Wednesday, June 3, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদৈনন্দিন খবরসম্প্রীতি মুসলিম সমাজের বৈশিষ্ট্য

সম্প্রীতি মুসলিম সমাজের বৈশিষ্ট্য

একজন মানুষ তার ব্যক্তিজীবনে যত বেশি সমৃদ্ধই হোক না কেন, সে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে ধর্ম, বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সবার কাছ থেকে সহযোগিতা গ্রহণ করতে বাধ্য। কারণ মানুষ সৃষ্টিগতভাবে সামাজিক জীব। একাকী জীবনযাপন করা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই ইসলামের দাবি হচ্ছে সমাজে বসবাসরত সবাই ঐক্য, সংহত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আর সম্প্রীতিপূর্ণ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করবে। বিশ্বনবী (সা.)-এর সাহাবিগণের বৈশিষ্ট্য পেশ করে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তারা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। ’ (সুরা : ফাতাহ, আয়াত : ২৯)


সুরা বালাদ এ সফলকাম দলের পথ বর্ণনায় ১৭ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যধারণের, আর পরস্পর উপদেশ দিয়েছে দয়া-অনুগ্রহের। ’ এ আয়াতে ঈমানের পর মুমিনের এই কর্তব্য ব্যক্ত করা হয়েছে যে সে অপরাপর মুসলিম ভাইকে ধৈর্য ও অনুকম্পার উপদেশ দেবে। এখানে ধৈর্য বলতে বোঝানো হয়েছে নিজেকে মন্দ কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখা ও সৎকর্ম করা। আয়াতে ‘মারহামাহ’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ অপরের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া। অপরের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করে তাকে কষ্টদান ও জুলুম করা থেকে বিরত থাকা।

মহানবী (সা.) উম্মতের মধ্যে এই রহম ও সহানুভূতির মতো উন্নত নৈতিক বৃত্তিটিকেই সবচেয়ে বেশি প্রসারিত ও বিকশিত করতে চেয়েছেন। হাদিসে এসেছে, ‘যে মানুষের প্রতি রহমত করে না আল্লাহ তার প্রতি রহমত করেন না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৭৩৭৬)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে আমাদের ছোটদের রহমত করে না এবং বড়দের সম্মান পাওয়ার অধিকারের প্রতি খেয়াল রাখে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৩)

ইসলামে সম্প্রীতিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবনযাপনের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেন, ‘ওই পবিত্র সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা কেউ ততক্ষণ জান্নাতে যেতে পারবে না, যতক্ষণ ঈমান আনয়ন না করবে। আর ততক্ষণ পরিপূর্ণ ঈমান আনয়ন করতে পারবে না, যতক্ষণ একে অপরের প্রতি দয়ার্দ্র না হবে। আমি কি তোমাদের এমন এক পন্থা বলে দেব, যার প্রয়োগে তোমাদের পরস্পরের মহব্বত বৃদ্ধি পাবে। সেটি হচ্ছে, তোমরা পরস্পরে সালাম দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি করো। ’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১০১৮০)

ইসলাম এতটাই উদার ধর্ম যে এখানে অমুসলিমদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অমুসলিমদের সঙ্গে একজন মুসলমানের ব্যক্তিগত আচরণ কেমন হবে, তার শিক্ষা পাওয়া যায় বুখারি শরিফের এই বর্ণাটিতে, যেখানে আসমা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘হুদায়বিদায় সন্ধির পর তিনি তাঁর অমুসলিম মায়ের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কে মহানবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে জবাবে তিনি বলেন, ‘মা যে-ই হোন না কেন, তাঁর সঙ্গে সদাচরণ করতেই হবে। ’

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান যথাযথ পালন করার পাশাপাশি পার্থিব জীবনেও সাম্য ও সম্প্রীতিময় জীবনাচারের মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের তাওফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × four =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য