Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসপ্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

প্রতিদিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি হাদিস জেনে নেই!!

عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفْضَلُ الْكَلَامِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
وَفِي رِوَايَةٍ: أَحَبُّ الْكَلَامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ . رَوَاهُ مُسلم

সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বোত্তম (মর্যাদাপূর্ণ) কালাম বা বাক্য হলো চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ [আল্লাহ পবিত্র], (২) ওয়াল হামদুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], (৩) ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই], (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান]।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় বাক্য চারটি- (১) সুবহা-নাল্ল-হ, (২) আল হামদুলিল্লা-হ, (৩) লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ও (৪) ওয়াল্ল-হু আকবার। এ চারটি কালিমার যে কোন একটি প্রথমে (আগ-পিছ করে) বললে তাতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। (মুসলিম)[1]

[1] সহীহ : মুসলিম ২১৩৭, ইবনু মাজাহ ৩৮১১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৯৮৬৮, আবূ দাঊদ ৪৯৫৮, আহমাদ ২০১০৭, মু‘জামুল আওসাত ৭৭১৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩১০, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৪, ইবনু হিববান ৮৩৬, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১০, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৪৬, সহীহ আল জামি‘ ৮৭৪।

ব্যাখ্যা: (أَفْضَلُ الْكَلَامِ) অর্থাৎ- মানুষের কথা, পক্ষান্তরে আল্লাহর সকল কথাই সর্বোত্তম। আর বিশেষ সময়ে জিকির করা ছাড়া সাধারণত কুরআন নিয়ে ব্যস্ত হওয়াই সর্বোত্তম। আর বিশেষ সময়ের জিকির করা কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকা অপেক্ষা উত্তম। সুতরাং (كلام) বা কথা দু’টি স্থানে ব্যবহৃত হয় একটি হুবহু কথা আরেকটি ব্যস্ত হওয়া, অর্থাৎ- সময় ব্যয় করা।

নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীস এবং এর অনুরূপ হাদীসকে মানুষের কথার উপর প্রয়োগ করা হবে অন্যথায় কুরআনই সর্বোত্তম কালাম। এমনিভাবে কুরআন পাঠ করা সাধারণ তাসবীহ তাহলীল থেকে উত্তম। পক্ষান্তরে কোন সময় বা অবস্থাতে বর্ণিত দু‘আগুলো নিয়ে ব্যস্ত হওয়া সর্বোত্তম।

কারী বলেন, সর্বোত্তম কথা চারটি অর্থাৎ- মানুষের কথার মাঝে সর্বোত্তম কথা। (كلام) ‘‘কালাম’’ থেকে মানুষের কথা উদ্দেশ্য করার কারণ হল দু’টি। প্রথমত যেহেতু চতুর্থ নম্বর কালামটি কুরআনে পাওয়া যায়নি। আর কুরআনের বাণীর উপর অন্য বাণীকে প্রাধান্য দেয়া যাবে না।

আর দ্বিতীয়ত যেহেতু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এগুলো কুরআনের পর সর্বোত্তম কথা’’। আর এগুলো কুরআনেরই অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ – এদের অধিকাংশ তথা প্রথম তিনটি যদিও কুরআনে পাওয়া গেছে কিন্তু চতুর্থটি কুরআনে পাওয়া যায়নি। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘‘আর এগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত’’- এ উক্তিটি আধিক্যের উপর নির্ভর করছে। ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী বলেন, কারী ‘‘রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি’’ দ্বারা মুসনাদে আহমাদে সামুরাহ্ হতে বর্ণিত হাদীসটি বুঝিয়েছেন যার ভাষ্য হল, ‘‘কুরআনের পর সর্বোত্তম কালাম চারটি আর এগুলো কুরআনেরই অন্তর্ভুক্ত তুমি এগুলোর যেটি শুরু করবে তা তোমার ক্ষতি করবে না’’।

এক মতে বলা হয়েছে, ‘‘এগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত’’- এ কথার মর্ম হল এ বাক্যগুলো কুরআনে আলাদাভাবে এসেছে একত্রিতভাবে আসেনি। যেহেতু কুরআনে বর্ণিত হয়েছে فَسُبْحَانَ اللّٰهِ حِينَ تُمْسُونَ ‘‘অতএব তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর’’- (সূরা আর্ রূম ৩০:১৭)। (الحمد لله كثيرا) বাক্যটি এসেছে। আল্লাহর অপর বাণীতে এসেছে فَاعْلَمْ أَنَّهٗ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ ‘‘কাজেই জেনে রেখ, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই’’- (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯)। পক্ষান্তরে (الله أكبر) উক্তি, এ গঠনে কুরআনে অবিদ্যমান। তবে এর অর্থটি নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে পাওয়া যায়। আল্লাহর বাণী সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:১১১ নং আয়াতে وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا এবং সূরা আল মুদ্দাস্সির ৭৪:৩ নং আয়াতে وَرَبَّكَ فَكَبِّر হতে তা লাভ করা যায়। আর তা আল্লাহর বাণী সূরা আল ‘আনকাবূত ২৯:৪৫ নং আয়াতে وَلَذِكْرُ اللّٰهِ أَكْبَرُ وَاللهُ এবং অপর বাণী সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯:৭২ নং আয়াত وَرِضْوَانٌ مِنَ اللّٰهِ أَكْبَرُ মূল কথা হল, এ ধারাবাহিকতায় সংগৃহীত কথাগুলো কুরআনের অন্তর্ভুক্ত না। এজন্যই জাযরী বলেন, এগুলো থেকে প্রত্যেকটি কুরআনে এসেছে।

