গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আরো বেশি পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও যুক্তরাষ্ট্র, কাতারসহ অন্যান্য দেশ আশ্বাস দিয়েছে হামাসকে। এর ফলেই শনিবার দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা বিলম্বের পর ইসরাইলি এবং অন্যান্য বন্দীকে মুক্তি দেয় হামাস। শনিবার হামাস ১৩ ইসরাইলি এবং চার থাই বন্দীকে মুক্তি দেয়। আর ইসরাইল তাদের কারাগার থেকে ৩৯ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়।
এর আগে হামাসের মুখপাত্র ওসামা হামদান বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যে পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা উত্তর গাজায় প্রবেশ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তা করা হচ্ছে না।
তিনি বৈরুত থেকে বলেন, শুক্রবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর মাত্র ৬৫ ট্রাক সহায়তা উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে। অথচ এই সময় প্রবেশ করার কথা ৩৪০ ট্রাক সহায়তা। তিনি বলেন, ‘চুক্তির অর্ধেকেরও কম সহায়তা প্রবেশ করেছে।’
ইসরাইল বলেছে, জাতিসঙ্ঘের তদারকিতে উত্তর গাজায় ৫০ ট্রাক খাবার, পানি, আশ্রয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা সরবরাহ গেছে। সাত সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম বড় ধরনের সহায়তা উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে।
এর আগে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসসাম ব্রিগেড জানায়, ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির শর্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইল।
বন্দীবিষয়ক ফিলিস্তিনি কমিশনার কাদুরা ফারেস বলেন, যেমনটি প্রত্যাশা করা হয়েছিল, ইসরাইল তেমনটি অনুসরণ করে সিনিয়রিটি অনুযায়ী বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছে না।
হামাসের দাবির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগেরি বলেন, সরকার হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে অনেক পক্ষ এবং অনেক বিষয় এতে জড়িত রয়েছে। আর প্রতিটি দিনই নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
হামাসের শর্ত পূরণের দাবির মুখে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার তার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সাথে বৈঠক করেন। টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়, তারা চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আরেক খবরে বলা হয়, কাতার এবং মিসরের ব্যাপক প্রয়াসের ফলে রাত ৯টার দিকে হামাস বন্দীদের মুক্তি দিতে শুরু করে। কাতার এবং মিসর চুক্তি পূরণের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করে। দেশ দুটি ইসরাইলের সাথেও আলোচনা করে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন শনিবার বলেছেন, গাজায় আরো বেশি মানবিক সহায়তা এবং জ্বালা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রী অস্টিন জানিয়েছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা অবশ্যই বাড়াতে হবে। গাজার সব এলাকায় সহায়তা পাবে।
সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল এবং অন্যান্য
