হুর-গিলমান-غِلْمَــانٌসম্পর্কিত বিষয়ে কোরানের স্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন অবস্থান এবং কিছু একালের আপোষকামী লোকের ভুল ব্যাখ্যা ।

0
1103

হুর-গিলমান-غِلْمَــانٌসম্পর্কিত বিষয়ে কোরানের স্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন অবস্থান
এবং
কিছু একালের আপোষকামী লোকের ভুল ব্যাখ্যা ।

কুরআন ব্যাখ্যাকারী মুফাসসিরদের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে কোরানের ব্যাখ্যা কোরান ই বেশি করেছে স্পষ্টভাবে
এবং কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যাখ্যা পরিত্যাজ্য-অগ্রহণযোগ্য ।
এখন কেউ যদি হঠাৎ করে কোনো আধুনিক ডিকশেনারী দেখে কোরানের কনটেক্সট এর বাহিরে কোনো অর্থ-ব্যাখ্যা করে সেটা কি গ্রহণযোগ্য হবে?
অবশ্যয়ই না।
আমরা যাই ভাবিনা কেন যেকোনো বিষয়ে কোরানের কথাই চূড়ান্ত
কোরানের বাহিরে কোনো অর্থ মত সম্পূর্ণরূপে বাতিল বলে গণ্য হতে হবে ।

আপনারা Lanes এরাবিক -ইংলিশ ডিকশেনারী দেখতে পারেন যেখানে হুরুন ইন মানে বলা হয়েছে মহিলাদের ক্ষেত্রে:

حَوْرَــآءُ, [the fem.,] applied to a woman: (S, Msb, K: *) pl. حُورٌ. (S, K.) And حُورُ العِينِ, applied to women, Having eyes like those of gazelles and of cows. (AA, S.)
আপনারা যদি Hans Wehr ডিকশেনারী দেখতে পারেন ওখানে হুরিয়াত একবচন স্ত্রীবাচকের বহুবচন হুর বলা হয়েছে
বলা হয়েছে হুর অর্থ virgin of paradise

এখন আমরা দেখবো কোরান কি বলে?
কোরান এ চার জায়গায় হুর শব্দটি এসেছে
আমরা দেখবো এখন আল্লাহ হুর শব্দটি দিয়ে কি বুজাচ্ছেন
সূরা তুরের ২০ নম্বর আয়াতে মুত্তাকীদের সাথে হুরদের কে বিয়ে দেবার কথা বলা হয়েছে
এবং মুত্তাকীদের ক্ষেত্রে পুরুষবাচক হুম বহুবচনে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে
مُتَّكِـِٕيۡنَ عَلٰى سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَةٍ‌ۚ وَّزَوَّجۡنٰهُمۡ بِحُوۡرٍ عِيۡنٍ‏
২০) তারা সামনা-সামনি রাখা সুসজ্জিত আসনসমূহে হেলান দিয়ে বসবে এবং আমি সুনয়না হুরদের সাথে তাদের বিয়ে দেব।

সূরা আর রাহমানে ৭২ আয়াতে হুর এর বিশোষণে স্ত্রীবাচক plural ব্যবহৃত হয়েছে
حُوۡرٌ مَّقۡصُوۡرٰتٌ فِىۡ الۡخِيَامِ
৭২) তাঁবুতে অবস্থানরত আনতনয়না/চোখনামানো হুরগণ।
সুরাহ দুখানে বলা হয়েছে মুত্তাকী পুরুষদেরকে বড়ো সুন্দর চোখ বিশিষ্ট নারীদের সাথে বিয়ে দেবেন
সূরা দুখানের ৫৪ আয়াতেও আল্লাহ মুত্তাকী পুরুষদের ক্ষেত্রে পুরুষবাচক হুম শব্দ ব্যবহার করেছেন
كَذٰلِكَ وَزَوَّجۡنٰهُمۡ بِحُوۡرٍ عِيۡنٍ
৫৪) এটা হবে তাদের অবস্থা। আমি সুন্দরী হরিণ নয়না নারীদের সাথে তাদের বিয়ে দেবো।
আমরা এখন দেখবো হুর – পবিত্র সঙ্গী সম্পর্কে কোরান কি বলে –
পবিত্র স্ত্রী গণ কে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে আল্লাহ কোরান এ তিন বার বলেছেন:
বাকারা , ইমরান ও সূরা নিসাতে :وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (2:25)
এখানে যাদের জন্য পুরস্কার দেয়া হবে তাদের জন্য পুরুষবাচক হুম ব্যবহার করেছেন এবং
যা দেয়া হবে তা বলতে আল্লাহ স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করেছেন বহুবচনে যদিও একথাটি বহুল প্রচলিত যে জান্নাতীরা হুর পাবে বেহেস্তে কিন্তু, কোরানের আলোকে বলা যায় হুর পাবে শুধু অত্যন্ত উঁচুমানের বেহেস্তিরা –
সূরা ওয়াকিয়াতে মুকাররাবিনদের পুরস্কারের কথা বলতে যেয়ে আল্লাহ হুরদের কথা বলেছেন যাদের চোখ বড়ো হবে
এবং যাদেরকে কোনো জীন বা মানব স্পর্শ করেনি এখানেও আল্লাহ স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন
ওয়াকিয়া:২২ And [for them are] fair women with large, [beautiful] eyes,
আল্লাহ এখানে পুরুষবাচক শব্দ ব্যবহার করেননি যদিও কেউ কেউ বলতে চান হুর স্ত্রীবাচক কিছুনা
আবার নরমাল জান্নাতীদের জন্য অর্থাৎ মুকাররাবিনদের পরের স্তরের জান্নাতীদের পুরস্কারের কথা বলতে যেয়েও
আল্লাহ আনতনয়না -ভার্জিন- স্পর্শহীন নারীদের কথা বলেছেন স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন: ওয়াকিয়া:৩৬
আবার সূরা নাবাতেও স্পষ্ট করে বলেছেন আল্লাহ পুরস্কার হিসেবে সমবয়স্কা splendid / voluptuous স্ত্রী দেবেন;
Naba: 33 Sahih International: And full-breasted [companions] of equal age
Pickthall: And voluptuous women of equal age;
Yusuf Ali: And voluptuous women of equal age;
এখানেও আল্লাহ স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন
এখন আল্লাহ যা স্পষ্ট করে বলেছেন এই ব্যাপারে কিছু লোকের আপত্তি কেন?
তাদেরকে বলবো : “আল্লাহ আপনার আমার সৃষ্টিকর্তা ;আল্লাহ এই কুরআন পাঠিয়েছেন স্পষ্ট আরবি ভাষায়
আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা করেননা দ্বিধা করেন না যে যেই পুরস্কারের যোগ্য প্রাপ্য সে তা পাবেই
আল্লাহর দেয়া পুরস্কার আপনার আমার ব্যাখ্যার লজিকের ধার ধারেনা”।

