ফিলিস্তিনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে ব্যতিক্রমধর্মী একটি কফিশপের পরিচালনা করেন গাজার যুবক রাগিদ ইজ্জুদ্দিন। যেখানে মানুষ কফির মগে চুমুক দিতে দিতে জানতে পারে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের হাজার বছরের ইতিহাস এবং চোখে পড়ে সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো। আর শুনতে ফিলিস্তিনের লোকগল্পগুলো, যা বংশপরম্পরায় ফিলিস্তিনের ভূমি অমর হয়ে আছে। ৩৫ বছর বয়সী রাগিদ কফিশপটি পরিচালনা করেন তার মরহুম পিতার অনুপ্রেরণায় এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য।
রাগিদের ভাষায়, ‘তিনি সব সময় বলতেন, কখনো ফিলিস্তিন ত্যাগ করবে না। আমি কফিশপের ধারণাটি তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছি। আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করুন। তিনি সব সময় বলতেন একসঙ্গে থাকবে, নিজের মাতৃভূমি আঁকড়ে ধরে থাকবে। এ জন্যই আমরা সব সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এখানে অবস্থান করছি। যদিও গাজা একটি অবরুদ্ধ ভূমি। আমরা এখানেই থাকব এবং একসঙ্গেই থাকব। ’
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা দিবস ১৫ নভেম্বর ‘হানদাল হোন’ নামক কফিশপটি উদ্বোধন করা হয়। গাজার একটি জনবহুল অঞ্চলে তা অবস্থিত। গত মে মাসে ইসরাইলের ১১ দিনব্যাপী বোমা হামলার সময় এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হানদাল হোনের নিয়মিত গ্রাহক সোহাইল নাসার। তিনি বলেন, ‘আমি হানদাল হোনে আসি। কারণ এটা শুধু একটি কফিশপ নয়; এটি আমাদের একত্র হওয়ার স্থান। যারা এখানে আসে তারা পরস্পরকে চেনে। যুবকরা এখানে বিভিন্ন কাজের অনুপ্রেরণা পায়। এখানে আনন্দমুখর সময় কাটানোর বহু আয়োজন আছে। যেমন গান শোনা, দাবা খেলা, ছবি তোলা, ছবি ও ভিডিও এডিট করা ইত্যাদি। ’
শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাস নয়; বরং ‘জীবনের অর্থ’ নির্ণয়ে এখানে হয় তাত্ত্বিক বিতর্কও। আলোচনা হয় ফিলিস্তিনিরা কিভাবে একতাবদ্ধ হতে পারে। হানদাল হোনের অপর গ্রাহক ওয়াহিদ আবু সাহামা বলেন, ‘এখানে আমরা মুক্ত আলোচনায় লিপ্ত হই এবং আমাদের দেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় করি। কথা বলি, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আমি অবশ্যই অন্য কোনো জায়গায় চা বা কফি খেতে পারি। কিন্তু এই জায়গাটি ভিন্ন। কেননা এখানে আমরা আমাদের শেকড়ের গভীরত্ব ও ঐতিহ্য খুঁজে পাই। ’
গাজার মতো স্থান যেখানে মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় যুদ্ধ ও বহু সংকটের ভেতর জীবনযাপন করে, সেখান থেকে মানুষ দেশত্যাগের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। কিন্তু রাগিদ ও তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানুষ একত্রে বসবাসে উদ্বুদ্ধ করবে এবং একই সঙ্গে তারা বিশ্ববাসীকে জানাবে, কেমন সংকটের মধ্যে তারা জীবনযাপন করছে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
