Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরশিশুদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া যাবে না

শিশুদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া যাবে না

সত্য মানুষকে আলোকিত করে আর মিথ্যা মানুষকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। সত্য জান্নাতের পথ দেখায় আর মিথ্যা মানুষকে বিপথগামী করে। তাই সর্বাবস্থায় মিথ্যা থেকে দূরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করা আমাদের সবার কর্তব্য।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সত্যকে ধারণ করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য।

কেননা সততা নেক কর্মের দিকে পথ প্রদর্শন করে আর নেক কর্ম জান্নাতের পথ প্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলার চেষ্টায় রত থাকলে, অবশেষে আল্লাহর কাছে সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকো! কেননা মিথ্যা পাপের দিকে পথ প্রদর্শন করে। আর পাপ নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বললে এবং মিথ্যার ওপর অবিচল থাকার চেষ্টা করলে, অবশেষে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৩৩)
তাই আমাদের নিজেদের যেমন মিথ্যা থেকে দূরে থাকা উচিত, আমাদের সন্তানদেরও এমন পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত, যাতে তারা মিথ্যা থেকে দূরে থাকতে পারে।

কারণ শিশুর প্রথম শিক্ষক মা-বাবা। শিশুর শেখার শুরু তার পরিবার থেকেই। তাই মা-বাবা বা পরিবারের কর্তাব্যক্তিদের উচিত শিশুরা কী শিখছে সেদিকে লক্ষ রাখা। তাদের সঙ্গে মিথ্যা কথা না বলা।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের সামনে মিথ্যা অভিনয় করা হয়। অথচ কেউ চায় না যে তার বাচ্চাটি মিথ্যাবাদী হোক। তার পরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাচ্চারা কান্না করলে, কোনো কিছুর বাহানা ধরলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে না চাইলে বা নানা ব্যাপারে তাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তারা যখন দেখতে পায় যে তাদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তখন এটি তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তারা পরবর্তী সময়ে তাদের মা-বাবার সত্য আশ্বাসও বিশ্বাস করতে চায় না, তাদের কথাবার্তার গুরুত্ব দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাও মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা আশ্বাস দিতে শুরু করে।

আমাদের নবীজি (সা.) বাচ্চাদের মিথ্যা আশ্বাস দিতে বারণ করেছেন। এবং এ ধরনের মিথ্যা আশ্বাসেও যে মিথ্যার গুনাহ হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমির (রা.) বলেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের ঘরে বসা অবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, এই যে, এসো! তোমাকে দেব। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তাকে কী দেওয়ার ইচ্ছা করেছ? তিনি বলেন, খেজুর। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে তাহলে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ হতো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯১)

তা ছাড়া যা করবে না, তা বলা মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ, এতে মহান আল্লাহ রাগান্বিত হন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা তোমরা করো না। তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট বড়ই ক্রোধের বিষয়। ’ (সুরা : আস সফ, আয়াত : ২-৩)

তাই আমাদের উচিত আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের সঙ্গে মিথ্যা বলা, মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সব ধরনের মিথ্যা থেকে দূরে থাকা।

মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − seven =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য