কারী বলেন, সম্ভাবনা রাখছে- হাদীসে তাঁর উক্তি ‘‘সর্বোত্তম কালাম’’ কথাটি আল্লাহর কালামকেও অন্তর্ভুক্ত করবে, কেননা এগুলো শাব্দিকভাবে আল্লাহর কালামে পাওয়া যায় তবে চতুর্থটি ছাড়া, যেহেতু তা আল্লাহর কালামে অর্থগতভাবে বিদ্যমান। আর স্বাভাবিকভাবেও এগুলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করছে। কেননা এগুলো ত্রুটি মুক্তকরণ, তাওহীদ গুণকীর্তন এবং প্রশংসাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এগুলোর প্রতিটি শব্দই আল্লাহর কালামের মাঝে গণ্য। এগুলো থেকে প্রতিটি কুরআনের অন্তর্ভুক্ত- এ বর্ণনার আলোকে অর্থগতভাবে স্পষ্ট।

(وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ) মা’নাবী বলেন, এ চারটি কালাম সর্বোত্তম এ কারণে যে, প্রত্যেক এমন গুণ যেগুলো আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা অসম্ভব সেগুলো থেকে আল্লাহর পবিত্র সাব্যস্ত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যে সব পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক সে সবের সাথে আল্লাহকে গুণান্বিত হওয়াকে, একত্ববাদের সাথে তাঁর একক হওয়াকে এবং মহত্বের সাথে বিশেষিত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে আল্লাহর বড়ত্ব হওয়া থেকে দু’টি অর্থ লাভ করা গেছে। শায়খ ইযযুদ্দীন বিন ‘আবদুস্ সালাম বলেন, আল্লাহর উত্তম নামসমূহ যার মাধ্যমে তিনি তাঁর কিতাবে ও তাঁর রসূলের কিতাবে নিজের নামকরণ করেছেন। যেগুলো চারটিঃ কালিমার মাঝে প্রবিষ্ট আর এগুলো-ই কুরআনের (الباقيات الصالحات) দ্বারা উদ্দেশ্য। প্রথম কালিমাহ্ঃ (سبحان الله) ‘আরবদের ভাষাতেই এর অর্থ পবিত্র সাব্যস্তকরণ, দূর করা। এগুলো আল্লাহর গুণাবলী ও সত্তা থেকে ঘাটতি ও দোষ-ত্রুটি দূর করার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং তার যে নামগুলো থেকে বিদূরীত হওয়ার অর্থ পাওয়া যাবে সেগুলো এ কালিমার অধীনে প্রবিষ্ট।

