দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইন্তেকাল করেছেন গাজার খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ ড. ওয়ায়েল মহিউদ্দিন আল-জারদ। গত শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকায় তাঁর বাড়িতে হামলা হয়। এরপর তিন দিন হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার পর গতকাল সোমবার (১৬ অক্টোবর) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বসয় ছিল ৫১ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বের খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক জানান।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শায়খ আল-জারদের ছেলে আল-বারা দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়। ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিলে অন্যদের সঙ্গে সে-ও মারা যায়। তখন শায়খ আল-জারদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমাদের সন্তান আল-বারা শহিদ হওয়ায় আমরা মোটেও ক্ষান্ত হইনি।
আল্লাহর শপথ, আমরা সত্য, শক্তিমত্তা ও স্বাধীনতার পথে পথচলা অব্যাহত রাখব। যেন আমরা দেশের মাটিকে অত্যাচারী দখলদারদের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করতে পারি। অতঃপর যারা বেঁচে থাকবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারাই তা দেখবে।’
শায়খ ড. ওয়ায়েল মহিউদ্দিন আল-জারদ
শায়খ ড. ওয়ায়েল মহিউদ্দিন আল-জারদ ১৯৭২ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি আট সন্তানের পিতা ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। ১৯৯৫ সালে উসুলুদ্দিন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরের বছর থেকে তিনি গাজার বিখ্যাত উমর (রা.) গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মক্কায় অনুষ্ঠিত পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ছিলেন।
২০০১ সালে গাজা ইউনিভার্সিটি থেকে হাদিস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি এবং মিসরের আইনে শামস ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি গাজার ইউনিভার্সিটি কলেজ অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস, আল-কুদস ওপেন ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি গাজায় দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি আরব বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইসলামিক স্টাডিজ তথা কোরআন, হাদিস ও উসুলুদ্দিন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি আল-দারাজ এলাকার মাহাত্তাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র : আলজাজিরা ও আল-আরাবিয়াহ
