Sunday, April 26, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeসীরাতহাকিম ইবনে হিজাম (রা.), যাঁর জন্ম হয়েছে কাবা শরিফের ভেতর

হাকিম ইবনে হিজাম (রা.), যাঁর জন্ম হয়েছে কাবা শরিফের ভেতর

হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) মক্কার বিখ্যাত ‘কুরাইশ’ গোত্রের ‘বনু আসাআদ’ শাখার সন্তান। তিনি ছিলেন উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.)-এর ভাতিজা।

হাকিম (রা.) ভূমিষ্ঠ হন কাবা শরিফের অভ্যন্তরে। একবার তাঁর মা অন্য কুরাইশি নারীর সঙ্গে কাবা শরিফের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

সেখানেই তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয়। বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই সেখানেই একটি চামড়া বিছিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই তিনি হাকিমকে প্রসব করেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কাবা শরিফের অভ্যন্তরে ভূমিষ্ঠ হন। এটা হস্তী বাহিনীর ১৩ বছর আগের ঘটনা। তিনি রাসুল (সা.) থেকে ১৩ বছরের বড় ছিলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৪৬; আনসাবুল আশরাফ ৯/৪৫৪)
হাকিম (রা.) মক্কার এক সম্পদশালী অভিজাত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন ভদ্র ও বুদ্ধিমান, যার কারণে কুরাইশরা তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।

অষ্টম হিজরি সনে মক্কা বিজয়ের সময় হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) তাঁর সব সন্তানসহ ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স ৭৪ বছর। সেদিন রাসুল (সা.) হাকিম ইবনে হিজামের ঘরকেও আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ করেছিলেন, ‘যে আবু সুফিয়ান, হাকিম ইবনে হিজাম ও বুদাইল ইবনে ওয়ারকার ঘরে প্রবেশ করবে, সে মুসলিম বাহিনীর হামলা থেকে নিরাপদে থাকবে; এমনকি যে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে, সেও নিরাপদ। ’ এরপর হাকিম (রা.) হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাসুল (সা.) তাঁকে ‘মুআল্লাফাতুল কুলুব’-এর অন্তর্ভুক্ত করে হুনাইনের গনিমত থেকে ১০০ উট দেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৪৪—৪৫, ৪৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৬৮)

হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর ১০০ গোলাম আজাদ করেছিলেন, ১০০ উট বাইতুল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/৪৯)

‘দারুন নাদওয়া’ মক্কার একটি বাড়ির নাম, যাতে কুরাইশ নেতারা একত্র হতো এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ করত। বাড়িটি একসময় নির্মাণ করেছিল কুরাইশ বংশের ঊর্ধ্বতন পুরুষ কুসাই। কালক্রমে হাত বদল হয়ে বাড়িটির মালিক হন হাকিম ইবনে হিজাম (রা.)। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তা মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে এক লাখ দিরহাম মূল্যে বিক্রি করে দেন। মুয়াবিয়া (রা.) তাঁকে তিরস্কার করে বললেন, ‘আরে আপনি আপনার বাপ-দাদার মর্যাদার স্মৃতিটুকুও বিক্রি করে দিলেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘জাহেলি যুগের সব মর্যাদার বিলুপ্তি ঘটেছে। একমাত্র তাকওয়া ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে অর্জিত মর্যাদাই প্রকৃত মর্যাদা। তার বিলুপ্তি হবে না কখনো। এই বাড়িটি আমি খরিদ করেছিলাম এক ড্রাম মদের বিনিময়ে, আর এখন তা বিক্রি করলাম এক লাখ দিরহামে। আপনারা সাক্ষী থাকুন! এর সব দিরহাম আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হবে। ’ (মুজামুল বুলদান ২/৪২৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৬৯)

ইসলাম গ্রহণের পর তিনি একাধিক হজ করেছেন। এক হজে ১০০ উট, আরেক হজে এক হাজার ছাগল কোরবানি করেন। আরেক হজে আরাফার ময়দানে ১০০ গোলাম আজাদ করেন। কোনো বর্ণনামতে, এক হজেই এসব করেছেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৬৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen − three =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য