সুসময় ও দুঃসময় মানুষের জীবনের অংশ। জীবনের চাকা সব সময় এক গতিতে ঘোরে না। মানুষের উপার্জনের সঙ্গে প্রয়োজনের সংগতি সব সময় এক রকম থাকে না। মানুষের এই মুহূর্তগুলোতে তার পাশে দাঁড়ালে মহান আল্লাহ খুশি হন।
মহানবী (সা.) বলেছেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। কাজেই সে তার ওপর নির্যাতন করবে না এবং তাকে অসহায় অবস্থায়ও ছেড়ে যাবে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন মেটাবেন। একইভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার বিপদ দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৯৩)
অনেক সময় মানুষকে ঋণ করে হলেও সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হয়। সে সময় তাদের করজে হাসানা দিয়ে সহযোগিতা করা সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বিভিন্ন সময় তাঁর প্রিয় সাহাবিদের করজে হাসানার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। করজে হাসানার উপকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, কোনো একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দুইবার ঋণ দিলে আল্লাহর পথে তা ওই পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৩০)
সুবহানাল্লাহ! সঠিক পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কাজ করলে মানুষের দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলোও ইবাদতে পরিণত হয়। ঋণ দেওয়ার পর অনেক সময় ঋণগ্রহীতা অভাবের কারণে ঋণ আদায়ে বিলম্ব করতে পারে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তাকে অবকাশ দিলেও অফুরন্ত সওয়াব মেলে। যদি ঋণ মওকুফ করে দেওয়ার সামর্থ্য থাকে, তাহলে তা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে এবং কঠিন কিয়ামতের দুঃখ-কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি সে (ঋণ গ্রহণকারী) দরিদ্র হয়, তবে সচ্ছল অবস্থা আসা পর্যন্ত অবকাশ দেবে আর মাফ করে দেওয়া তোমাদের পক্ষে অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৮০)
আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, আবু কাতাদাহ (রা.) একবার তার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণকারী একজনকে খোঁজ করেন। সে তার থেকে লুকিয়ে ছিল। পরে তিনি তাকে পেয়ে যান। সে বলল, আমি অভাবগ্রস্ত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! সে বলল, আল্লাহর শপথ। তিনি বলেন, তাহলে আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এটা চায় যে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিক সে যেন ঋণগ্রস্ত অক্ষম লোকের সহজ ব্যবস্থা করে কিংবা ঋণ মওকুফ করে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৯২)
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, অনেকে ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, আবার সময়মতো ঋণের টাকাও আদায় করতে পারছে না, কঠিন এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে যদি আমরা একটু সদয় হতে পারি, আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় অভাবী ঋণী ব্যক্তিকে অবকাশ দিতে পারি, তাহলে অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান বহুগুণে পাওয়া যাবে। মহান আল্লাহ এই পরিস্থিতি থেকে সবাইকে পরিত্রাণ দান করুন এবং পরস্পর সদয় হওয়ার তাওফিক দান করুন।
