Tuesday, May 5, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরভুল পরিকল্পনায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও বারবার ডুবছে চট্টগ্রাম

ভুল পরিকল্পনায় ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও বারবার ডুবছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় এক দশক ধরে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। খাল খনন, সম্প্রসারণ, রেগুলেটর নির্মাণ, সড়ক ও বাঁধসহ বিভিন্ন নামে তিনটি সরকারি সংস্থার চারটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। লক্ষ্য ছিল বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করা। তবে বাস্তবে দেখা যায়, মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো আবার পানিতে ডুবে যায়।

গত মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে প্রবর্তক, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাট, হালিশহর, নিউমার্কেট ও তিন পুলের মাথাসহ অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে চলে যায়। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে। অনেক এলাকায় পানি নামতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। পরদিন বুধবারও প্রবর্তক, কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশসহ কয়েকটি এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ প্রকল্প পরিকল্পনায় ত্রুটি। জলাবদ্ধতার মতো জটিল সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় মাঠসমীক্ষা, পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটার হিসাব এবং খাল-নালা-জলাধারের সমন্বিত মূল্যায়ন যথাযথভাবে করা হয়নি। নগরের সব খাল প্রকল্পের আওতায় আনা হয়নি এবং ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও বাদ পড়েছে। ফলে প্রকল্প এগোলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি আসছে না।

প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। শুরু থেকেই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আপত্তি ছিল। তবে সেগুলো গুরুত্ব পায়নি। গত এক দশকে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অন্তত ৫০টি সভা এবং দুই শতাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও একাধিক সভা করলেও মাঠপর্যায়ে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

গত বুধবার চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান জলাবদ্ধতার বিষয়টি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরবাসীর দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

বর্তমানে তিনটি সরকারি সংস্থা চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মোট ব্যয় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে মার্চ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তবে কোনো প্রকল্পই এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদিত সিডিএর ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প। এটি সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। কাগজে অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ হলেও বাস্তবে নগরের অনেক এলাকা এখনও পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

সিডিএ জানায়, প্রকল্পে ৩৬টি খাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ। হিজড়া ও জামালখান খালের কাজ চলমান। এসব খালে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ বৃষ্টির সময় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে বলে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, কিছু সুফল পাওয়া গেছে এবং গত বছর জলাবদ্ধতা কম ছিল। তবে সব খাল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, প্রকল্প শেষ হলেও শহরের ২০-২৫ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকতে পারে।

নগরে মোট ৭৪টি খাল থাকলেও বড় প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে ৩৬টি। বাকি ৩৮টি খাল এখনো বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাল অবহেলিত থাকলে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন খাল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খাল সংকুচিত হয়ে গেছে এবং পলি, প্লাস্টিক ও বর্জ্যে ভরাট। কোথাও পানির প্রবাহ কমে স্থির হয়ে আছে। পানি কালচে ও দূষিত। খালের দুই পাশে দখল এবং বর্জ্য ফেলার প্রভাবও স্পষ্ট। ফলে বৃষ্টির সময় পানি উপচে সড়ক ও বসতিতে ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সারওয়ার বলেন, আগে এসব খালে মাছ ধরা যেত এবং পানি চলাচল স্বাভাবিক ছিল, এখন খাল প্রায় মৃত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ নয় এবং ১৯৯৫ সালের মহাপরিকল্পনার অনেক সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। জলাধার সংরক্ষণ না থাকায় অতিরিক্ত পানি ধারণের সুযোগ কমেছে।

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, আগে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পানি জমে থাকলেও তা কিছুটা কমেছিল। গত বছর ২৯টি স্থানে পানি জমেছিল। চলতি বছর তা ১০টিতে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও প্রথম বৃষ্টিতেই অন্তত ২০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। চুয়েটের অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, জলাবদ্ধতা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে প্রকল্প কার্যকর হবে না।

জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না।’ তবে তার এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হয়। এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ১৯ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। এতে সিটি করপোরেশনের মেয়র আহ্বায়ক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্যসচিব। কমিটির কাজ হবে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, প্রকল্প তদারকি এবং সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + 7 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য