এখন প্রশ্ন হলো গিলমান-غِلْمَــانٌ কারা?
যা সূরা তুরের ২৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে ।

আল মিসবাহুল মুনির বলা হয়েছে غِلْمَــانٌ শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:

غ ل م : الْغُلَامُ الِابْنُ الصَّغِيرُ وَجَمْعُ الْقِلَّةِ غِلْمَــةٌ بِالْكَسْرِ وَجَمْعُ الْكَثْرَةِ غِلْمَــانٌ

গুলাম – ছোট বাচাদের বহুবচন যা সর্বোচ্চ সংখ্যাকে নির্দেশ করে তাদের জন্য غِلْمَــانٌ বহুবচনটি ব্যবহার করা হয়:

وَيَطُوۡفُ عَلَيۡهِمۡ غِلۡمَانٌ لَّهُمۡ كَاَنَّهُمۡ لُؤۡلُؤٌ مَّكۡنُوۡنٌ‏
২৪) তাদের সেবার জন্য সেসব বালকেরা ছুটাছুটি করতে থাকবে যারা কেবল তাদের জন্য নির্দিষ্ট হবে তারা এমন সুদর্শন যেন সযত্নে লুকিয়ে রাখা মোতি। সূরা তুর সূরা তুরের ২১ থেকে ২৭ নম্বর জান্নাতীদের (পুরুষ ও মহিলা) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে ।

উপরোক্ত ২৪ নম্বর আয়াতে উপরে গিলমানদের জন্য كَاَنَّهُمۡ ব্যবহার করা হয়েছে
কেউ কেউ বলতে তারা শুধু ছেলে বালক ।
কিন্তু মেয়ে বাচ্চাদের ও অন্তর্ভুক্ত হবার সম্ভাবনা মহিলা জান্নাতীদের কে পরিবেশন করার জন্য।
কারণ এরাবিক ভাষায় একিই সাথে যখন পুরুষ ও মহিলাদের কে উল্লেখ করা হয় তখন পুরুষবাচক pronoun /সর্বনাম ব্যবহার করা হয় অধিকাংশ সময়।

তাই গেলমান সকলের জন্য ই শুধু পরিবেশনের জন্য থাকবে – পুরুষ মহিলা সকল জান্নাতীদের জন্য।
এবং ছেলে ও মেয়ে বাচ্চা দুই ধরণেরই হতে পারে গিলমান ।

আসুন আল্লাহর কাছে মাথা নোয়াই অহংকার পরিত্যাগ করি।
এর পর ও কিছু লোক যারা আধুনিকতার নাম কোরান এ বর্ণিত স্পষ্ট বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা করবেন তারা মহা সম্মানিত কোরান কে অসম্মান করবেন। এবং তারা এই কারণে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ।
আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত । আল্লাহর জ্ঞানের সামনে নিজের জ্ঞানকে তুচ্ছ ভাবা উচিত।
ওহ আল্লাহ আমাদের জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। এবং হেদায়তের পথে প্রতিষ্ঠিত রাখুন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one + nine =