Wednesday, October 14, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে ও পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Home দৈনন্দিন খবর বিতর্ক উপেক্ষা করে মার্চেই আসছে আদানির বিদ্যুৎ

বিতর্ক উপেক্ষা করে মার্চেই আসছে আদানির বিদ্যুৎ

0

ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিকে ‘অসম চুক্তি’ আখ্যায়িত করে অবিলম্বে চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। কেউ কেউ চুক্তিটি পর্যালোচনারও দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিটিকে একপেশে আখ্যা দিয়ে বিশিষ্টজনেরা আরও বলছেন- এর ফলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আদানি বিপুলভাবে লাভবান হবে। চুক্তিটি নিয়ে ভারতেও সমালোচনা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) থেকে চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আদানিকে চিঠি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদানি পাওয়ারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে বৈঠকও করে গেছেন। বিষয়টির এখনো সুরাহা না হলেও চলতি মার্চ মাসের মধ্যেই আদানির বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসা শুরু হতে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল বা চুক্তিটি পর্যালোচনা করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেছেন, একটি চুক্তি হয়ে গেলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুব কঠিন, যদি না দুই পক্ষই সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে। তিনি বলেন, চুক্তিটির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যাদের দেখার দায়িত্ব ছিল, তারা নীতিনির্ধারকদের নজরে বিষয়টি কেন আনেননি এটা তাদের ব্যর্থতা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা আদানিকে অনুরোধ করেছি কিছু জায়গায় বাংলাদেশকে ছাড় দিতে। এখন এটা সম্পূর্ণই তাদের বিষয়। তারা না করলে আমরা কিছুই করতে পারব না। বাংলাদেশের সঙ্গে

করা আদানির চুক্তির পরিবর্তন করবে না আদানি। তবে চুক্তির শর্তের কিছু নমনীয় জায়গা বিশ্লেষণ করে কয়লার দাম কমানো যায় কিনা সেটা দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেটাও শেষ পর্যন্ত হবে কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। একই বছরের ১১ আগস্ট আদানি পাওয়ারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে পিডিবি। শুরুতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার প্রস্তাব ছিল আদানি গ্রুপের। পরে ২০১৬ সালে গোড়ার দিকে আদানি গ্রুপ ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের ঝাড়খ-ে তাদের কয়লা খনি রয়েছে। সেই খনির কয়লা দিয়ে ঝাড়খ-ের গোড্ডায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে আদানি। সেই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করতে চায়। পরে ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে চূড়ান্ত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আদানি ও বাংলাদেশের মধ্যে হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিটিকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বলে অভিহিত করছেন দেশি-বিদেশি জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই চুক্তিতে আদানি অনেক বেশি লাভবান হবে।

এদিকে নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যেও আদানির বিদ্যুৎ চলতি মাসের মধ্যেই আসা শুরু হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়। আদানির পাওয়ার বাংলাদেশে নিযুক্ত কর্মকর্তারাও আমাদের সময়কে বলেন, টেকনিক্যাল অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ট্রান্সফরমার- গ্রিড লাইনসহ অন্যান্য দিক ইতোমধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। সামনের সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুৎ আসা শুরু হবে।

ইতিপূর্বে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে। প্রথমে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে। কয়েক মাস পর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে।

এই অবস্থায় আদানির বিদ্যুৎ কবে থেকে আসতে পারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই আদানির বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্বোধন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ আগে আসুক।’

জানা গেছে, জানুয়ারিতে আদানি পাওয়ার প্রতি টন কয়লার দাম ৪০০ ডলারে আমদানি করার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে চাহিদাপত্র পাঠালে শুরু হয় জটিলতা। দেশে চালু থাকা তিনটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র গড়ে ১৫০ থেকে আড়াই ডলারে কয়লা কিনছে। সেখানে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার এত দাম নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী কয়লার দাম ধরা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসেলের ৬২৩০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এ দুটির গড় দাম ধরে কয়লার দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আদানি কয়লা আনছে ৪৬০০ ক্যালরিফিক মানের কয়লা। এ ক্ষেত্রে আদানি কয়লার দামের ওপর ডিসকাউন্ট দিতে পারে। কারণ কয়লা খনিও আদানির নিজের। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদানিকে সেই অনুরোধই করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 16 =