Saturday, April 25, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeকুরআন ও হাদীসহাদিসের ভাষ্যে মানুষের অধঃপতনের ৫ কারণ

হাদিসের ভাষ্যে মানুষের অধঃপতনের ৫ কারণ

মূলত মানুষের কর্মের কারণেই তার অধঃপতনের সূচনা হয়। পৃথিবীর সব জাতিই নিজেদের উন্নতি চায়। তারপরও অনেকে অধঃপতনের শিকার। অপরাধ যখন ব্যক্তি পর্যায়ে থাকে তখন অধঃপতন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আবার যখনই ব্যাপক হারে কোনো দেশ বা জাতি অপরাধে লিপ্ত হয়, তখন সে অপরাধের দায় সবার ওপর বর্তায় এবং শুরু হয় দেশ ও জাতির অধঃপতন।  

সুনানে ইবনে মাজাহ’র এক হাদিসের ভাষ্য হলো—কোনো দেশে পাঁচ ধরনের অপরাধ চলমান থাকলে, তারা কখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে না। তাদের অধঃপতন সুনিশ্চিত।  

এক. অশ্লীলতা

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। তার কাজই হলো, অন্যায় ও অশ্লীলতার আদেশ দেওয়া। ইসলাম কিন্তু সব সময়ই অশ্লীলতাকে নিষেধ করে। (সুরা বাকারা: ১৬৮-১৬৯) হাদিসের ভাষায়, ‘যখনই কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, (যেমন সুদ, ঘুষ, জিনা ইত্যাদি) তখন তাদের মধ্যে মহামারির আকারে প্লেগ ও এমন সব ব্যাধির জন্ম হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।’

দুই. মাপে কমবেশ করা

বেচাকেনায় ওজন করার সময় সঠিকভাবে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওজনে কারচুপি করার অপরাধে পূর্বে এক জাতি ধ্বংসও হয়েছে। (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৫) হাদিসের ভাষায়, ‘যখন কোনো জাতি ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে, তখন তাদের ওপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ ও কঠিন বিপদ-মসিবত। আর তাদের ওপর শুরু হয় জালেম শাসক গোষ্ঠীর নিপীড়ন।’

তিন. জাকাত না দেওয়া

জাকাত হলো ধনীর সম্পদে গরিবের অধিকার। জাকাত না দিয়ে সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা গরিব-দুঃখীর সম্পদ আত্মসাৎ করারই নামান্তর। (সুরা জারিয়াত: ১৯) হাদিসের ভাষায়, ‘কোনো জাতি যখন সম্পদের জাকাত আদায় করা থেকে বিরত থাকে, তখন আসমান তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু-জানোয়ার (গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, ঘোড়া ইত্যাদি) না থাকত তাহলে আর কখনো জমিনে বৃষ্টিপাত হতো না।’  

চার. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা

পবিত্র কোরআনে অঙ্গীকার পূরণের জোরালো তাগিদ এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এখানে অঙ্গীকার বলতে, আল্লাহ তাআলা বান্দার কাছ থেকে ইমান ও ইবাদত সম্পর্কিত যেসব অঙ্গীকার নিয়েছেন অথবা তাঁর নাজিলকৃত বিধি-বিধান হালাল ও হারাম সম্পর্কিত যেসব অঙ্গীকার নিয়েছেন, আয়াতে সেগুলোই  উদ্দেশ্য। (তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন, সুরা মায়েদাহ: ১ নম্বর আয়াতের তাফসির দ্রষ্টব্য) হাদিসের ভাষায়, ‘যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) এর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, আল্লাহ তাদের ওপর বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করে দেন। সে তাদের ধন-সম্পদসহ সবকিছু কেড়ে নেয়।  

পাঁচ. শরিয়া বহির্ভূত বিচার ব্যবস্থা

জমিন আল্লাহ তাআলার। বিচার বিভাগ চলবে তারই নির্দেশিত পন্থায়। নিজেদের মনগড়া আইন বানিয়ে আল্লাহর জমিনে বিচারকার্য চলতে পারে না। (সুরা আনআম: ৫৭) হাদিসের ভাষায়, ‘শাসকবর্গ যখন আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফয়সালা করে না এবং বিচার বিভাগে আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অগ্রাহ্য করে, তখন তিনি তাদের পরস্পরের মধ্যে (যুদ্ধ) দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৪০১৯)

লেখক: শিক্ষক বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স টঙ্গী, গাজীপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য