ইসরাইলি সৈন্যরা পশ্চিম তরের জেনিন শহরে অভিযান চালানোর সময় একটি মসজিদের লাউডস্পিকারে তাদের হানুকা প্রার্থনা সঙ্গীত গেয়েছে। কোনো কোনো সৈন্য মসজিদের ভেতরে আজানের অনুকরণ করে ইহুদি প্রার্থনা সঙ্গীত গায়।
ইসরাইল সন্ত্রাস দমনের কথা বলে এই অভিযান চালায়। এ সময় ইসরাইলি সৈন্যরা কয়েক শ’ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তারা বেশ কিছু অস্ত্র আটক করার দাবিও করেছে।
অনলাইনে প্রচার হওয়া একটি ফুটেজে দেখা যায়, ইসরাইলি সৈন্যরা হানুকা সঙ্গীত গাইজে এবং ইহুদি প্রার্থনা ‘শেমা ইসরাইল’ (শোনো, হে ইসরাইল) গাইছে।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, একটি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেছে ইসরাইলি সৈন্যরা। তাদের একজন মিনারে আজানের মতো করে ইহুদি প্রার্থনা সঙ্গীত গাইছে।
আরেকটি ক্লিপে দেখা যায়, ইহুদি হানুকা উৎসের সাথে সম্পৃক্ত একটি গান গাওয়া হচ্ছে। হিব্রুতে গাওয়া এই গান মসজিদটির মিনারে থাকা লাউড স্পিকারের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
আরেকটি ক্লিপে দেখা যায়, এক সৈন্য জনশূন্য মসজিদের মেঝেতে বসে মাইক্রোফোনে আজানের রীতিতে কথা বলছে। ওই সৈন্যকে বলতে শোনা যায়, ‘দয়াময় ঈশ্বরের নামে। আমি আইডিএফের [ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস] মুখপাত্র বলছি।’
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর নিন্দা করে বলেছে, এটি হলো ধর্মীয় পবিত্র স্থানের প্রতি অবমাননা।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মনে করছে, এটি ছিল তাদের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তির প্রতি ‘সবচেয়ে মারাত্মক আঘাত।’
জেনিনে তিন দিনের অভিযানকালে তারা এই ঘটনা ঘটায়।
ইতোমধ্যেই ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স এই অপরাধে বেশ কয়েকজন সৈন্যকে সাসপেন্ড করেছে।
ইসরাইলি বাহিনী বলছে, সৈন্যদের কমান্ডাররা বিষয়টি জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সৈন্যদের সরিয়ে দেয় এবং ভিডিওর ব্যাপারে অনুসন্ধান চালায়।
আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ভিডিওতে দেখা যাওয়অ সৈন্যদের আচরণ ভয়াবহ এবং আইডিএফের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সৈন্যদের আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে।
আইডিএফ মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি ঘটনার নিন্দা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সংকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অভিযানের পর থেকে ইসরাইলি সৈন্যরা গাজা উপত্যকায় হামলার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও অভিযান চালিয়ে আসছে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মসজিদ, বিদ্যালয়, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সম্ভব সবকিছু গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আর পশ্চিম তীরে দু’হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। তারা এ সময় পশ্চিম তীরে প্রায় ২৮০ ফিলিস্তিনিকে হত্যাও করেছে। এছাড়া বসতি স্থাপনকারীদের হাতেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সূত্র : গার্ডিয়ান, টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা এবং অন্যান্য