যেমন (القدوس) অর্থাৎ- যিনি প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং (السلام) যা প্রত্যেক বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ। দ্বিতীয় শব্দঃ (الحمد لله) আর এটা আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গতা বর্ণনার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং তাঁর যে নাম যেগুলো ইতিবাচককে অন্তর্ভুক্ত করবে যেমন (سميع – قدير- عليم- بصير) এগুলো দ্বিতীয় শব্দের অধীনে প্রবিষ্ট। আমরা (سبحان الله) উক্তির মাধ্যমে আমাদের অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক দোষ-ত্রুটি এবং আমাদের বুঝ অনুযায়ী প্রত্যেক ঘাটতিকে দূর করেছি। আর (الحمد لله) এর মাধ্যমে আমরা আমাদের জানা অনুযায়ী প্রত্যেক পূর্ণাঙ্গতা এবং অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক সম্মানকে সাব্যস্ত করেছি। আমরা যা দূর করেছি এবং যা সাব্যস্ত করেছি তার পেছনে মহা গুরুত্ব-মর্যাদা রয়েছে যা আমাদের থেকে অদৃশ্য এবং আমরা যা জানি না তাই আমরা সেগুলো আমাদের (الله أكبر) উক্তির মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে বাস্তবরূপ দিব আর এটি তৃতীয় কালিমার অর্থ- আমরা যা নিষেধ করেছি ও যা সাব্যস্ত করেছি তার অপেক্ষা তিনি অধিক সম্মানিত।
আর এটিই হল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমি তোমার গুণকীর্তন পরিসংখ্যান করে শেষ করতে পারব না, তুমি তেমন যেমনটি তুমি নিজের প্রশংসা করেছ। অতঃপর তার নামসমূহ থেকে যা আমাদের জ্ঞান ও বুঝের পর পর্যায়ের মর্যাদাকে অন্তর্ভুক্ত করবে যেমন (الأعلى) এবং (التعالى) অর্থাৎ- সর্বোচ্চ। তাহলে তা আমাদের উক্তি (الله أكبر) এর অধীনে প্রবিষ্ট হবে। অতঃপর আমরা যখন অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তার সদৃশ বা অনুরূপ কিছু সাব্যস্ত হওয়াকে নাফি করলাম তখন আমরা তা (لا إله الا الله) এ উক্তির মাধ্যমে সুনিশ্চিত করলাম। আর এটি চতুর্থ শব্দ। কেননা প্রভুত্ব উপাসত্বের উত্তরাধিকারের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল। আর উপাসত্বের অধিকার রাখেন একমাত্র ঐ সত্তা ছাড়া আমরা যা বর্ণনা করেছি তার প্রতি যে ন্যায় বিচার করবে। সুতরাং তার নামসমূহ থেকে যা সামষ্টিকতার পূর্বক্ত বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে তা একক সত্তার ন্যায় যিনি এক, মর্যাদার অধিকারী অনুগ্রহের অধিকারী, আর তা আমাদের (لا إله الا الله) এর অধীনে প্রবিষ্ট। উপাসত্বের অধিকার কেবল ঐ সত্তা রাখে যার জন্য সুন্দর গুণাবলী ও ঐ সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী নির্দিষ্ট যেগুলো বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করতে পারে না এবং গণনাকারীগণ গণনা করতে পারে না।

এভাবে আস্ সাবাকী ত্ববাকতে শাফি‘ঈয়্যাহ্ আল কুবরা-তে উল্লেখ করেছেন। (৫ম খণ্ড- ৮৬-৮৭ পৃষ্ঠা) হাদীসটিতে আছে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কালাম এ চারটি কালাম। হাদীসটির বাহ্যিক দিক অচিরেই আগত আবূ যার (রাঃ) এর হাদীসের পরিপন্থী। যে হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল কোন কথা সর্বোত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (سبحان الله وبحمده) আর অচিরেই ২য় পরিচ্ছেদে আগত জাবির-এর হাদীসেরও বিরোধিতা করছে যাতে আছে (لا إله الا الله) সর্বোত্তম জিকির। সাধারণভাবে আবূ যার-এর হাদীস তাসবীহ এর শ্রেষ্ঠত্বের উপরও প্রমাণ বহন করছে। আর সেটাও জাবির-এর হাদীসের বিপরীত। যা সাধারণভাবে (لا إله الا الله) এর শ্রেষ্ঠত্বের উপর প্রমাণ বহন করছে। কুরতুবী এভাবে সমন্বয় সাধন করেছেন যার সারাংশ হল, নিশ্চয়ই এ জিকিরগুলোর কতকের উপর যখন কতকে সাধারণভাবে ব্যবহার করা হবে (অর্থাৎ- সর্বোত্তম কালাম বা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কালামকে), তখন এগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হবে যখন এগুলো মুসলিমে বিদ্যমান সামুরার [সর্বাধিক প্রিয় কালাম চারটি এগুলোর যে কোনটি দ্বারা তুমি শুরু করবে তোমার কোন ক্ষতি করবে না আর তা হল سبحان الله و الحمد لله ولا إله الا الله الله أكبر] এ হাদীসের দলীল কর্তৃক তার সমগোত্রীয়দের সাথে মিলিত হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থের উপর নির্ভরশীল হওয়ারও সম্ভাবনা রাখছে। সুতরাং যে এগুলোর কতকের উপর সীমাবদ্ধ থাকবে তার জন্য যথেষ্ট হবে। কেননা এগুলোর সারাংশ হল সম্মান প্রদর্শন করা, পবিত্র সাব্যস্তকরণ। যে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করল সে তাঁর বড়ত্ব সাব্যস্ত করল আর যে তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করল সে তার পবিত্রতা সাব্যস্ত করল। কেউ কেউ বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি أَفْضَلُ الْكَلَامِ، أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلٰهَ إِلَّا الله এবং আগত أَحَبُّ الْكَلَامِ এর পূর্বে একটি من অব্যয় উহ্য মানার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব। কারণ أَفْضَلُ (সর্বোত্তম) ও أَحَبُّ (সর্বাধিক প্রিয়) শব্দদ্বয় অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে সমার্থক। ভাষ্যকার বলেন, মুসনাদে আহমাদে (৫ম খণ্ড, ১১ পৃষ্ঠা) বর্ণিত

