عَن عمر بن الْخطاب أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ: أُوَيْسٌ لَا يَدَعُ بِالْيَمَنِ غَيْرَ أُمٍّ لَهُ قَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللَّهَ فَأَذْهَبَهُ إِلَّا مَوْضِعَ الدِّينَارِ أَوِ الدِّرْهَمِ فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُولُ: إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: أُويس وَله والدةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاض فَمُرُوهُ فليستغفر لكم . رَوَاهُ مُسلم
’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ইয়ামান দেশ হতে এক লোক তোমাদের কাছে আসবে। তার নাম হবে ’ওয়াইস’। একজন মাতা ছাড়া ইয়ামান দেশে তাঁর আর কোন নিকটতম আত্মীয়স্বজন থাকবে না। তার দেহে শ্বেত-রোগ থাকবে। এর জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন। ফলে এক দিরহাম অথবা এক দীনার পরিমাণ জায়গা ছাড়া আল্লাহর তা’আলা তাঁর সেই রোগটি দূর করে দিয়েছেন। অতএব তোমাদের যে কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পাবে, সে যেন নিজের ক্ষমার জন্য তাঁর দ্বারা দু’আ করায়।
অপর বর্ণনায় আছে, ’উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, তাবিঈদের মধ্যে সর্বোত্তম একজন রয়েছেন, এবং তাঁর শরীরে শ্বেত দাগ থাকবে। অতএব তোমরা নিজেদের মাগফিরাতের দু’আর জন্য তার কাছে অনুরোধ করবে। (মুসলিম)
সহীহ মুসলিম ২২৩-(২৫৪২), সহীহুল জামি’ ২০৮৩, শুআবূল ঈমান ৬৭৯৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ২/৭৯ পৃ.।
ব্যাখ্যা: এ উওয়াইস (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঘটনায় রাসূল (সা.) -এর স্পষ্ট মু’জিযাহ্ রয়েছে। তিনি হলেন উওয়াইস ইবনু ‘আমির যেমনটি ইমাম মুসলিম এখানে বর্ণনা করেন। এটাই প্রসিদ্ধ মত।
ইবনু মাকূলা বলেন, তাকে উওয়াইস ইবনু আমর বলা হয়। তারা বলেন, তার উপনাম আবূ ‘আমর। কেউ বলেন, তিনি সিফফীন যুদ্ধে নিহত হন। তিনি (قَرَنىْ) গোত্রের দিক নিসবত করে (القَرَنِى) (করানী) নামে খ্যাত। এটা মুরাদ গোত্রের শাখা গোত্র। তিনি ছিলেন করান ইবনু রাযমান ইবনু নাজিয়া ইবনু মুরাদ।
কালবী বলেন, মুরাদ-এর নাম ছিল জাবির ইবনু মালিক ইবনু আদাদ ইবনু সহাব ইবনু ইয়ারুব ইবনু যায়দ ইবনু কাহলান ইবনু সাব্বাদ। তিনি মুরাদ গোত্রের উপগোত্র হওয়ায় আমরা এ বংশ-পরম্পরা তুলে ধরলাম। এদিকেই তাকে সম্বন্ধ করা হয়, যা সঠিক। এতে কোন দ্বিমত নেই।
জাওহারীর সিহাহ গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, তিনি নাজদবাসীর ইহরাম বাঁধার জন্য নির্দিষ্ট মীকাত কারণে মানাযিল পর্বতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটা গুরুতর ভুল। এ সতর্কতা আগেই দেয়া হয়েছে যাতে তা নিয়ে ধোঁকায় না পড়ে। তাকে মানুষের মধ্যে তুচ্ছ জ্ঞান করা হত। এটাই প্রমাণ যে, তার প্রকৃত অবস্থা গোপন ছিল। তার মাঝেও আল্লাহর মধ্যকার রহস্য গোপন ছিল। এটা কোন কিছুতেই প্রকাশিত হয়নি। যা অভিজ্ঞদের নীতি ও ওয়ালীদের বৈশিষ্ট্য।
(لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, (قال بعمرإن استطعت ان يستغفر لك فافعل) যদি সক্ষম হও যে, সে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাহলে করো। এটা উওয়াইস (রহিমাহুল্লাহ) এর স্পষ্ট কৃতিত্ব। এতে সকর্মশীল ব্যক্তির নিকট থেকে দু’আ ও ক্ষমা চাওয়ার বৈধতা রয়েছে, যদি প্রার্থী তার থেকে শ্রেষ্ঠ হয়। (ان خير التابعين ر جل يقال له أويس) দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, তিনি শ্রেষ্ঠ তাবিঈ।
কখনো বলা হয়, আহমাদ ইবনু হাম্বাল। অপর ব্যক্তি বলেন, সা’ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব শ্রেষ্ঠ তাবি’ঈ। এর উত্তর হলো তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সা’ঈদ-এর শারঈ জ্ঞান যেমন তাফসীর হাদীস, ফিকহ ইত্যাদিতে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। আল্লাহ তা’আলার নিকট মর্যাদায় নয়। আর এ কথায় সুস্পষ্ট মু’জিযাহ্ রয়েছে। (শারহুন নাবাবী হা, ২২৩-২৫৪২)
উওয়াইস তাবিঈ ছিলেন, সাহাবী নয়। যদিও তিনি নবী (সা.)-এর সময় মওজুদ ছিলেন কিন্তু মায়ের খিদমাতের কারণে এতটুকু সুযোগ পাননি যে, নবী (সা.) -এর দরবারে হাজির হবেন। এতে সাহাবীর চাইতে তাবিঈর মর্যাদা বেশি হবে তা নয়। কারণ স্বয়ং নবী (সা.) নিজের জন্য মানুষের নিকট দু’আ চাইতেন।
উপরন্তু পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে আযানের সময় সমস্ত উম্মতের নিকট থেকে স্বীয় মাকামে মাহমুদ হাসিলের জন্য দু’আ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ – মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯০)
