গাজার একটি মসজিদে ইসরাইলি সৈন্যদের পবিত্র কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদ জানানোর জন্য আরব ও মুসলিম দেশ এবং সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানায়, ‘পবিত্র কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদ অপবিত্র করা এবং ধ্বংস করা হলো এদের চরমপন্থী প্রকৃতি এবং আমাদের জাতির পরিচিতি ও পবিত্রতার সাথে সম্পর্কিত সবকিছুর বিরুদ্ধে এদের বিদ্বেষে পরিপূর্ণ অপরাধী সৈন্য ও তাদের ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রকাশ।’
আল জাজিরার আরবি সংস্করণে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, ইসরাইলি সৈন্যরা উত্তর গাজার বানি সালা মসজিদে সংরক্ষিত পবিত্র কোরআনের পাতা ছিড়ে ছিড়ে তাতে আগুন দিচ্ছে।
চ্যানেলটি ইসরাইলি ড্রোনে তোলা একটি ভিডিওও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ড্রোনটি খান ইউনিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদে বোমা ফেলছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, ইসরাইল গত ১০ মাসে গাজায় হামলা চালিয়ে ৬১০টি মসজিদ ও চার্চ পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
শনিবার হামাস ‘বিশ্বের মুক্ত লোকজনকে’ ফিলিস্তিনে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থাপনা রক্ষা এবং গাজা উপত্যাকায় ‘নিশ্চিহ্ন করার যুদ্ধ’ বন্ধ করতে ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানায়।
ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৪০,২০০-এর বেশি লোক নিহত হয়েছে। এর ফলে অবরুদ্ধ এই ছিটমহলটির প্রায় পুরো এলাকা ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স জানিয়েছে, গাজায় পবিত্র কোরআন অবমাননা করা এবং মসজিদগুলোকে টার্গেট করাতে প্রমাণিত হয় যে ‘গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধটি একইসাথে খোদ ইসলামের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ।’
গ্রুপটি ইসরাইলি নির্যাতনের নিন্দা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতিও আহ্বান জানায়।
গাজার ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদগুলোর পাশে জামাতে নামাজ পড়া অব্যাহত রেখেছে। তবে অনেকবার জামাতে নামাজের মধ্যেই ইসরাইলিরা বোমা বর্ষণ করেছে।
গত মাসে উত্তর গাজার শাতি উদ্বাস্তু শিবিরে বিধ্বস্ত একটি মসজিদের পাশে নামাজ পড়ার সময় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়।
চলতি মাসে গাজা সিটির একটি স্কুলে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০০ লোক নিহত হয়।
গত ডিসেম্বরে ইসরাইলি সৈন্যরা পশ্চিম তীরের জেনিনে একটি মসজিদে ঢুকে সেখানকার মিম্বারে ইহুদিদের প্রার্থনা করে, হানুক্কা সঙ্গীত গায়।
সূত্র : আল জাজিরা
