Sunday, April 19, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeনিবন্ধখুতবার বিষয়ঃ মি'রাজে রাসূলুল্লাহর দেখা জাহান্নামের দৃশ্য-খতীবঃশাইখ ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ মাদানী

খুতবার বিষয়ঃ মি’রাজে রাসূলুল্লাহর দেখা জাহান্নামের দৃশ্য-খতীবঃশাইখ ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ মাদানী

তারিখ: ২৮-০১-২০২২ স্থানঃ মাসজিদ আস সিদ্দীক (রাঃ) কমপ্লেক্স, শান্তিনগর, ঢাকা।

আল্লাহ্‌র নবী (সাঃ) মিরাজের সময় “সিদরাতুল মূনতাহা” বা যেখানে গিয়ে বিশাল সৃষ্টি জগতের সীমানা শেষ হয়ে গেছে সেটা দেখেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলাই জানেন সেই বড়ই গাছ কি রকম। সেখানেই যে জান্নাত আল্লাহ্‌ তা’আলা মুত্তাকীদের জন্য তৈরি করে রেখেছিলেন সেটা আছে। আর এর একেবারেই বিপরীতে নিচেই হচ্ছে জাহান্নাম। রসুলুল্লাহ (সাঃ) জান্নাত ও জাহান্নাম দুইটাই দেখেছেন। এখান থেকে একটা আকীদা যে জান্নাত ও জাহান্নাম কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তা’আলা তৈরি করবেন এমন নয়। বরং এগুলো সৃষ্টি করে রেখেছেন, এবং এটা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আরো একটি আকীদা সেটা হচ্ছে জান্নাত ও জাহান্নাম সহ “ইল্লা মা শা আল্লাহ্‌” এগুলো কখনও ধ্বংস হবে না কিয়ামতের সময়। আর সব কিছু ধ্বংস হবে। কুরআনের প্রত্যেকটি আয়াতেই আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামীন জান্নাত বা জাহান্নামের কথা বর্ণনা করেছেন।
প্রথমেই রসুল্ (সাঃ) এর সামনে জাহান্নামের রুক্ষক ফিরিস্তা “মালিক” আসেন। একাধিক হাদিসে পাওয়া যায়, যে তাকে দেখা গেছে তার মুখ ছিলো মলিন। আল্লাহ্‌ তা’আলা কুরআনেও তার নাম উল্লেখ্য করেছেন। জাহান্নামের ভয়াবহতা তার চেহারাকে মলিন করে দিয়েছে।

জাহান্নামের বিভিন্ন দৃশ্য তিনি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেনঃ
১) জাহান্নামের অধিকাংশই নারী। এটা একটা ভয়াবহ মেসেজ। এটা নারীদের ছোটো করার জন্য নয়, বরং এটা তাদেরকে একটা তথ্য দেওয়ার জন্য।
ইবনু আব্বাস রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“..”أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ … “
“আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে ; আর সেখানে অধিকাংশ অধিবাসিরাই নারী। …” [বুখারি-১০৫২।]
তখন রসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কি কারণে অধিকাংশ নারী?
রাসূল সা বললেন, “….قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ…..”
“তারা তাদের স্বামীদের অকৃতজ্ঞ হয়… এবং তোমরা অধিক মাত্রায় অভিসম্পাত করে থাক”
[ সহীহ : বুখারী ৩০৪, মুসলিম ৮০, সহীহাহ্ ১৯০, সহীহ আল জামি‘ ৭৯৮০, ইরওয়া ৯২৪। ]

দেখুন এগুলো কিন্তু আমলের সাথে জড়িত ব্যাপার নয়, যে তোমরা সালাত কম করো/ সিয়াম কম করো/ সালাত আদায় করো না এগুলো বলেন নি রসুল (সাঃ) । বোন যারা আছেন খুব ভালো করে খেয়াল করতে হবে যে, স্বামীর অকৃতজ্ঞ হবেন না, একটু ধৈর্য ধরতে পারলেই পুরুস্কার আছে। হবেন না। উনাদের ত্রুটি দেখলেই অকৃতজ্ঞ হবেন না। এবং অবশ্যই অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
২) দ্বিতীয় দৃশ্য যেটা তিনি দেখেছিলেন, তা হচ্ছে এক দল লোক যারা মরা প্রাণী খাচ্ছে, জিজ্ঞাসা করলেন যে এরা কারা, তারা সেই সমস্ত লোক যারা মানুষের গোস্ত খেত। (অর্থাৎ যারা অপ্রয়োজনীয় গিবত করতেন)
এই ভয়ঙ্কর গুনাহে পেট ভরতি হয় না, এর কোন স্বাদ ও নেই।

