Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরপ্রেসিডেন্ট বাইডেনের ‘জেনোফোবিক’ বক্তব্য নিয়ে ভারত-জাপানের আপত্তি

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ‘জেনোফোবিক’ বক্তব্য নিয়ে ভারত-জাপানের আপত্তি

সপ্তাহের শুরুতে একটি প্রচারণা তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন জাপান ও ভারতকে ‘জেনোফোবিক’ বা ‘বিদেশীদের ভয়ে ভীত’ দেশ হিসাবে বর্ণনা করেন, যারা অভিবাসীদের স্বাগত জানায় না। ভারত এবং জাপান শনিবার বাইডেনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

জাপান বলেছে, বাইডেন তাদের নীতি সঠিকভাবে না বুঝে এ অভিমত দিয়েছেন। অন্যদিকে ভারত এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে, নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্মুক্ত সমাজ হিসাবে দাবি করেছে।

তার বক্তব্যে, বাইডেন জাপান ও ভারতকে ‘জেনোফোবিক’ দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং রাশিয়া ও চীনসহ তাদের বিপদগ্রস্ত অর্থনীতির ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা করেন। সেই সাথে তিনি এই চারটি দেশের বিপরীতে অভিবাসীদের দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির তুলনা করেন।

জাপান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্রদের একজন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমশ আত্মবিশ্বাসী চীনকে মোকাবেলায় জাপান ও ভারত উভয়ই ‘কোয়াড’ নামের একটি অনানুষ্ঠানিক জোটের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই কোয়াডে অস্ট্রেলিয়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, বাইডেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাকে একটি সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যখন দুই নেতা তাদের ‘অবিচ্ছেদ্য মিত্রতা’ পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের হুমকির মুখে তাদের নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে সম্মত হয়েছিলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গত বছর ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন, যখন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউস বলেছে, বাইডেন কোনো দেশকে ছোট করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের দেশ হিসেবে তুলনা করে এই কথা বলেছেন এবং জাপানের সাথে সম্পর্ক খারাপ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

শনিবার জাপান সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাইডেনের মন্তব্য এবং পরবর্তী ব্যাখ্যা সম্পর্কে জাপান অবগত রয়েছে। তবে তিনি বলেন যে- বাইডেনের ভাষণের কিছু অংশ জাপানি নীতির সঠিক বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে ছিল না, যেটা দুঃখজনক। তবে জাপান অভিবাসীদের উপস্থিতিকে আমেরিকার শক্তি হিসাবে বাইডেনের বিবেচনার মন্তব্যটি বুঝতে পেরেছে।

তিনি আরো বলেন, জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ‘পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী’।

শনিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বাইডেনের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে উন্মুক্ত সমাজ।

ভারতের জিডিপি
ইকোনমিক টাইমস পত্রিকা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে জয়শঙ্কর আরো বলেন, ‘এরকম উদার, বৈচিত্র্যময় এবং বহুত্ববাদী সমাজ পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। আমরা যে শুধু জেনোফবিক নই, তা নয়। আমার সবচেয়ে উন্মুক্ত, বহুত্মবাদী এবং অনেক দিক থেকে বিশ্বের সব চেয়ে বেশি সহনশীল সমাজ।’

তিনি ভারতের বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘এর সাথে অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধির হার মিলিয়ে দেখেন, আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন।’ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

জাপান অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি জাপানে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য শিথিল নীতি করেছে তারা। জাপানে জন্মহার কমে যাওয়া এবং দ্রুত জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়।

এদিকে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা হিন্দু, পার্সি, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং খ্রিস্টানদের দ্রুত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ধর্মীয় মানদণ্ডের উপর নির্ভরশীল একটি নতুন নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করেছে ভারত। এই আইনে মুসলিমদের বাদ দেয়া হয়েছে।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven − 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য