(أربع من أطيب الكلام وهن من القرآن لا يضرك بأيهن بدأت سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر)

হাদীসটি এ অভিমতটিকে শক্তিশালী করছে। যেহেতু সেখানে من অব্যয়টি প্রকাশ্য এসেছে। হাদীসে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ আছে, নিশ্চয়ই এ চারটি কালিমাহ্ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, অচিরেই যা আসতেছে তা এর পরিপন্থী না আর তা হল (سبحان الله وبحمده) আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কালাম। কেননা এখানে এ চারটিরই অন্তর্ভুক্ত।

(وفى رواية أحب الكلام إلى الله أربع) অর্থাৎ- চারটি কালিমাহ্।

(سبحان الله) অর্থাৎ- আমি প্রত্যেক এমন জিনিস থেকে তাঁর পবিত্র সাব্যস্ত হওয়াতে বিশ্বাসী যা তার সত্তার সৌন্দর্য ও তার গুণাবলীর পূর্ণাঙ্গতার সাথে বেমানান আর তা মুক্ত করার স্থল নিয়ে এসেছেন যা ঐ অবস্থার উপর প্রমাণ বহন করে যে, নিশ্চয়ই তিনি উত্তম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীর সাথে গুণান্বিত এবং শুকরিয়া ও গুণকীর্তন প্রকাশের জন্য উপযুক্ত। আর তা গুণ বর্ণনা করার স্থল আর এজন্যই তিনি (الحمد لله) বলেছেন।

এরপর তিনি যে তাঁর ইতিবাচক ও নেতিবাচক গুণাবলীতে একক এদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন (لا إله إلا الله)। অতঃপর তিনি ঐ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, তাঁর বড়ত্বের পরিধি এবং ইযার ও রিদার মহত্ত্বকে পরিকল্পনা করা যায় না। যা হাদীসে (الله أكبر) দ্বারা স্পষ্ট।

(لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ) অর্থাৎ- পাঠক তাসবীহগুলোর যে কোনটি দিয়ে শুরু করলে এগুলো পাঠের সাওয়াব সংরক্ষণে কোন ক্ষতি হবে না, কেননা কালিমাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ব ও পূর্ণতার যে অর্থ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে এগুলোর প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র। কিন্তু হাদীসে যেভাবে এসেছে সে ধারাবাহিকতাটিই উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ। কারণ সেখানে প্রথমে আল্লাহর পবিত্রতা সাব্যস্তকরণ সূচক কালিমাহ্ سبحان الله এসেছে, পরে তাঁর প্রশংসাজ্ঞাপক কালিমাহ্ الحمد لله এসেছে। অতঃপর তাসবীহ ও তাহমীদযুক্ত কালিমাহ্ لا إله الا الله দ্বারা উভয়ের মাঝে সমন্বয় কর হয়েছে, এরপর তাঁর বড়ত্বজ্ঞাপক কালিমাহ্ الله أكبر দ্বারা শেষ করা হয়েছে।

ইবনুল মালিক বলেন, অর্থাৎ- সুবহা-নাল্ল-হ বা আলহামদুলিল্লা-হ বা লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ অথবা আল্ল-হু আকবার যে কোনটি দ্বারা তাসবীহ পাঠ শুরু করা বৈধ আছে। আর এটাই প্রমাণ করে যে, এগুলোর প্রতিটি বাক্যই স্বয়ংসম্পন্ন, উল্লেখিত সাজানো অনুযায়ী এগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক না। তবে উল্লেখিত সাজানো অনুযায়ী উল্লেখ করা উত্তম।

শাওকানী বলেন, জানা উচিত যে, নিশ্চয়ই এ শব্দাবলীর মাঝে পতিত و এদের কতকে কতকের উপর আতফ করার জন্য আনা হয়েছে। যেমন অন্যান্য আতফ করা বিষয়াবলী। সুতরাং و ছাড়া এগুলোর উল্লেখ করা অতঃপর জিকিরকারী (سبحان الله الحمد لله ولا إله إلا الله الله أكبر) বলা অথবা এগুলো و সহ উল্লেখ হওয়া অতঃপর জিকিরকারী (سبحان الله الحمد لله ولا إله إلا الله الله أكبر) এভাবে বলা উল্লেখিত পদ্ধতিদ্বয়ের মাঝে প্রথমটি স্পষ্ট। কেননা নাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে খবর দিয়েছেন তারা এভাবে বলবে। সুতরাং উক্ত বিষয়টি হবে উল্লেখিত (واو) ছাড়া পদ্ধতি। যেমন নাবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল শিক্ষাসমূহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য