৩) আরেক হাদিসে আছে,
“*عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا عُرِجَ بِيْ رَبِّيْ مَرَرْتُ بِقَومٍ لَهُمْ أظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَصُدُوْرَهُمْ فَقُلْتُ *مَنْ هؤُلاَءِ يَا جِبْرِيْلُ؟ قَالَ هؤُلاَءِ الَّذِيْنَ يَأكُلُوْنَ لُحُوْمَ النَّاسِ وَيَقَعُوْنَ فِيْ أعْرَاضِهِمْ”
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার পরওয়ারদেগার যখন আমাকে মি‘রাজে নিয়ে গেলেন, তখন আমি কতিপয় লোকের নিকট দিয়ে গমন করলাম, যাদের নখ ছিল তামার। তা দ্বারা তারা নিজেদের মুখমন্ডল ও হব আঁচড়াতে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন, ঐ সকল লোক যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের ইয্যত আব্রুর হানি করত’ (আবুদাউদ, বাংলা মিশকাত হা/৪৮২৫)।
সুতরাং সতর্ক হতে হবে।

৪) এরপরের দৃশ্যঃ

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক দল মানুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম জাহান্নামের কাঁচি দিয়ে যাদের ঠোঁট কাটা হচ্ছিল। আমি বললাম, এরা কারা? তারা (ফেরেশতারা) বলল, এরা হলো পৃথিবীর সেসব বক্তা, যারা অন্যকে ভালো কাজের নির্দেশ দিত এবং নিজেদের কথা ভুলে থাকত (আমল করত না)। তারা কোরআন তিলাওয়াত করত। তারা কি বুঝবে না। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২২১১)

অন্য একটি হাদিসে আছে,রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
আমার মৃত্যুর পর উম্মতের উপর আশংকা ঐ সমস্ত মুনাফিক যারা মুখের দিক থেকে মহা পণ্ডিত। খেয়াল করতে হবে যে আপনার বাহিরের বক্ত্যব্য যতক্ষণ পর্যন্ত ভেতরের সাথে না মিলবে ততক্ষন পর্যন্ত এগুলো ঈমান হিসেবে গৃহীত হবে না, মুনাফিকি হিসেবে গৃহীত হবে।

৫) এরপরের রসুল (সাঃ) জাহান্নামে দেখলেন হাই ইবনে কামআর পুত্রকে। সে খুযাআর নেতৃস্থানীয় লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। জুরহুম গোত্রের পরে কা’বার মুতাওয়াল্লী তারাই হয়েছিল। তারাই সর্বপ্রথম দ্বীনে ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। হেজাযে তারাই প্রতিমা পূজার সূচনা করেছিল। একবার তিনি শামের ‘বালক্বা’ (الْبَلْقَاء) অঞ্চলের ‘মাআব’ (مَآب) নগরীতে গিয়ে দেখেন যে, সেখানকার লোকেরা জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ‘হুবাল’ (هُبَل) মূর্তির পূজা করে। তিনি তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলে যে, আমরা এই মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করলে বৃষ্টি হয় এবং সাহায্য প্রার্থনা করলে সাহায্য পাই’। আমর শামের লোকেদের থেকে মূর্তিপূজা আরবে আমদানী করেছিলো।
রসুল (সাঃ) বলেছেন,ঃ
‘আমার সম্মুখে (স্বপ্নে) জাহান্নামকে পেশ করা হ’ল, … অতঃপর আমাকে দেখানো হ’ল ‘আমর বিন ‘আমের আল-খুযাঈকে। জাহান্নামে সে তার নাড়ী-ভুঁড়ি টেনে বেড়াচ্ছে।

৬) এরপরের যে করুণ দৃশ্য দেখলেন।,

হজরত সোমরা ইবনে জুন্দুব (রা.) রেওয়ায়েত করেছেন, হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন: ‘মেরাজ রজনীতে আমি দেখতে পেলাম যে, একটি রক্তের নদী প্রবাহিত হচ্ছে। তার মধ্যে জনৈক ব্যক্তি হাবুডুবু খাচ্ছে। লোকটি মাঝে মাঝে সাতরিয়ে তীরে আসার চেষ্টা করলে তীরে দন্ডায়মান এক ব্যক্তি তার প্রতি প্রস্তর নিক্ষেপ করে তাকে পুনরায় নদীর দিকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। তার এই অবস্থা দেখে আমি জিব্রাইল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ কোন ব্যক্তি? জিবরাইল (আ.) বললেন, এ ব্যক্তি আপনার সুদখোর উম্মত।’ (বোখারী)

