Wednesday, April 22, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবর‘স্মার্ট গ্রিড’র দিকে যেতে শীর্ষ মার্কিন পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে পাওয়ার সেল

‘স্মার্ট গ্রিড’র দিকে যেতে শীর্ষ মার্কিন পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে পাওয়ার সেল

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকার প্রচলিত গ্রিড সিস্টেমকে ধীরে ধীরে স্মার্ট গ্রিডে উন্নীত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে স্মার্ট গ্রিড সিস্টেমটি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) অধীনে প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) অধীনে স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপকে (বিসিজি) নিয়োগ দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কারিগরি শাখা পাওয়ার সেল জাতীয় গ্রিড ও সংযুক্ত ইউটিলিটির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং নতুন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে জরিপ পরিচালনার জন্য তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।

‘বাংলাদেশের পাওয়ার ইউটিলিটিগুলোর জন্য ও স্মার্ট গ্রিড রোডম্যাপের প্রযুক্তিগত সহায়তা’ শিরোনামে এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিসিজি।

ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির আর্থিক সহায়তায় এবং ফলোআপ হিসেবে বিজিসি এই জরিপ পরিচালনা করে। ইউএসটিডিএ পরবর্তী জরিপ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ১ জুন অনুদান হিসেবে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে পাওয়ার সেলের সাথে একটি চুক্তি সই করেছে।

পাওয়ার সেলের কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় বিসিজি সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি সব বিদ্যুৎ ইউটিলিটির প্রযুক্তিগত ও আর্থিক চাহিদা মূল্যায়ন করে আরো বিস্তৃত ও বিশদ অধ্যয়ন করবে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, একটি মার্কিন পরামর্শক সংস্থা সামগ্রিক সিস্টেমকে একটি স্মার্ট গ্রিড সিস্টেমে রূপান্তর করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে। সেখানে সবকিছু ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে এবং বিদ্যমান ম্যানুয়াল সিস্টেমের পরিবর্তে একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য ও ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২৭ হাজার ৮৩৪ মেগাওয়াট। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট উৎপন্ন হয়েছিল।

ট্রান্সমিশন লাইনের দৈর্ঘ্য ১৪ হাজার ৯৩৪ সার্কিট কিলোমিটার যেখানে ৬৩ হাজার ৮৯৫টি গ্রিড সাবস্টেশন রয়েছে এবং বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৬ লাখ ৪৩ হাজার কিলোমিটার।

মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন এবং সিস্টেম লস ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

কর্মকর্তারা বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে দ্রুত বর্ধনশীল সিস্টেমকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকার স্মার্ট গ্রিড প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তারা বলেন, পরামর্শক সংস্থা বিসিজি ডিসেম্বরে পরবর্তী প্রতিবেদন জমা দেবে। যার ভিত্তিতে পিজিসিবি ও ডিপিডিসি স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করবে।

এদিকে প্রাথমিক জরিপসহ জমা দেয়া প্রতিবেদনে বিজিসি সাইবার নিরাপত্তাকে একটি মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এখানে পিজিসিবিসহ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রিড নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে পিছিয়ে রয়েছে।

স্মার্ট গ্রিড প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ৮টি মূল চ্যালেঞ্জ ও ২৮টি প্রযুক্তি সমাধান ও উদ্যোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের বিতরণ খাতে ১৫টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুতের গুণমান, ম্যানুয়াল অপারেশন ও সম্পদের সীমিত দৃশ্যমানতা, সরবরাহের পরিবর্তনশীলতা বৃদ্ধি, বিলিং দক্ষতা উন্নত এবং অ-প্রযুক্তিগত ক্ষতি হ্রাস, উন্নত গ্রাহক সন্তুষ্টি, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং পয়েন্টের অভাব এবং অসম্পূর্ণ রাজস্ব আদায়ের মতো মূল চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিসিজি বিদ্যুৎ খাতের ট্রান্সমিশন বিভাগের জন্য ৫টি চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত করেছে।

সেগুলো হলো উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি লস, ক্রমবর্ধমান ট্রান্সমিশন লস, গ্রিড সম্পদের ম্যানুয়াল অপারেশন ও প্রতিক্রিয়াশীল ভিএআর (ভোল্ট-অ্যাম্পস প্রতিক্রিয়াশীল) ব্যবস্থাপনা।

সবশেষে এই সেক্টরের জেনারেশন সেগমেন্টের জন্য ২টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে।

সেগুলো হলো উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি প্রকরণ ও পাওয়ার বাধা।

সূত্র ইউএনবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য