রাজধানীর দক্ষিণখানে গার্মেন্টসকর্মী আজহারুল ইসলামকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবদুর রহমান নিজ শয়নকক্ষে খুন করেন। এর পর সেখানেই লাশটি ছয় টুকরো করে মসজিদের ওজুখানার গেটসংলগ্ন সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। কিছু দিন পর সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তা দূর করতে আবদুর রহমান সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনার ওপর ঢালাই করে দেন মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য রাখা সিমেন্ট দিয়ে। কিন্তু এত কিছুর পরও শেষ রক্ষা হয়নি আবদুর রহমানের; শেষ রক্ষা হয়নি নিহত আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তারেরও, যিনি আবদুর রহমানের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। গতকাল বুধবার আসমা আক্তার ও আবদুর রহমানকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে গত মঙ্গলবার রাতে আসমাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। র্যাবের ভাষ্য- পরিকল্পনা করেই স্থানীয় সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমানকে দিয়ে নিজের স্বামীকে খুন করান ওই নারী। মূলত ইমামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন আসমা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এ বিষয়ে গতকাল র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নিহত আজহারের সঙ্গে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমানের পারিবারিক সম্পর্কের মতো ছিল। আজহার-আসমা দম্পতির চার বছরের শিশুসন্তানকে আরবি পড়াতেন ইমাম আবদুর রহমান। আজহারকেও আরবি পড়াতেন তিনি। সেই সুবাদে ৫-৬ মাস ধরে তাদের বাসায় আসা-যাওয়া ছিল ইমামের। এর মধ্যেই আজহারের স্ত্রী আসমার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়।’ র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সময় আজহারকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মসজিদের ইমামকে বলেন আসমা। আর সেই কাজটি ভাড়াটে কাউকে দিয়ে করানোর জন্য বলেন। কিন্তু অন্যকে দিয়ে না করিয়ে ইমাম আবদুর রহমান নিজেই খুনের ছক কষেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ মে রাতে আজহারকে মসজিদে ডেকে নেন ইমাম। সেখানেই ছুরি দিয়ে হত্যা করেন তাকে। এর পর নিজের শয়নকক্ষেই লাশ ছয় টুকরো করে ফেলে দেন সেপটিক ট্যাংকে।’
এর মধ্যে গত ২৪ মে র্যাব ১-এর গোয়েন্দা দল গোপন সূত্রে জানতে পারে, সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ লেগে আছে এবং পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। ওই দিন রাতেই সেপটিক ট্যাংক থেকে নিখোঁজ আজহারের খ-িত লাশ উদ্ধারসহ হত্যাকা-ের মূলহোতা সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. আবদুর রহমানকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে র্যাব।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার সাব-ইন্সপেক্টর অনুজ কুমার সরকার গতকাল আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত দুজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসমা আক্তারের পক্ষে আইনজীবী দিলীপ কুমার সরকার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘ঘটনা মসজিদের ভেতরের। তখন আসমা ছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। কী কারণে তার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছে তিনি তা জানেন না। যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তার সাজা চাই। কিন্তু নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। আসমার একটা ছোট সন্তান রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন প্রার্থনা করছি।’
আসামি আবদুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী বলেন, ‘মসজিদের ইমাম আবদুর রহমান এলাকার ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। হয়রানি করার জন্য তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। বয়স্ক মানুষ। রিমান্ডে নিলে তাকে টর্চার করা হবে। তাই রিমান্ড বাতিল করে তাকে জামিন দেওয়া হোক।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