কবর থেকেই সুদের শাস্তি দেওয়া হবে।

৭) এরপর দেখলেন জাহান্নামীদের পচাগলা পুঁজ যে যায়গায় জমা হয় সেই “তিনাতুল হাবাল” এ কিছু লোক জাহান্নামিদের শরীর থেকে নির্গত বিষাক্ত নোংরা পুঁজ পান করছে। এরা ছিলো তারা পৃথিবীতে যারা মদ কিংবা নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করত । (মুসলিম, হাদিস : ৫৩৩৫)।
আল্লাহ্‌র বিধানের কিছু জিনিস আছে যা কখনও পরিবর্তিত হবে না, যদি সকল উলামায় কিরাম ইজমা করেও ফতোয়া করে বা মিম্বর থেকেও ঘোষণা করে, এরকম একটা বিষয় হচ্ছে মদ।

৮) এরপর তিনি আরো বলেন, আমরা চলতে চলতে (তন্দুর) চুলার মতো একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম। সেখানে শোরগোল ও নানা শব্দ ছিল। আমরা তাতে উঁকি মেরে দেখলাম, তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী-পুরুষ আছে। আর নিচ থেকে নির্গত আগুনের লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে। যখনই লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে, তখনই তারা উচ্চরবে চিৎকার করে উঠছে। …তারা হলো ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণীর দল। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৪৭)

৯) আরেক দল লোককে দেখেছিলেন, যাদের হাতে করাতের মত, নিজেদের মুখের উপর আঘাত আনছে। এরা হচ্ছে ইয়াতীমের মাল ভক্ষণকারী। আরেক ফল তাদের পায়ের অংশ দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে, আর তাদের চোয়ালগুলো ছিড়ে মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে , এরা রমাদান মাসের সিয়াম সময় হবার আগেই করে ফেলে।
সুতরাং সময় হবার আগেও ইফতার করা যাবে না আবার সময় হবার পরেও দেরী করে ইফতার করা যাবে না।

১০) এছাড়াও আরেকটি শাস্তি দেখলেন, যেটা নারীদের সংশ্লিষ্ট। হাদিসে এসেছে, ‘আমি এমন এক দল নারীর কাছে এলাম, সাপ যাদের স্তনে দংশন করছে। আমি বললাম, এদের কী হয়েছে? সে বলল, এসব নারী তাদের সন্তানদের দুধ পান করতে বাধা দিত। ’ (মুসতাদরিকে হাকিম, হাদিস : ২৮৩৭)
ইদানীং প্রগতিবাদীরা এটা করে থাকেন, অথচ সন্তানকে দুধ পান করানো নিজের ও সন্তানের উভয়ের জন্যই উত্তম।


১১) এছাড়াও তিনি দেখছিলেন সামুদ গোত্রের উস্ট্রি হত্যাকারী যে ব্যাক্তি তাকেও দেখেছেন যে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

এবার অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, যে এখনও কিয়ামত হয় নি, হিসাব হয় নি, হাশর হয় নি, তাহলে তিনি জাহান্নাম কিভাবে দেখলেন?
প্রথমতঃ ইমানদার ব্যাক্তিগণ রসুল (সাঃ) গায়েবের ব্যাপারে যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, ঠিক যেভাবে দিয়েছেন সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই। কারণ প্রত্যেকটা জিনিসের ধরণ কিভাবে বুঝি, সেটা দেখে , যেরকম কাঠাল বা নারিকেল । তাই যে সকল বস্তু আমাদের আকল পর্যন্ত পৌছাতে পারে না, সেখানে শুধু মাত্র ঈমাণ কাজ করবে, প্রশ্ন কাজ করবে না। জাহান্নামের ব্যপারে রসুল (সাঃ) যা দেখেছেন এগুলো গায়েবের অংশ, এগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হারাম। এছাড়া এসব দেখা গুলো ছিলো রসুল (সাঃ) কে খাস ভাবে দেখানো হয়েছে, যেন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত উম্মতকে সাবধান করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 3 =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য