চরিত্র গঠনে বিশুদ্ধ আকিদার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর একত্ববাদে পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা, আল্লাহর ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা, আল্লাহর অবতীর্ণ করা আসমানি কিতাবগুলোর ওপর ঈমান আনা, আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলদের ওপর ঈমান আনা, কিয়ামতের দিনের ওপর ঈমান আনা, তাকদিরের ভালো-খারাপ আল্লাহর হাতেই বিশ্বাস স্থাপন করা ইত্যাদি ঈমানের পূর্বশর্ত। আর এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক বিশুদ্ধ বিশ্বাস অর্জন করা হলো বিশুদ্ধ আকিদা অর্জনের মাধ্যম। যার আকিদা যত বিশুদ্ধ হবে, তার ঈমানও তত দৃঢ় হবে।
পাশাপাশি তার চরিত্রও তত পবিত্র হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ওই মুমিন ঈমানে পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সর্বোত্কৃষ্ট। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৮২)
সে হিসেবে বিশুদ্ধ আকিদা যেহেতু বিশুদ্ধ ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই বিশুদ্ধ আকিদাকেও উত্তম চরিত্র গঠনের অংশ বলা যায়।
বিশুদ্ধ আকিদা হলো, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা, যারা তাদের অনুসারীদের উত্তম চরিত্র গঠনের তাগিদ দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলমান হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম, তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম। (তিরমিজি, হাদিস : ১১৬২)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সচ্চরিত্র ও সদাচারই দাঁড়িপাল্লার মধ্যে সবচেয়ে ভারী হবে। সচ্চরিত্রবান ও সদাচারী ব্যক্তি তার সদাচার ও চারিত্রিক মাধুর্য দ্বারা অবশ্যই রোজাদার ও নামাজির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৩)
যারা বিশুদ্ধ আকিদায় বিশ্বাসী, তারা কোরআন-হাদিসের এই নির্দেশনাগুলোকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং নিজেদের চরিত্র পরিশুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ সবাইকে বিশুদ্ধ আকিদা ও উত্তম চরিত্র অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
