Sunday, May 31, 2026
No menu items!

আমাদের মুসলিমউম্মাহ ডট নিউজে পরিবেশিত সংবাদ মূলত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সমাহার। পরিবেশিত সংবাদের সত্যায়ন এই স্বল্প সময়ে পরিসরে সম্ভব নয় বিধায় আমরা সৌজন্যতার সাথে আহরিত সংবাদ সহ পত্রিকার নাম লিপিবদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে যদি উক্ত সংবাদ সংশ্লিষ্ট কোন সংশোধন আমরা পাই তবে সত্যতার নিরিখে সংশোধনটা প্রকাশ করবো। সম্পাদক

Homeদাওয়ানারী: সমকালীন কথা; সাইদুর রহমান

নারী: সমকালীন কথা; সাইদুর রহমান

একটা মেয়ের কথা বলি, যে কোন কারনে তাদের স্বামী-স্ত্রী’র মাঝে ঝগড়া হয়েছিলো ৷ সে এসে তার তালুই (বড় ভাইয়ের শ্বশুর) এর কাছে বিচার দেয় ৷ তালুই এলাকায় একটু প্রভাব আছে ৷ তিনি কয়েকজন লোক দিয়ে ঐ মেয়ের জামাইকে ধোলাই দেন ৷ ধোলাই খাওয়ার পর জামাইয়ের মন সম্পূর্ণ ধোলা (সাদা) হয়ে যায়, এবং সে তার সহধর্মিনীকে তালাক দিয়ে, কম প্রভাবশালী গরীবের মেয়েকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে দিন যাপন করতে থাকে ৷ আর ঐ মেয়ে আজ এর দুয়ারে, কাল ওর দুয়ারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে ৷

আরেকটা মেয়ের কথা বলি, স্বামী পরিত্যক্ত বড় বোন ঢাকায় গার্মেন্টসে জব করে ৷ তার অনুপস্থিতে ছোট বোনের এক রিক্সাওয়ালার সাথে বিয়ে হয় ৷ বিয়ের পর তিনি ছোট বোনকে তার কাছে বেড়াতে নিয়ে যান ৷ কেউ একজন তাকে বুঝিয়েছে তার অপরূপ সুন্দরী বোনকে আরো ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দেওয়া যাবে ৷ ব্যস! স্বামী-স্ত্রীর সামান্য দাম্পত্য কলহের অজুহাতে ছোট বোনটিকে রিক্সাওয়ালা জামাইয়ের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় ৷ এখন দুই বোন মিলে স্বাধীনভাবে গার্মেন্টসে জব করে ৷

আরেকজনের স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পরেও মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাইয়েরা তা দেয়নি ৷ তারা তাকে স্বামীর কাছ থেকে নিয়ে আসেন ৷ প্রথম প্রথম বোনের আদর যত্ন করলে, ধীরে ধীরে তা ভাটা পড়ে ৷ মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান ৷ সেখান থেকে তিনি যে টাকা পাঠাতেন, তা থেকে ভাইযেরাও ভোগ করতো ৷ ফলে তার সঞ্চয়ের ঝুলি খালিই পড়ে থাকে ৷ মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে করতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ আর অসুস্থ সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অনুপযুক্ত ৷

এমন অনেক কথা, অনেক জন, অনেক সিদ্ধান্ত আপাত দৃষ্টিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর মনে হলেও; অদূর ভবিষ্যতে সেসবের ফল ভোগ করতে করতে জীবন শেষ হয়ে যায় ৷ “নারী স্বাধীনতা”, “নারী মুক্তি”, “নারীর অধিকার” এজাতীয় স্লোগানগুলো চটকদার বিজ্ঞাপনের মত নারীদের আকৃষ্ট করলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকে নারীদের সংসার ভাঙার ভযংকর ফাঁদ ৷

স্বাধীনতা হলো গাধার সামনে ঝুলন্ত মুলা ৷ বাস্তবিক অর্থে প্রত্যেক মানুষই পরাধীন ৷ আমরা যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী বিল গেটসের কথা ধরি, তিনি চাইলেই আমেরিকায় যা খুশি তা করতে পারবেন না ৷ তিনি ততটুকুই করতে পারবেন, আমেরিকার আইনে যতটুকু করার বৈধতা আছে ৷ ইচ্ছে করলেই সৌদি বাদশাহ’র আইসক্রীম খাওয়ার স্বাধীনতা নেই, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমতি না দিবেন ৷ এরদোয়ানের ইচ্ছে হলেই বাংলাদেশে আসার স্বাধীনতা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন না মিলে ৷

