নদীগর্ভে বাড়ি, ক্ষুধার জ্বালায় গরু-ছাগলের মর্মান্তিক মৃত্যু, দাফনের জায়গার অভাবে পানির ওপর বাক্সবন্দি জন্মদাতা পিতার লাশ- এমন সব ভয়াল গল্পে ভরপুর সিলেটবাসীর জীবন। বন্যা নয়, যেন চোখের জলেই ডুবছে পুণ্যভূমি সিলেট! নিরুপায় সিলেটবাসীর আর্তচিৎকারে কাঁদছে দেশবাসী। এমন ভয়াবহতায় জায়নামাজে বসে সিলেটবাসীর মুক্তির জন্য রব্বে কা’বার দরবারে করুণার হাত পেতেছেন প্রধানমন্ত্রীও। সরকারের পাশাপাশি বন্যার শুরু থেকেই সিলেটবাসীর প্রতি সহায়তার হাত প্রসারিত করেছে জাতির বিবেক আলেমসমাজ। গর্বিত পদ্মাসেতুর গৌরবান্বিত গল্পের ভিড়ে অসহায় সিলেটবাসীর প্রতি আলেমদের এমন সরব খেদমত নিশ্চয় হারিয়ে যাবার নয়। একজন তো আছেন, যিনি সব দেখেন, সব জানেন, আর তাকে খুশি রাখতেই সিলেটজুড়ে কোমরপানি, গলা পানি ভেঙে খলিফা ওমরের চেতনা নিয়ে কাজ করছে দেশের আলেমরা।
জেলার সীমান্তবর্তী কানাইঘাটেও বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণ আলেমদের অরাজনৈতিক মানবিক সেবা সংগঠন ‘ইজহারে হক পরিষদ’ (কানাইঘাট, সিলেট)। বন্যার শুরু থেকেই শুকনো খাবার, ওষুধ সামগ্রী, চাল-ডাল যেখানে যা প্রয়োজন তা নিয়ে-ই বন্যার্তদের মাঝে হাজির হচ্ছে সংগঠনটি।
উপজেলার আলেম ভাইসচেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল্লাহ শাকির ও ইজহারে হক ফাউন্ডার হাফিজ মারূফ আল-জাকিরের পরিচালনায় গত শুক্রবারও (২৪জুন ) কানাইঘাটের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন সংগঠনটির কর্মীরা। এসব ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, মরিচ, হলুদ, লবণ, চিড়া, মুড়িসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য।
পৃথক পৃথক দিনে ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা আসাদ, মাওলানা জুনায়েদ শামসী, হাফিজ জাহিদুল ইসলাম, হাফিজ মাশহুদ, মাওলানা নাহিদুল ইসলাম, মৌলভী মাসুম আহমদ, হাফিজ জুবের, মিজানুর রহমান, মুশতাক আহমদ, মিজান নুরী, আফজাল হোসেন, রুহুল আমিন, ফহিম আহমদ, তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত,অরাজনৈতিক মানবিক সেবা সংগঠন ‘ইজহারে হক পরিষদ’ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বিশ্ব মানবতার আইডল হজরত মোহাম্মদ সা:-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবা, সমাজ সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন, ইসলামী তমদ্দুনের প্রসার, ত্রাণ বিতরণসহ মাদকবিরোধী ও যৌতুকবিরোধী পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
