য কি — তাক্বওয়া।
.
পুলিশ আমাকে গুনাহ্ করতে দেখছে, আর তাই থেমে যাই, মানুষজন দেখছে তাই থেমে যাই, সিসিটিভিতে লোকজন দেখছে তাই থেমে যাই। এখন একজন ব্যক্তি একাকী থাকাবস্থায় গুনাহ্ থেকে বিরত থাকার কিছু আছে? নিশ্চয় আল্লাহর ভয়, কেননা আল্লাহ্ দেখছেন। পুলিশ দেখছে, লোকজন দেখছে, ক্যামেরা দেখছে — তখন ব্যক্তি গুনাহ্ করা থেকে বিরত থাকে, কিন্তু ক্যামেরা কোথাও আছে কোথাও নেই, লোকজন কোথাও আছে কোথাও নেই, পুলিশ কোথাও আছে কোথাও নেই। তবে নির্জনে থাকাবস্থায়ও আমার আল্লাহ্ আমাকে দেখছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন —
أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ
‘সে কি জানে না যে, আল্লাহ্ তাকে দেখছেন? — [২]।
.
যখন অন্তরে এই দৃঢ়তা জন্ম নিবে, তখন মানুষ সব জায়গায় (প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে) গুনাহ্ থেকে বাঁচতে পারে। ‘তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহ্কে ভয় কর।’ প্রথমত, জীবনের বাকি সময়টুকু গুনাহ্ থেকে বাঁচার জন্য (নফসের বিরুদ্ধে) পুরো শক্তি প্রয়োগ করুন। এরপরও কিছু না কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েই যাবে। আর যদি এমনটা হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভালো কাজ করুন যা মন্দ কাজসমূহকে মুছে দিবে। হয় ভালো কাজ দ্বারা মন্দের কাফফারা হয়ে যাবে, আর নাহয় কিয়ামতের দিন যখন গুনাহ্ এর মুক্বাবিলায় নেকীর পাল্লায় এই ভালো কাজগুলো উঠানো হবে, তখন দুটো বরাবর হয়ে রেহাই মিলে যাবে।
.
উলামারা বলেছেন, ভালো কাজসমূহ মন্দের চাইতে গুরুত্ববহ হলে সেটা আরো ভালো। উদাহরণস্বরুপ আপনি কারো অন্তরে আঘাত দিয়েছেন, অত:পর আপনি তার কাছ থেকেই মাফ চেয়ে নেন — এটা মন্দ কাজের পরে ভালো কাজ। আপনি কারো কোন জিনিস জোর-জবরদস্তি করে নিয়ে ফেলেছেন, এখন এই পাপ থেকে মুক্তির জন্য অন্য কাউকে স্বদাকা করার চাইতে বেশী উত্তম হল আপনি সেটা তাকেই ফেরত দিয়ে দেন।
এভাবেই যখন কোন ব্যক্তির দ্বারা মন্দকাজ হয়ে যায়, আর যদি সে অনুভব করে যে, সে খারাপ কাজ করে ফেলেছে, তখন সাথে সাথেই এর বদলাস্বরুপ একটা ভালো কাজ করুন। তখন সেটা মন্দকে মিঠিয়ে দিবে।
.
‘আর মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার কর’ — তাক্বওয়া আল্লাহর ভালবাসা পাওয়ার মাধ্যম, আর ভালো ব্যবহার মানুষের ভালবাসার পাওয়ার মাধ্যম। যে ব্যক্তি তাক্বওয়া আর উত্তম আখলাক আয়ত্ত করতে পারবে, সে আল্লাহরও প্রিয়পাত্র হতে পারবে এবং লোকদেরও প্রিয়পাত্র হতে পারবে। যাইহোক, এই হাদীসে একজন ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে খালিক্ব ও মাখলুক্ব – উভয়ের নিকটে উচ্চ মর্যাদা পাওয়ার মাধ্যম বলে দেয়া হয়েছে।❞
.
— শাইখ আবু যাইদ যামীর (হাফিযাহুল্লাহ)।
.
❏ গৃহীত:
.
https://youtu.be/OhesAxp-YWc
.
❏ তথ্যসূত্র:
.
১. — [তিরমিযী: ১৯৮৭, আহমাদ: ২০৮৪৭]।
২. — [সূরা আলাক, আয়াত ১৪]।
.
.
.
— অনুবাদক: আখতার বিন আমীর।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