নারী বা পুরুষ একটা দিকে স্বাধীনতা পেলেও অন্যদিকে পরাধীন ৷ আমরা যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা আলোচনা করি, তিনিও স্বাধীন নন ৷ চাইলেই তিনি নিজের স্বাধীন মত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না ৷ তাকে দেশের কথা ভাবতে হবে, জনগণের কথা ভাবতে হবে, ভূ রাজনীতির দিকে তাকাতে হবে ৷ সবদিক বিবেচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন ৷ একই কথা বেগম খালেদা জিয়ার বেলাতেও প্রযোজ্য ৷ দায়িত্ব ও কর্তব্যের উপর নির্ভর করবে মানুষ কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে, কতটুকু ভোগ করতে পারবে না ৷

প্রতিটা সৃষ্টিকে স্রষ্টা এই স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন ৷ একটা বিষধর সাপের স্বাধীনতা তার গর্তে ৷ সে যখন লোকালয়ে বাস করার স্বাধীনতা চাইবে, তখন তার জীবন বিপন্ন হবে ৷ প্রশ্ন আসতে পারে, গর্তে বাস করা সাপের জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কি নাই? হ্যাঁ, আছে ৷ তবে সেটা সাপুড়ের হাতে ৷ সাধারণ লোক কিন্তু সাপের গর্তে হাত দেওয়ার সাহস করবে না ৷ বাঘ গভীর অরণ্যে স্বাধীন ৷ লোকালয়ে স্বাধীনতা চাইলে তাকে বিড়াল হতে হবে ৷ গভীর অরণ্যে শিকারি ব্যতীত সাধারণ মানুষ তাকে শিকার করতে যাবে না ৷

সাপুড়ের হাত থেকে সাপকে, শিকারির হাত থেকে বাঘকে রক্ষা করার জন্য “বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন” আছে ৷ কেউ যদি সাপ বা বাঘের মঙ্গল চায়, তাকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে কিনা, কি করলে সে আইনকে আরো কার্যকর করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারে ৷ কিন্তু সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে সাপ-বাঘের স্বাধীনতা নিয়ে যারা আন্দোলন করে, নিজেদের শো অফ করা অথবা সাপ-বাঘকে শিকার করা ব্যতীত প্রকৃত অর্থে তাদের আর কোন উদ্দেশ্যই নেই ৷ নারীবাদী লোকগুলা সেই কাতারেরই দরদী ৷

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে অনেকগুলো আইন আছে, সে আইনগুলো যথাযথভাবে কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে, এগুলো প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা কি, কি করলে এসব আইনকে আরো কার্যকর করা যায়, সে সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা না করে, তাদের চিন্তাধারা নারীদের শরীরের মাঝেই সীমাবদ্ধ ৷ কখনো পোষাক, কখনো পিরিয়ড, কখনো ইন্টারকোর্স এসবের উর্ধ্বে এরা এদের চিন্তাকে উত্তীর্ণ করতে পারে না ৷ যৌন বিষয়ে ভাবতে ভাবতে এরা প্রাথমিকভাবে হাইপারসেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তীতে নিম্ফোম্যানিয়ায় ৷ যার কারণে নারীবাদীরা এক পুরুষে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না ৷

যেসব পুরুষ নারীবাদীদের সমর্থন করে এদের মস্তিষ্ক যে কি পরিমাণ যৌন বিকৃত তা অনেকের ধারণারও বাহিরে ৷ একজন নারী আরেকজন নারীর সাথে খুব সহজেই পিরিয়ড নিয়ে কথা বলতে পারেন ৷ কিন্তু একজন পুরুষ স্ত্রী ব্যতিত মা, বোন, কন্যার পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পারবেন কি? কিংবা কোন নারীর বাবা, ভাই, সন্তানের সাথে পিরিয়ড নিয়ে কথা বলার মত রুচি হবে কি? এই বিকৃতমনা নারীবাদী পুরুষেরা এতদিন এটাই চেয়ে আসছিলো ৷

এবার তারা স্বামী-স্ত্রী’র ইন্টারকোর্স নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ৷ মেয়েদের গোপনাঙ্গে একটা পর্দা থাকে, প্রথম ইন্টারকোর্সের সময় সেটি ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় ৷ ফলে অনেকের প্রথম ইন্টারকোর্সটা খুব একটা সুখকর হয় না ৷ অনেকের কাছে তখন বাসর রাত হয়ে ওঠে বিভীষিকাময় ৷ স্ত্রী যদি স্বামীর কাছ থেকে কাঙ্খিত ভালোবাসা পান, তাহলে এটি ধীরে ভুলে যান ৷ আর না হয় এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তাকে সারা জীবন তাড়া করে বেড়ায় ৷ (প্রাপ্ত বয়স্কদের আলাপ নিয়ে আসার জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক ভাই-বোনদের কাছে দুঃখিত) ৷

এসব বিষয়ে মেয়েদের তাদের নারী শুভাকাঙ্খীরা এবং পুরুষদের তাদের বিবাহিত বন্ধুরা সতর্ক করতে পারেন ৷ কি করলে বিষয়টা সহজ হবে সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন ৷ কিন্তু এটিকে ধর্ষণের সাথে তুলনা করে, প্রথমেই স্বামী-স্ত্রী’র মাঝে যারা বিভেদের দেয়াল তুলে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য যে সৎ নয়, সেটি বোঝার জন্য বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই হতে হয় না ৷

“বিখ্যাতদের দাম্পত্য ও প্রণয়” বইটি লেখার জন্য প্রায় দুইশ এর মত বই পড়তে হয়েছে ৷ যার অধিকাংশই ছিলো আত্মজীবনীমূলক ৷ এসব মহান ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে যে বিষয়টা দেখেছি, তারা কেউই এক নারীতে সন্তুষ্ট হয়নি ৷ তবে তারা কেউই ধর্ষক নয়, আপোষেই নারীরা তাদের বিলিয়ে দিয়েছি ৷ একজন নারীবাদী পুরুষের ভাবনা আর একজন ধর্ষকের ভাবনার মাঝে পার্থক্য হলো- নারীবাদীরা চায় নারী আপোষে ভোগ্য পণ্য হোক, আর ধর্ষক জোর করে ৷ এদিক দিয়ে তুলনা করলে, ধর্ষকদের চেয়ে নারীবাদীরা বেশি ভয়ংকর ৷

স্যার হুমায়ন আহমেদের গল্প অবলম্বনে আবু সাইয়ীদের পরিচালনায় নির্মিত “নিরন্তর” মুভির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন- শাবনূর, ইলিয়াস কাঞ্চন, লিটু আনাম সহ আরো অনেকে ৷ মুভির প্রধান চরিত্রের বাইরে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করবে ৷ চরিত্রে তার নাম থাকে নাসিম ভাই ৷ নাসিম ভাই গল্পের নায়িকা তিথিকে (শাবনূর) যথেষ্ঠ সহযোগিতা করে ৷ কখন, কোথায়, কার কাছে যেতে হবে, কার সাথে কতক্ষণ থাকতে হবে এসব তিনি ঠিক করে দেন ৷ মুভি দেখে দর্শকদের মনে হবে, তিথিদের জন্য অবশ্যই এরকম একজন পরোপকারী নাসিম ভাইয়ের প্রয়োজন আছে ৷

নার্গিস আক্তার পরিচালিত “মেঘলা আকাশ” মুভির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন- মৌসুমী, আইয়ূব খান, পূর্ণিমা, শাকিল খান ৷ তবে দর্শককে মুগ্ধ করবে ফেরদৌসী মজুমদারের অভিনয় ৷ তিনি অভিনয় করেন খালা চরিত্রে ৷ মুভিতে দেখা যায় খালা যথেষ্ঠ পরিমাণ যত্নশীল তার ভাগ্নীদের ব্যাপারে ৷ মেঘলাকে (মৌসুমী) তিনি নিজের মেয়ের মত স্নেহ করেন ৷ মুভি দেখতে দেখতে দর্শকের মনে হবে, ইশ্! এমন একজন খালা যদি থাকত তাহলে মেঘলাদের জীবনটাই বদলে যেত ৷

নিরন্তর মুভিতে নাসিম ভাইয়ের প্রধান কাজ হলো তিথিকে কাস্টমার জোগাড় করে দেওয়া, সোজা বাংলায় যাকে বলা হয় পতিতার দালাল ৷ আর মেঘলা আকাশ মুভিতে খালার কাজ হলো ছলে, বলে, কৌশলে মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে রাজি করানো; সোজা কথায় পতিতাদের সর্দারণী ৷ পতিতার দালাল এবং সর্দারণীকে আমাদের সমাজ কোন দৃষ্টিতে দেখে? নিশ্চয়ই ঘৃণার চোখে ৷ কিন্তু মুভি দেখে নাসিম ভাই এবং খালার প্রতি শ্রদ্ধায় আপনার মাথা নত হয়ে আসবে ৷ মনে হবে এমন ভালো মানুষ একটাও নেই দুনিয়াতে ৷ লেখক এবং মিডিয়া আপনাকে বাধ্য করবে এসব পতিতার দালাল এবং সর্দারণীকে সম্মানের চোখে দেখতে ৷

আমাদের নারীবাদীদের কর্মকান্ড দেখে অনেকেই মনে করে, এরা নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে ৷ কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন এদের দিয়ে সমাজে দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি ৷ আহমেদ ছফা অনেক আগেই এদের এসব ভাওতাবাজি ধরতে পেরেছিলেন ৷ তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আমাদের এই ঢাকা শহরে প্রতি বছর, নারী অধিকারের ওপর যেসব সেমিনার- আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, তাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় ৷ কিন্তু সারা ঢাকা শহরে মহিলাদের জন্য দু’টি টয়লেট তৈরি করা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি ৷”

Sayedur Rahman

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five + six =

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য